নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১ বৈশাখ ১৪২৬, ৭ শাবান ১৪৪০
গোপালগঞ্জে ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে নির্যাতিত ছাত্রীকে হাসপাতাল থেকে অপহরণ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জে ৪র্থ শ্রেণীর একছাত্রীকে হত্যার হুমকি দিয়ে অব্যাহত ধর্ষণ করেছে লম্পট গৃহ শিক্ষক মনোজ কুমার বিশ্বাস। ঐ ছাত্রী গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে তাকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হাতিকাটা শেখ মণি জ্ঞানেন্দ্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রীর সাথে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ব্যাপারে গত ১০ এপ্রিল রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র দত্ত বাদী হয়ে মনোজ কুমার বিশ্বাস ও শাহজাহান শেখের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৩ জনকে আসামি করে ধর্ষণ এবং অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। দুর্গাপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার হাসান শেখ এ ঘটনায় অভিযুক্ত মনোজ কুমার বিশ্বাসকে এ ঘটনা থেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন এবং তিনি মনোজকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ওই ইউপি মেম্বারের ভাই শাহজাহান শেখ গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করেছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মেম্বারের ভয়ে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর মা-বাবা পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় হাতিকাটা গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তারা এ ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারসহ সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুরেশ চন্দ্র দত্ত বলেন, হাতিকাটা গ্রামের উত্তম বিশ্বাসের ছেলে মনোজ কুমার বিশ্বাস প্রতিবেশি ঐ ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়াতেন। ভয়ভীতি ও হত্যার হুমকি দিয়ে ৩য় শ্রেণীতে পড়ার সময় ছাত্রীটিকে মনোজ তার বাড়িতে নিয়ে গত বছর ১ নভেম্বর প্রথম ধর্ষণ করে। গত ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তাকে জোর করে একাধিকবার ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয় ধর্ষক। গোপন রাখার শর্তে ঐ ছাত্রী বিষয়টি প্রথম তার সহপাঠীদের জানায়। গত ৯ এপ্রিল স্কুলে এসে ঐ ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এ সময় তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে ইউপি চেয়ারম্যান, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, ইউপি মেম্বার, স্থানীয় ক্লাবের সভাপতি ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সামনে ঐ ছাত্রী ধর্ষণের বর্ণনা দেয়। এতে তার অনেকবার রক্তক্ষরণ ও তলপেট ব্যথা হয়েছে। অসহ্য যন্ত্রণার কথাও সে বলেছে। ধর্ষকের হাতে পায়ে ধরে মিনতি করার পরও সে রক্ষা পায়নি। এ সময় তার বক্তব্য রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ঐ দিন রাতেই ঐ ছাত্রীকে হাসপাতাল থেকে অপহরণ করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানিয়েছে, ইউপি নির্বাচনে মনোজ ইউপি মেম্বার হাসানের দল করেছে। তাই ইউপি মেম্বার মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধর্ষক মনোজকে পালাতে সহায়তা করেছে এবং হাসান ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ইউপি মেম্বারের ভাই শাহজাহান ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতে ২/৩ জনকে সাথে নিয়ে ওই ছাত্রীকে হাসপাতাল থেকে অপহরণ করেছে। ইউপি মেম্বার বিষয়টি মীমাংসা করে দিতে ছাত্রীর পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। ইউপি মেম্বারের ভয়ে ছাত্রীর মা-বাবা গা ঢাকা দিয়েছে। এ অবস্থায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ইউপি মেম্বার ও তার ভাইয়ের অত্যাচার ও নির্যাতনে এলাকাবসী অতিষ্ঠ বলেও অভিযোগ করেন হাতিকাটা গ্রামের মানুষ। অভিযুক্ত ইউপি মেম্বার হাসান শেখ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গত ৯ এপ্রিল আমি স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও স্কুলের প্রধন শিক্ষককে সাথে নিয়ে ঐ ছাত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করি। পরে থানায় যাই। থানা থেকে এসআই বকুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আমার সাথে ঘটনাস্থলে আসেন। সেখানে উপস্থিত হয়ে জানতে পারি, আমার ভাই শাহজাহান আসামি মনোজকে নিয়ে পালিয়েছে। তারপর থেকে মনোজ ও শাহজাহান পলাতক রয়েছে। ঐ দিন রাতে হাসপাতাল থেকে ওই ছাত্রীকে কে বা কারা অপহরণ করে নিয়ে গেছে, তা আমার জানা নাই। তবে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। মনোজ আমার দল করতো। কিন্তু তাকে পালিয়ে যেতে আমি কোনো সহায়তা করিনি। এমনকি টাকার বিনিময়ে ঘটনাট ধামাচাপা দিতে আমি চেষ্টা করছিনা। ঐ ছাত্রীর মা-বাবাকে আমি কোন ভয়ভীতি দেখাইনি। তারা হয়তো আতংকে গা ঢাকা দিয়েছে। প্রতিপক্ষ আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ সদর থানার এসআই বকুল বলেন, হাসপাতাল থেকে ঐ ছাত্রীকে কৌশলে শাহজাহানসহ ৩/৪ জন অপহরণ করে নেয়। এ কারণে ঐ ছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়নি। ধর্ষণের আলামত নষ্ট করতেই ঐ ছাত্রীক অপহরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করছি। গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে ভর্তিকৃত রোগীকে এভাবে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ায় ঐ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সকল রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ২১
ফজর৪:১৭
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৬৭৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.