নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১ বৈশাখ ১৪২৬, ৭ শাবান ১৪৪০
গণপরিবহণে ভয়াবহ অনিয়ম-১
বাস মালিকদের প্রতারণার শিকার যাত্রীরা অসহায়
সিটিং নামে চিটিং বাণিজ্য যাত্রীদের কাছে ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় উত্তরণের উপায় কী?
মো. কামরুল হাসান ও আমিরুল ইসলাম অমর
ঢাকাকে বলা হয় জাদুর নগরী। এজন্য গ্রাম-গঞ্জ থেকে কাজকর্মের আশায় যারা রাজধানীতে আসেন তারা কোনো না কোনো উপায়ে এখানে বসবাস করতে থাকেন। এরপর এসব মানুষদের নানা ক্ষেত্রে যুদ্ধ করতে হয়। এদের সঙ্গে যুদ্ধে শামিল হন রাজধানীর মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্তসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষও। এদের থাকা-খাওয়া, কাজ করাসহ যেসব যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বসবাস করতে হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো যাতায়াত যুদ্ধ। এসব মানুষ তাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে সহজ ও কম খরচের পরিবহণ খুঁজেন। কয়েক বছর আগেও রাজধানীতে বাসে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে অল্প টাকা খরচ করতে হতো। বর্তমানে সেই খরচ দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ হয়ে গেছে। আর এই খরচ বাড়ার অন্যতম কারিগর হলো সিটিং সার্ভিস। তবে এরা সিটিংয়ের নামে প্রধানত চিটিং বাণিজ্য করছে। যেখানে প্রতিনিয়ত আদায় করা হচ্ছে অযৌক্তিক যাত্রীদের প্রতারণা ও শোষণ ভাড়া। নতুন এই 'স্টাইল'য়ের ভাড়ার খড়গে পড়ে স্বল্প দূরত্বের স্থানে যেতেও যাত্রীদের প্রকৃত ভাড়ার স্থলে ব্যয় করতে হচ্ছে রিকশা কিংবা সিএনজিতে চলাচলের সমান অর্থ। অনেক সময় এই ভাড়ার প্রতিবাদ করলে যাত্রীদের হতে হচ্ছে অপদস্ত অথবা লাঞ্ছিত। ফলে গণপরিবহণে সাধারণ মানুষের চলাফেরায় নেমে এসেছে অনেকটাই বিপর্যয়। যে কারণে যাত্রীরা আজ অসহায়। আর এতে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় কোন পথে? রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের দৌরাত্ম্য অনেক আগে থেকেই। এর আগে ২০১৭ সালে ঢাকায় রাজধানীতে সিটিং সার্ভিস চলতে পারবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। কিন্তু এরপর বাস মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সংস্থাটি। ঐ সময় ১৫ দিনের জন্য সিটিং সার্ভিস চলাচলের অনুমতি দেয়া হলেও সেই ১৫ দিন আর শেষ হয়নি। সিটিং সার্ভিস চলছে তো চলছেই। এমনকি এরপর বিআরটিএ থেকেই সিটিং সার্ভিসের অনুমোদন দেয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। যার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই থমকে আছে। এখন রাজধানীতে গোটা কয়েক লোকাল বাস নামে চললেও সিটিং সার্ভিস নামধারী বাহনের সংখ্যা শতকরা ৮০ ভাগ। তবে নামে ও ভাড়ার ক্ষেত্রে সিটিং হলেও কাজে এরা পুরোপুরি লোকাল। যার ফলে এসব সিটিং সার্ভিসকে সাধারণ যাত্রীরা চিটিং সার্ভিস হিসেবে অভিহিত করে থাকেন। এসব চিটিং সার্ভিস ওয়েবিলের দোহাই দিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে প্রকৃত ভাড়ার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে। এছাড়াও কোনো কোনো সিটিং সার্ভিস আবার যাত্রীর চাপ বেশি দেখলেই দরজা আটকে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী বাদ দিয়ে দূরের যাত্রী নিতে ওয়েবিলের ভাড়া বাদ দিয়ে নিজেদের মন মতলবি ভাড়া আদায় করে। যেমন যাত্রাবাড়ী থেকে মিরপুর-১০ পর্যন্ত চলাচলকারী বেস্ট ট্রান্সপোর্ট সিটিং সার্ভিস হিসেবে চললেও প্রতিনিয়ত এরা যাত্রীদের সঙ্গে কারচুপি করছে। যাত্রাবাড়ী থেকে যেকোনো স্বল্প দূরত্বে তাদের ভাড়া ৫ টাকার স্থলে ১৮ টাকা এবং যখন যাত্রী চাপ অধিক হয় তখন যে যেখানেই নামুন না কেন ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। এই রকম দৃশ্য ঢাকার প্রায় প্রতিটি রুটেই। সেই সাথে রয়েছে গণপরিবহণ স্বল্পতাও। ট্রাফিক পুলিশের গাড়ির ফিটনেস চেক করতে রাজপথে নামলেই অর্ধেকেরও বেশি গণপরিবহণ হয়ে যায় উধাও। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ে যাত্রীদের ওপর। এর বাইরে অতিরিক্ত ভাড়ার বিরুদ্ধে কথা বললেই যাত্রীকে হতে হচ্ছে হেনস্তা। অপদস্তের সঙ্গে জুটছে লাঞ্ছনা। কখনো কখনো পরিবহণ শ্রমিকরা একজোট হয়ে শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করছে যাত্রীকে।

