নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৪ এপ্রিল ২০১৯, ১ বৈশাখ ১৪২৬, ৭ শাবান ১৪৪০
ঢাবিতে ছাত্রলীগের অন্তঃকোন্দলে বৈশাখী কনসার্ট ভ-ুল
অগি্নসংযোগ ভাঙচুর ও হামলা : ডাকসুর অনুষ্ঠান জানেন না ভিপি
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মল চত্বরে চৈত্র সংক্রান্তিতে লোকসংগীত ও পহেলা বৈশাখের দুই দিনব্যাপী কনসার্ট উপলক্ষে লাগানো ব্যানার, ফেস্টুন, বিজ্ঞাপন বুথ ও স্টলে ভাঙচুর, অগি্নসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে এ ঘটনা। এই কনসার্টে জেমস, মিলা, ওয়ারফেজ, আর্টসেল ও ফিড ব্যাকসহ বেশ কয়েকটি ব্যান্ডের সংগীত পরিবেশনের কথা। এই আয়োজনের মঞ্চ তৈরিসহ সামগ্রিক প্রস্তুতি গুছিয়ে আনার মধ্যে গত শুক্রবার গভীর রাতে একদল গিয়ে মঞ্চ, স্টল এবং বিভিন্ন উপকরণে আগুন ধরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে সরেজমিন দেখা যায়, মল চত্বরের সীমানা প্রাচীর ও আশপাশে লাগানো কনসার্টের ব্যানার-ফেস্টুন ছেঁড়া, কোনোটি আগুনে পোড়া। কনসার্টের মূল মঞ্চ এলোমেলো, পাশে মেলার স্টলগুলোর স্টিলের তাঁবু উল্টে আছে। এরপাশে কাঠ ও বাঁশে আগুন লাগানো হয়েছে। বেশ কয়েকটি ফ্রিজ ভেঙে পড়ে আছে।

ভাঙচুর ও অগি্নসংযোগের কিছুক্ষণ পর নেতাকর্মী নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসু'র জিএস গোলাম রাব্বানী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইন।

তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আয়োজনের দায়িত্বে থাকা মোজোর মার্কেটিং বিভাগের অপারেশন হেড (ব্র্যান্ড) আজম বিন তারেককে আয়োজন অব্যাহত রাখার কথা বলেন। তবে রাতের ঘটনার পর সকালে আবারও হামলার শিকার হয় বৈশাখের আয়োজন। আজম বিন তারেক জানান, রাতে হামলার পর নেতাদের অনুরোধে আবারও আয়োজনের কাজ শুরু করেছিলাম। কিন্তু সকালে ৪ জন লোক হেলমেট পরে এসে পেট্রল বোমা দিয়ে সাউন্ড সিস্টেমের উপর হামলা করে। এতে সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের অন্তঃকোন্দলে এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, বৈশাখী কনসার্টের এই আয়োজন সম্পর্কে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভনকে জানানো হয়নি। অন্য ৩ নেতা সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, ঢাবি সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস এবং সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে এ কনসার্ট আয়োজন করা হয়। এতে শোভনের অনুসারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অগি্নকা-ের ঘটনা ঘটায়। জানা যায়, বৈশাখী কনসার্টে কোমল পানীয় মোজো বিশাল অঙ্কের অর্থ স্পন্সর করে। এই বিশাল অর্থের অংশ থেকে শোভনকে মাইনাস করা হয়েছে। ফলে ভাগ বাটোয়ারায় মিল না হওয়ায় এ ঘটনা ঘটে। ভাঙচুরকারীদের বিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, আমাকে এই প্রোগ্রামের ব্যাপারে কিছুই জানানো হয়নি। তবে সেটা কোনো ব্যাপার নয়। আমি বলেছিলাম, এটা যাতে ভালোভাবে হয়। তবে অন্যান্য প্রোগ্রামের ব্যাপারে যেমন হল শাখার নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করা হয়, এই প্রোগ্রামে তা করা হয়নি। এটা থেকে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটতে পারে। এই ঘটনায় তার নিজের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও জানান তিনি।

এ ব্যাপারে কথা বলতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ভাঙচুরকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রলীগের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এই হামলার সাথে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, মল চত্বরে ভাঙচুর চলাকালীন সময়ে হামলার শিকার হয়েছেন এফ. রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও ছাত্রলীগ সভাপতি শোভনের সমর্থক সাগর রহমান।

হামলার বিষয়ে সাগর জানান, রাত একটার পরে আমি মল চত্বরে কী ঘটছে, তা দেখতে সেখানে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের কয়েকজন অনুসারী আমার উপর হামলা করে। তারা ভেবেছিল, আমি মল চত্বরের ভাঙচুরে অংশ নিয়েছি। সাদ্দাস হোসেনের প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় তার উপর হামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সাগর এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। তার মাথায় ৫টি সেলাই দেয়া হয়েছে। একই ঘটনায় এফ, রহমান হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান তুষারের রুমের দরজা ভেঙে ভাঙচুর করা হয়। তার অনুসারীদের ৩১৩ এবং ৩১৫ নম্বর কক্ষে তালাও দেয়া হয়।

এ বিষয়ে তুষার বলেন, ঘটনার সময় আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম না। তবে পরে খোঁজ নিয়ে জেনেছি, সাদ্দাম হোসেনের নির্দেশে হল সংসদের ভিপি আব্দুল আলীম খান নিজে উপস্থিত থেকে আমার কক্ষে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। অন্য দুটি কক্ষে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, সাদ্দাম তার ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে আমার রুম দখল করতেই ভাঙচুর চালিয়েছেন। সাদ্দাম হোসেন বলেন, মল চত্বরে হামলার সাথে যারা জড়িত, তারা মূল ঘটনা আড়াল করতে এ ধরনের নাটক তৈরি করেছে। এর সাথে আসা আমার সংশ্লিষ্টতার প্রশ্নই আসে না।

ডাকসু'র অনুষ্ঠান, জানেন না ভিপি : পহেলা বৈশাখ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট যৌথভাবে আয়োজন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ। তবে ডাকসু'র নামে অনুষ্ঠান হলেও অনুষ্ঠান সম্পর্কে জানেন না ডাকসু'র সহ-সভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর। বিষয়টি ডাকসু'র সভাপতিকে (বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) অবহিত করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, এটা ডাকসু'র প্রোগ্রাম, অথচ আমি ডাকসু'র ভিপি, আমি জানি না। এ বিষয়ে আমার সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি।

তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে শুনেছি, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই বলেছেন, এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। এটা নিয়ে ছাত্রলীগের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। এটা ঢাকতেই তারা ডাকসুকে ব্যবহার করছে। তবে, অনুষ্ঠানের বিষয়টি ভিপি জানেন বলে দাবি করেছেন ডাকসু'র সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার। তিনি বলেছেন, তাকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। তবে তিনি অনেক সময় ডাকসু'র বৈঠকে থাকেন না।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীএপ্রিল - ২৫
ফজর৪:০৯
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৭
এশা৭:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:২৯সূর্যাস্ত - ০৬:২২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৬৭৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.