নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯
প্রসঙ্গ : মি'রাজ ও বিজ্ঞান
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
পবিত্র মি'রাজের স্মৃতিবাহী মাস রজব। প্রিয় নবী (দঃ)-এর সর্বশ্রেষ্ঠ মু'জিজা শবে মি'রাজ এ মাসের ২৭ তারিখ রাতে সংঘটিত হয়েছিল। মি'রাজ অর্থ সিঁড়ি, সোপান যা দ্বারা ঊর্ধ্বারোহণ বা ঊর্ধ্বগমন। ইসলামের ইতিহাসে এক বর্ণাঢ্যময় অবিস্মরনীয় ঘটনা 'মি'রাজ'। আরবি ভাষায় 'ইসরা' ও বলা হয় অর্থাৎ নৈশকালীন ভ্রমণ। পবিত্র কোরআনে মি'রাজের বর্ণনায় 'ইসরা' শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে ছোবহানাল লাজি আসরা বি আবদিহী লায়লাম মিনাল মসজিদিল হারাম ইলাল মাসজিদিল আকসা। (সুরা বণি ইসরাঈল-১৫ : ১)। মহাশূন্যের অন্যতম বাসিন্দা 'চন্দ্র' পৃথিবী হতে আড়াই লক্ষ মাইল দূরে। সূর্য নয় কোটি ত্রিশ লক্ষ মাইল দূরে শূন্যে অবস্থিত এবং নিজ কক্ষপথে চলমান আছে। সূর্য হচ্ছে পৃথিবীর তের লক্ষ গুণ বড়। অপর দিকে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন যে, মহাকাশে যে, ছায়াপথ আছে তাতে অগণিত তারকা রয়েছে এবং তার সংখ্যা অসংখ্য। এই তারকাগুলিও নিজ নিজ কক্ষ পথে ঘুরছে। আলোর গতি হচ্ছে প্রতি সেকেন্ডে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল। জন্মের পর হতে ছায়াপথের উক্ত এক একটি তারকার আলোও এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার মাইল গতিতে প্রতি সেকেন্ডে চলছে এবং তার আলো এখনও পৃথিবীতে লক্ষ বছর পরও এসে পৌঁছায়নি। তাহলে এবার বুঝুন, মহাকাশের ছায়াপথের অসংখ্য তারকার একটি মাত্র নক্ষত্র পৃথিবী হতে কত কোটি মিলিয়ন বা ট্রিলিয়ন মাইল বা কত কোটি আলোক বৎসর দূরে। মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে মহাকাশের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান এবং মহাকাশের এ সকল বাসিন্দা মানে চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, উপগ্রহ, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রবি, সোম এবং ছায়া পথের উক্ত অসংখ্য তারকা এবং রাত্রে চর্মচক্ষে দৃশ্যমান লক্ষ কোটি নক্ষত্র সবই মহাকাশের প্রথম স্তর তথা প্রথম আকাশ (ও বিশেষ মাধ্যাকর্ষণের) বৃত্তের মধ্যে অবস্থিত। আল কোরআনেও বিজ্ঞানীদের মহাকাশ সম্পর্কে দেয়া উক্ত বিবরণ এবং তথ্যের ব্যাপারে সমর্থন পাওয়া যায়। কোরআনও বলছে, আকাশের সংখ্যা সাতটি এবং মহান আল্লাহ আকাশ পৃথিবী এবং মহাকালের যা কিছু আছে তা যথাস্থানে তিনিই তৈরি করে রেখেছেন। এসব সৃষ্টিই মানুষের কল্যাণের জন্য। দেখুন সূরা নূরঃ ১৫-১৭, সূরা ইয়াছিনের ঃ ৩৮-৪১, সূরা ফাতের ঃ ১, সূরা কিয়ামাই ঃ ৮-৯ ও সূরা জিনের ৮ম ইত্যাদি আয়াত ও তার নির্ভর যোগ্য তাফসীর। নূরনবী (দঃ)-এর মিরাজ ভ্রমণ বা গমন হয়েছিল আজ হতে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে। চন্দ্র মাস মাহে রজবের সাতাশ তারিখ রাতে তার এই মোবারক ও মহাসফর হয়েছিল মহান আল্লাহর অসীম কুদরতী শক্তির মাধ্যমে বোরাক নামক বাহনে আরোহণ করে। বোরাক আরবী বারকুন শব্দ হতে নির্গত। যার শাব্দিক অর্থ বিদ্যুৎ। কিন্তু উল্লেখিত বোরাক এর শক্তি আমাদের পরিচিত বিদ্যুতের চাইতেও কোটি কোটি গুণ বেশি শক্তি সম্পন্ন ছিল। এর মাধ্যমে হুজুর (দঃ) প্রথম হতে সপ্তমাকাশ পর্যন্ত পৌঁছেন এবং সপ্তম আকাশের সীমার চূড়ান্ত রেখা হতে রফরফ নামক এক কুদরত বাহনে আল্লাহ তায়ালার আরশে আজীম পর্যন্ত পৌঁছেন। আল্লাহর সঙ্গে একান্তে যে কথা হয় তার নিযার্স হল সালাত বা নামাজের তাশাহুদের অর্থ এবং কার্যতঃ নামাজ পাঁচ ওয়াক্ত এ সময় ফরজ করা হয়। যা প্রত্যেক বয়স প্রাপ্ত তথা শরীয়তের মতে বালেগ মুমিন মুসলিমের নর নারীর জন্য ফরজ-অবশ্য পালনীয় এবাদত। মহানবী (দঃ) তাঁর এই মিরাজ সফরকালে প্রতিটি আকাশেই এবং যাত্রা ও প্রত্যাবর্তনকালে আল্লাহর সৃষ্ট বহু কিছুর কুদরতী নিদর্শন দেখেছেন। তার এই মহাপবিত্র মিরাজের সফরে বোরাকে সঙ্গী ছিলেন মহাশক্তিধর ফেরেশতা হযরত জিব্রাঈল (আঃ)। তবে তিনি সপ্তকাশের শেষ সীমা পর্যন্তই রাসূল (দঃ)-এর সাথে ছিলেন।

