নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৮ এপ্রিল ২০২১, ২৫ চৈত্র ১৪২৭, ২৪ শাবান ১৪৪২
সাইবার হামলা
সাইফুল ইসলাম
বর্তমানে আমরা যতটা আধুনিক হচ্ছি তার প্রধান চালিকাশক্তি আমাদের হাতের প্রযুক্তি। এই সমস্ত প্রযুক্তির মধ্যে মানুষের সবচেয়ে বেশি কাজের হলো কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ইত্যাদি ডিভাইসগুলো। যেগুলো দ্বারা আমরা খুব সহজেই একে অন্যের সাথে সংযুক্ত হচ্ছি। আর এগুলোই এক প্রকার দুষ্কৃতকারী। খুব সহজেই বিভিন্ন ম্যালওয়ার বা ফিসিং ইত্যাদি দ্বারা আক্রান্ত করছে। খুব সহজেই এগুলো করে তারা এই সমস্ত ডিভাইসগুলো থেকে খুব সহজেই সমস্ত তথ্য বা ডাটা চুরি করছে। আর এগুলোই হলো সাইবার হামলা।

ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্ট থেকে শুরু করে সরকারি বা ডিজিটাল একাউন্ট হ্যাক করা সবই সাইবার হামলার অন্তর্গত। একটি সফল সাইবার হামলা যে কোনো একটি সেনাবাহিনীর হামলার ধ্বংসযজ্ঞ থেকেও বেশি শক্তিশালী। তাই পরাশক্তিধর রাষ্ট্রগুলো উন্নত মারণাস্ত্রের পাশাপাশি শক্তিশালী সাইবার হামলা চালাবারও প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

বর্তমান পৃথিবীতে ৮০০ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ৪৫০ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটের সাথে যুক্ত। প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির সাথে সাথে ঝুঁকিও বেড়েছে বহুগুণ। বিজ্ঞানী ও হ্যাকাররা কম্পিউটার ভিত্তিক এমন সব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে যে যার সাহায্যে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে খুব সহজেই হামলা করা সম্ভব।

সাইবার হামলার কয়েকটি উল্লেখ্যযোগ্য ধরন হলো ফিসিং, বটনেট, ভাইরাস, ডিডিওএস, ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার, রেমসামওয়্যার ইত্যাদি। এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে খুব সহজে যে কোনো কম্পিউটার বা যে কোনো ডিজিটাল ডিভাইসকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এগুলো থেকে কারো পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নেয়া থেকে শুরু করে ডিজিটাল যে কোনো প্রতারণা ও ক্ষতি করা সম্ভব। এই অপরাধ শুধু অন্যের কম্পিউটার দখল নেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। বরং উপযুক্ত একটি সাইবার হামলার মাধ্যমে বড় বড় কোনো শহর বা দেশ কয়েক মিনিটের মধ্যে অচল করে দেয়া সম্ভব।

আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় কোনো শহরের টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ বিল, শিক্ষা খাত, পানি সরবরাহ, ব্যাংক, গণমাধ্যম, পরিবহণ ব্যবস্থাসহ সকল কিছুই কোনো না কোনোভাবে একে অপরের সাথে সংযুক্ত। মাত্র একটি ম্যালওয়্যারের মাধ্যমে পুরো ব্যবস্থাই কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বিপর্যস্ত হয়ে যেতে পারে। আজকাল কোনো বড় ধরনের হামলার জন্য বোমা নিক্ষেপের দরকার পরে না। শুধুমাত্র কম্পিউটার প্রোগ্রামের সাহায্যেই যথেষ্ট ক্ষতি করা সম্ভব।

বর্তমান বিশ্বে প্রতিনিয়তই গোপনে এক দেশ আরেক দেশের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। ইলেকট্রনিক বা সাইবার মাধ্যম ব্যবহার করে কোনো দেশকে আক্রমণ করাই মূলত সাইবার যুদ্ধ। সাইবার হামলা এক ধরনের অসম যুদ্ধ। এখানে একদল বুদ্ধিমান লোক অন্য একদলের উপর আক্রমণ চালায়। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ টেরও পায় না। এসব হামলা অতি অল্প সংখ্যক লোক অনেক বিশাল জনগোষ্ঠীর অনেক বড় ক্ষতি করতে পারে।

চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, উত্তর কোরীয়া এবং পাকিস্তানের মতো দেশ সাইবার আক্রমণে যথেষ্ট পারদর্শী। ২০০০ সাল থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে আমেরিকার প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নিয়মিত ভয়াবহ সাইবার হামলার শিকার হয়েছে। এই অভিযানের নাম ছিল টাইটান রেইন। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান নাসা, পারমাণবিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান স্যান্ডিয়া এবং প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই হামলার শিকার হয়। টাইটান রেইন হামলা চালানো হয়েছিল মূলত আমেরিকার গোয়েন্দা ব্যবস্থার উপর নজরদারি করার জন্য। এতো পরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম হামলা কারা চালিয়েছে তা সহজে বোঝা যাচ্ছিল না। পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসে যে চীনের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় আমেরিকার স্পর্শকাতর কম্পিউটারে এসব হামলা চালানো হয়েছে। টাইটান রেইন হামলার মাধ্যমে নাসার মঙ্গলগ্রহে অভিযানের তথ্য এবং ইউএস এয়ার লাইন্সের ফ্লাইট প্লানিং সফটওয়্যার চীনারা চুরি করতে সক্ষম হয়।

সাইবার হামলার মাধ্যমে পুরো দেশ অচল করে দেয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। ২০০৭ সালে রাশিয়ান হ্যাকাররা এস্তোনিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট, পার্লামেন্ট, মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, সংবাদপত্র, টেলিভিশনসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সাইবার হামলা চালায়। এমনকি দেশটি ইন্টারনেট সংযোগ থেকেই বিছিন্ন হয়ে পরে। সেই হামলায় এস্তোনিয়ার সকল এটিএম বুথ অচল হয়ে যায়। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতি আংশিক বিপর্যস্ত হয়েছিল। সরকারিভাবে রাশিয়ার খুবই কার্যকরী সাইবার হামলা চালানোর মতো যোগ্যতা আছে। এভাবে হামলা করার জন্য রাশিয়ায় সরকারিভাবে সাহায্য করা হয়।

২০১০ সালে আরো ভয়াবহ সাইবার হামলার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিরুদ্ধে এই হামলা চালানো হয়। এর নাম স্টাঙ্নেট। ইরানের পারমাণবিক প্লান্টের ক্ষতি করার জন্য ইসরাইল, আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের কয়েকটি দেশ মিলে এই ম্যালওয়্যারটি তৈরি করেছিল। স্টাঙ্নেট ভাইরাসটি ইরানের পারমাণবিক অপারেটিং সিস্টেমে যাওয়ার সাথে সাথে ভুয়া সতর্কবার্তা দেখাতে থাকে। কম্পিউটার অপারেটর দেখতে পায় তাদের মেশিনটি খুবই ধীর গতিতে চলছে। কিন্তু বাস্তবে মেশিন ঠিকই চলছিল। অপারেটর যতই কম্পিউটারের গতি বাড়াতে থাকে কম্পিউটার ততই ভুয়া সতর্কবার্তা দেখাতে থাকে। এক পর্যায়ে পারমাণবিক প্লান্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশে মারাত্মক বিস্ফরণ ঘটে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াও এরকম আরো অসংখ্য সাইবার হামলার উদাহারণ রয়েছে। সাইবার হামলা চালিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়াও সবার জানা।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা ভবিষ্যতে আরো ভয়াবহ সাইবার হামলার দেখতে পারে বিশ্ব। ভার্চুয়ালি নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সবসময়ই ব্যবহার করা উচিৎ সুরক্ষিত ইন্টারনেট সংযোগ।

সাইফুল ইসলাম : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীএপ্রিল - ১১
ফজর৪:২৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২১
এশা৭:৩৬
সূর্যোদয় - ৫:৪০সূর্যাস্ত - ০৬:১৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৫২০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.