নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১ বৈশাখ ১৪২৬, ৭ শাবান ১৪৪০
লক্ষ্মীপুরে ইলিশ শিকারের মহোৎসব নির্বিচারে ধরা হচ্ছে জাটকা
লক্ষ্মীপুর থেকে মো. গাজী গিয়াস উদ্দিন
লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে চলছে ইলিশ ধরার মহোৎসব। প্রজনন মৌসুমে জাটকা ইলিশ শিকারে সরকারের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দাম বেশি পাওয়ার আশায় জেলেরা কোনো নির্দেশ মানছে না। নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে লক্ষ্মীপুরে মেঘনায় নির্বিচারে জাটকা ইলিশ ধরছে জেলেরা। মেঘনা নদী থেকে ১৫ দিন ধরে নির্বিচারে জাটকা নিধন করা হচ্ছে। প্রতিদিন শিকার করা হচ্ছে হাজার হাজার মণ জাটকা । আর এ জাটকা রিকশা ও ভ্যানে ফেরি করে গ্রামে গ্রামেসহ বিক্রি করা হচ্ছে বাজারগুলোতেও। স্থানীয় মৎস্য বিভাগের কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নদীতে মাছ ধরছে জেলেরা, অভিযান সফল না হওয়ার আশঙ্কা করছেন জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয়রা। প্রতিদিন নির্বিচারে জাটকা ধরাকে উৎসাহিত করার পিছনে শতাধিক আড়ত ও কোস্টগার্ড এবং মৎস্য বিভাগের দায়িত্ব অবহেলার উদাসীনতায় দায়ী করেছেন স্থানীয়রা।

এদিকে সরকার ইলিশ মাছ রক্ষায় নদীতে সাড়ে তিন ইঞ্চির কম ফাঁসের জাল ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু বর্তমানে নদীতে ছোট ফাঁসের জাল নিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ জাটকা ইলিশ নিধন করা হচ্ছে। জেলেরা জানান, এ সময় ৪০ কেজি হারে ভিজি এফের চাউলসহ বিভিন্ন উপকরণ দেয়া হয়। কিন্তু এখনো তা পায়নি অনেকেই। তাই দাদনদার মৎস্য আড়তদারদের চাপে ও পেটের দায়ে নদীতে নামতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে ইলিশ উৎপাদনে মারাত্মক ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, সামনে নববর্ষ কয়েকজন জেলে ও আড়তদার চুরি করেই মাছ ধরছেন, প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, সরকারি হিসেবে জেলায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছে। নিবন্ধিত রয়েছে ৪২ হাজার জেলে। কিন্তু তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার জেলের। ২৭ হাজার জেলের নাম নাই তালিকায়। লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনাল এলাকার ১শ কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষিত এলাকায় ১ মার্চ-৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও জেলেরা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার করছে। এদের অধিকাংশই মেঘনা নদীতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের বেশি দেখা যাচ্ছে মেঘনার কমলনগর মতিরহাট ও রায়পুরের পুরান বেড়ি ও জালিয়ার চরসহ রামগতিতেও । স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে জেলেরা মেঘনা নদীতে ইলিশ মাছ শিকার করে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকার দলীয় আওয়ামী লীগ নেতা মিজান বেপারীসহ স্থানীয় আরো কয়েকজন এমনকি জনপ্রতিনিধিরা জড়িত থাকায় হতাশ স্থানীয়রা।

অপরদিকে অভিযান সফল না হওয়ার আশঙ্কা করছেন জনপ্রতিনিধি। এদের মধ্যে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ ছৈয়াল জানান, গত মাসে চাল বিতরণ করেছি। আবার চাল এসেছে। চাল না পাওয়া বাকি জেলেরা হাহাকারে আছে। কিন্তু কিছু জেলেরা মাছ ধরে আবার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আড়তদাররাও মাছ ক্রয় ও বিক্রি করছেন। মাছ ধরা থেকে বন্ধে নিষেধ করে তিনি আরো জানান, আগামী প্রত্যেক জেলেকে চাল দেয়া হবে তার জন্য চেষ্টা করা হবে।

তবে জেলা মৎস্য বিভাগ বলেছেন, পর্যায়ক্রমে বাকি জেলেদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে। এ দিকে বে-সরকারি হিসেবে নদীতে জেলের সংখ্যা প্রায় ৬২ হাজার। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জেল জরিমানা করা হয়। আর মাছ ধরার অভিযোগে ৩৮ জেলেকে জেল ও ৩৩ জেলেকে জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে। কারেন্ট জাল পুড়িয়ে নষ্ট করা হচ্ছে।

চর কালকিনি এলাকার জেলে আওলাদ হোসেনসহ রায়পুরের মৎস্য পাইকার ইউনুছ আলী ও আরো কয়েকজন জেলে জানান, এ এলাকার অনেক জেলে তার মতো দাদনদার মৎস্য আড়তদারদের টাকা পরিশোধের চাপে মেঘনায় মাছ ধরতে নদীতে নেমেছেন। সরকার নদীর পাড়ের আড়তগুলো বন্ধ রাখলে কোনো জেলে আর মাছধরতে হতো না তাদের। তারা প্রতিদিন হাজিমারা পুরান বেড়ির মাথা তৌহিদ প্রধানিয়ার আড়ত থেকে মাছ ক্রয় করেছেন। আর প্রতিদিন মাছগুলো ফেরি করে গ্রামে গ্রামে ও বিক্রি করা হচ্ছে বাজারগুলোতে বিক্রি করছেন। এতে যে টাকা পান তা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলে তাদের। তাদের মতে পুরান বেড়ির মাথায় আরো ৬টি আড়তেই প্রতিদিন কেনা হচ্ছে জাটকা ইলিশ। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এসএম মহিবউল্যাহ জানান, বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে কিছু জেলে নদীতে মাছ শিকার করে থাকে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করে জেল জরিমানা করা হয়। আর মাছ ধরার অভিযোগে ৩৮ জেলেকে জেলেকে জেল ও ৩৩ জেলেকে জরিমানা ও মামলা করা হয়েছে। কারেন্ট জাল পুড়িয়ে নষ্ট করা হচ্ছে। আর এ জেলায় ৫২ হাজার জেলে রয়েছে। কিন্তু তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার জেলের। ২৭ হাজার জেলের নাম নাই তালিকায়। পর্যায়ক্রমে বাকী জেলেদের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হবে। প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২১
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১০০৩৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.