এদিকে এসব সিটিং সার্ভিস কোনো নির্দিষ্ট স্টপেজে থামছে না বরং যেখানে তাদের যাত্রী নেমে যাচ্ছে সেখান থেকেই আবার গাড়িতে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করছে। ফলে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামার পাশাপাশি দাঁড়ানো যাত্রী বহন না করার কথা বললেও এসব সিটিং সার্ভিস প্রচুর দাঁড়ানো যাত্রী বহন করে প্রায় পুরোপুরি লোকাল সার্ভিস হিসেবে চলছে। আর তাই সিটিং সার্ভিস কেবল ভাড়াতেই। প্রকৃত অর্থে সিটিং সার্ভিস হিসেবে চলছে না কোনোটিই। এমনকি রাজধানীর মতিঝিল হতে উত্তরা পর্যন্ত চলাচলকারী 'গ্রীন ঢাকা' এসি সার্ভিসে মতিঝিল হতে নতুন বাজার পর্যন্ত যাত্রী যেখানেই নামুক ৬০ টাকা এবং উত্তরা পর্যন্ত ১০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। আর অত্যধিক ভাড়ার পাশাপাশি মতিঝিল পার হলেই এটিও লোকাল বাসের মতো প্রচুর দাঁড়ানো যাত্রী বহন করছে।

২০১৬ সালের অক্টোবরে রাজধানী ও এর পার্শ্ববর্তী পাঁচ জেলায় চলাচলকারী সিএনজিচালিত বাসের ভাড়া কিলোমিটারে ১০ পয়সা বাড়ায় সরকার। বাসে ভাড়া কিলোমিটারে ১ টাকা ৭০ পয়সা এবং মিনিবাসে ১ টাকা ৬০ পয়সা, বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ৭ টাকা ও মিনিবাসে ৫ টাকা নির্ধারণ করে বিআরটিএ। কিন্তু বর্তমানে প্রায় সব বাসই সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। পরিবহণ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রশাসনের নমনীয়তার সুযোগ নিচ্ছেন তারা। তবে আইনকানুনও বর্তমান সময়ের উপযোগী নয় বলে অভিযোগ তাদের। সেই সঙ্গে রয়েছে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের বড় জোট। যার নেতৃত্বে রয়েছে সরকারদলীয় নেতারাই। ফলে কঠোর হতে পারছে না প্রশাসনও। এদিকে বিভিন্ন সংগঠনও গণপরিবহণে চিটিং ও মন মতলবি ভাড়ার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠান, আলোচনা ও সেমিনার অব্যাহত রেখেছে। তবে তাদের কাজ ঐ পর্যন্তই। তারা বিভিন্ন দাবি-দাওয়া জানালেও পরিবহণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের এসব দাবির প্রতি কোনো তোয়াক্কা করে না।

গণপরিবহণের নিয়মিত যাত্রী বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত আবুল কালাম আজাদ দৈনিক জনতাকে বলেন, রাজধানীর পরিবহণ ব্যবস্থা কেমন যেন হয়ে গেছে। দিন দিন মধ্যবিত্ত এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। খিলক্ষেত থেকে পল্টন কোনো বাসেই ৪০ টাকার নিচে ভাড়া নেই। এটা কিভাবে সম্ভব? বিআরটিসি হলো ঈদের চাঁদ, এর কথা না বলাই ভালো, আর ওটা সরকারি। ফলে সহজে পাওয়ার কোনো উপায় নেই। কিন্তু ব্যক্তি মালিকানাধীন পরিবহণগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। সব সিটিং সার্ভিস, লোকাল বাস পাওয়াই দুষ্কর। মহাখালী থেকে পল্টন ভাড়া নিচ্ছে ২০ টাকা। মহাখালী থেকে কাকলী ৫ মিনিটের পথ, ভাড়া ৪০ টাকা। একই ভাড়া এয়ারপোর্ট পর্যন্ত যেখানেই কেউ নামুক। এটা কেমন কথা? কোন যুক্তিই খাটছে না এখানে। এভাবে আর কতদিন?

গণপরিবহণে ওঠা আরেক যাত্রী পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী মাহতাব উদ্দিন দৈনিক জনতাকে বলেন, সহজে বাস পাওয়া যেমন কষ্টকর তেমনি কম খরচে যাওয়াও বিশাল ব্যাপার। পথে নামলেই ১০০-২০০ টাকা নেই। বাসের ভাড়া সবচেয়ে কম হওয়ার কথা। কিন্তু কম কোথায়? মিরপুর থেকে গুলিস্তান আসতে ২৫-৩০ টাকা লাগে। দ্বিগুণ টাকা খরচ করলে পাঠাও কিংবা উবারের বাইকেই আসা যায়। কিন্তু বাস ছাড়া সাধারণ মানুষের গতি নেই। আর এটা পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা জানে বলেই তারা যাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছে। একদিকে বাস পাওয়া যায় না, প্রয়োজনের সময়েও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর কোন উপায় নেই। অন্যদিকে বেশি ভাড়া, সেই সঙ্গে হেলপার কন্ডাকটারদের দুর্ব্যবহার তো আছেই। আমাদের এই কষ্ট লাঘবের কি কেউ নেই? আমরা তো একেবারেই অসহায়।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৭
ফজর৪:১৫
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৮
মাগরিব৬:৩৪
এশা৭:৫০
সূর্যোদয় - ৫:৩৪সূর্যাস্ত - ০৬:২৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৪৯২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.