নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ৮ এপ্রিল ২০২১, ২৫ চৈত্র ১৪২৭, ২৪ শাবান ১৪৪২
নৌ-দুর্ঘটনায় সাজা নির্ধারণে মালিক শ্রমিকদের পক্ষে নৌ-মন্ত্রণালয়
শীতলক্ষ্যায় লঞ্চ ডুবি : ৩৪ যাত্রীকে হত্যার অভিযোগে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার
নৌ-দুর্ঘটনায় মালিক ও চালকরা দায়ী হলেও বরাবরই তাদের পক্ষেই নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহণ অধিদফতরের অবস্থান। এর ফলে গত কয়েক বছরেও অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ-১৯৭৬ সংশোধন হয়ে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল আইনে রূপ নেয়নি। সাজা নির্ধারণে মালিক শ্রমিকদের পক্ষে নৌ-মন্ত্রণালয়। অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল আইন করতে লেগে গেছে অন্তত পাঁচ বছর। মালিকদের মন রক্ষার জন্য খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর সাজা আবার কমানো হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে জানা যায়। এদিকে নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে বেপরোয়া গতিতে জাহাজ চালিয়ে লঞ্চ ডুবিয়ে ৩৪ যাত্রীকে হত্যার অভিযোগে মামলা করেছে বিআইডবিস্নউটিএ।

নারায়ণগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীতে বেপরোয়া গতিতে জাহাজ চালিয়ে লঞ্চ ডুবিয়ে ৩৪ যাত্রীকে হত্যায় বিআইডবিস্নউটিএ মামলার ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি দীপকচন্দ্র সাহা জানান, গত মঙ্গলবার রাতে তাদের থানায় মামলাটি করেন বিআইডবিস্নউটিএ নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক) বাবুলাল বৈদ্য। গত রোববার সন্ধ্যার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিআইডবিস্নউটিএ টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া যাত্রীবাহী লঞ্চ এমএল সাবিত

আল হাসানকে শহরের কয়লাঘাট এলাকায় কার্গো জাহাজ এসকেএল-৩ বেপরোয়াভাবে পেছন থেকে ধাক্কা দিলে ডুবে যায়। লঞ্চের অনেকে সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নিখোঁজ থাকেন অনেকে। পরে ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। ওসি দীপকচন্দ্র সাহা গণমাধ্যমকে বলেন, অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বিআইডবিস্নউটিএ কর্মকর্তা। এতে হত্যার উদ্দেশ্যে বেপরোয়া গতিতে জাহাজ চালিয়ে হত্যা সংঘটিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামিদের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। এদিকে গত তিনদিনেও জাহাজটি বা কাউকে আটক করতে পারেন পুলিশ। তবে শিগগিরই দোষীদের গ্রেফতার করা সম্ভব হবে বলে জানান ওসি। মামলার বাদী বাবুলাল বৈদ্য বলেন, পেনাল কোড ২৮০, ৩০৪, ৩৩৭, ৩৩৮, ৪২৭, ৪৩৭ ধারাসহ ইংল্যান্ড শিপিং অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬ এর ৭০ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। হত্যার উদ্দেশ্যে এবং বেপরোয়া গতিতে নৌযান চালিয়ে ৩৪ জনকে হত্যা সংঘটিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় আসামি হিসেবে কারো নাম বা সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি।

অন্যদিকে নৌ-দুর্ঘটনায় মালিক ও চালকরা দায়ী হলেও বরাবরই তাদের পক্ষেই নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহণ অধিদফতরের অবস্থান বলে জানা যায়। মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর চাপের কারণে গত কয়েক বছরেও অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশ-১৯৭৬ সংশোধন হয়ে অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল আইনে রূপ নেয়নি। এসব সংগঠনের অনুরোধে বারবার তাদের মতামত নেয়ার জন্য সময়ক্ষেপণ করা হয়। শুধু তাই নয়, আইনে বারবার সাজা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও তা থেকে সরে আসা হয়। সর্বশেষ ২০১৯ সালে নৌ-দুর্ঘটনার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের বিধান রাখা হলেও চাপের মুখে তা আবার ৫ বছর করে খসড়া তৈরি করে নৌ-পরিবহণ অধিদফতর। ওই খসড়া নিয়ে এখনো কাজ করছে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়। সমপ্রতি খসড়াটির বানান সংশোধনের জন্য বাংলা ভাষা বাস্তবায়ন কোষে (বাবাকো) পাঠানো হয়েছে। সেটি ফেরত আসার পর সাজার বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আবার বসবেন নৌ-মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এমন পরিস্থিতিতে গতকাল বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে এমন নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ।

বিপদের ঝুঁকি নিয়ে নৌভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর : নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষে গত মঙ্গলবার এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। গ্রীষ্মকালে দেশে প্রায়শ কালবৈশাখী ঝড় ওঠে। তাই এ সময়ে নৌযান চালক এবং যাত্রীসাধারণকে সতর্ক থাকতে হবে। খারাপ আবহাওয়ায় বা অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে অথবা যান্ত্রিক ত্রুটিসহ যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদের ঝুঁকি নিয়ে নৌযান চালানো বা নৌভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও যান্ত্রিক উপকরণ ব্যবহার করে আমাদের সমুদ্র, নদী ও স্থলবন্দরসমূহের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য সহজতর তথা প্রতিযোগিতামূলক করার জন্য আমাদের সরকার ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথের ৫৩টি রুটে ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও অন্য নাব্যতা উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে এ আইনটি নিয়ে কাজ করছেন এমন একজন কর্মকর্তা নাম গোপন রাখার শর্তে বলেন, নৌদুর্ঘটনার বিচার হয় অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল অধ্যাদেশের আওতায়। আইনটি অত্যন্ত দুর্বল। এই আইনে সর্বোচ্চ সাজা ৫ বছর। তিনি বলেন, বিভিন্ন দুর্ঘটনার প্রতিবেদনে আইনটি যুগোপযোগী করার সুপারিশ করা হয়। ২০১৫ সালে আইনটি সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া হয়। দফায় দফায় মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। ২০১৯ সালে খসড়া আইনটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে সিরিজ বৈঠকে ১০ বছর সাজার বিষয়টি মেনেও নেয়া হয়। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তা আবার ফিরিয়ে এনে এখন ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের বিধান রাখা হচ্ছে। এমনকি এ সাজার বিধান এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি মন্ত্রণালয়।

আইন সংশোধনে বারবার সময়ক্ষেপণ ও সাজা কমানোর বিষয়ে জানতে চাইলে নৌপ্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এমন কোনো আইন করা উচিত হবে না যা বাস্তবায়ন বা প্রয়োগ করা যাবে না। এমন আইন করতে হবে যা প্রয়োগ করা যায়। তিনি বলেন, যেহেতু এ আইন বাস্তবায়নের সঙ্গে মালিক ও শ্রমিকরা বেশি সম্পৃক্ত তাদের কথাও ভাবতে হবে। যাত্রী নিরাপত্তা, নৌপথের শৃঙ্খলা ঠিক থাকে এমন আইনই হচ্ছে।

অন্যদিকে মার্চেও নৌযান মালিকসহ স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করেছে নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়। ওই বৈঠকেও বিভিন্ন অপরাধ ও বিধি লঙ্ঘনের জন্য বিদ্যমান সাজা আরো কমিয়ে জাহাজের আকার অনুযায়ী সর্বনিম্ন দুই হাজার টাকা ও সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা এবং এক মাসের কারাদ-ের প্রস্তাব করেছে মালিকদের ছয়টি সংগঠন। তারা নৌযানের বয়সসীমা ৪০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ বছর করার প্রস্তাব করেছে। ওই বৈঠকে বিআইডবিস্নউটিএ, নৌ-পরিবহণ অধিদফতর, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন মতামত দেয়া হয়। তবে কোনো সংস্থাই বিদ্যমান সাজা বাড়ানোর পক্ষে মতামত দেয়নি।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীএপ্রিল - ১১
ফজর৪:২৩
যোহর১২:০০
আসর৪:৩১
মাগরিব৬:২১
এশা৭:৩৬
সূর্যোদয় - ৫:৪০সূর্যাস্ত - ০৬:১৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৪৯১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.