মহানবী (দঃ) মিরাজের এই ঐতিহাসিক মহা ঘটনার সফর অতি অল্পক্ষণের মধ্যেই শুরু ও শেষ হয়েছিল। যা সাধারণ মানুষের কথা বাদ দিলেও আধুনিক বিজ্ঞানের মহাকাশ সংশ্লিষ্টদের বিস্ময়ের বিষয়, কিন্তু মহা শক্তিশালী আল্লাহর কুদরত, শক্তি ও ক্ষমতার ব্যাপারে যারা আল-কোরআনের বর্ণনানুসারে বিশ্বাসী, তাঁরা এই মহা মি'রাজের ঘটনা থেকে যুগে যুগে শিক্ষা লাভ করতে থাকবে। মহাকাশ বিজ্ঞান ১৯৫৭ সালে স্পুটনিকের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৭ সালে মীর ও পাথফাইন্ডারের মত যন্ত্র মঙ্গল গ্রহে পাঠায়। বর্তমান বিজ্ঞানের কল্যাণে মনুষ্য তৈরি মহাশূন্যযান প্রতি ঘন্টায় ৩৭২০০ মাইল বেগে উৎক্ষিপ্ত হয়ে মধ্যাকর্ষণের বাইরে তেজস্ক্রিয় স্তর অতিক্রম করে মঙ্গলগ্রহের কাছাকাছি গিয়ে পৌঁছেছে। আর সর্বশক্তিমান আল্লাহ প্রিয় হাবিব মহাশূন্য ভ্রমণের জন্য বোরাক নামে বাহন প্রেরণ করেছিলেন যার গতিবেগ ছিল নির্ণিত আলোর গতি বেগের চাইতেও শত সহস্র গুণ বেশি। (বৈজ্ঞানিকদের পরিমাপে আলোর গতিবেগ সেকেন্ডে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার মাইল) সর্বশক্তিমান আল্লাহ তায়ালার জ্ঞান-বিজ্ঞানের অসীম পরিধি মানুষের হিসাব বিজ্ঞানের বেষ্টনিতে আবদ্ধ নয়।

রাসুলুল্লাহ্ (দঃ)-এর ইসরা নৈশ ভ্রমণের জন্য যে বাহন ব্যবহৃত হয়েছিল তার একটির নাম বোরাক ও অপরটির নাম রফরফ। বোরাক শব্দটি 'বরাক্ব' শব্দ হতে বুৎপন্ন-যার এক অর্থ বিদ্যুৎ (ঊষবপঃৎরপরঃু)। আমরা সকলেই অবগত আছি যে, আমাদের মত রক্ত-মাংসে গড়া সাধারণ মানুষ কোন দুর্বিপাকে বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসা মাত্রই ভষ্মীভূত হয়ে প্রাণ হারাতে বাধ্য। অথচ রসুলুল্লাহ্ (দঃ) সেই বিদ্যুতে আরোহণ করেই সপ্ত আকাশ এবং অনন্তলোক পরিভ্রমণ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসলেন। এটা কিভাবে সম্ভব? এই জিজ্ঞাসার জবাব পবিত্র কোরআন এবং হাদিসেই বিদ্যমান।

হযরত মুহাম্মদ মুস্তফা (দঃ) দৃশ্যত আমাদের মতো জড়দেহী মানবরূপে দেখা গেলেও, প্রকৃতপক্ষে তিনি জড়ধর্মী ছিলেন না। মহান আল্লাহ পাকের পবিত্র নূর (জ্যোতি) হতেই হযরত মুহাম্মদ (দঃ) এর সৃষ্টি। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে ক্বাদ-জা-আকুম মিনাল্লাহে নূরুন ওয়া কিতাবুন মুবীন। [সূরা মায়েদা-আয়াত-১৫]

অর্থাৎ নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট এসেছে আল্লাহর নূর এবং তার কিতাব। অপরদিকে সহীহ্ হাদিস শরীফ পাঠে জানা যাচ্ছে হুযূর (দঃ) বলেছেন, আউয়ালু মা খালাকাল্লাহু নূরী অর্থাৎ আল্লাহর সর্বপ্রথম সৃষ্টি আমার নূর। অপর এক হাদীসে বলেছেন, 'আনা নূরুল্লাহে ওয়া কুল্লু শাইইন মিন নূরী অর্থাৎ আমি আল্লাহর নূর এবং সমুদয় বস্তু আমার নূর হতে সৃষ্ট।

পৃথিবীর সৃষ্ট সকল পদার্থের মূলেই রয়েছে বিদ্যুৎ বা জ্যোতি। বিজ্ঞানের (গড়ষবপঁষধৎ ঃযবড়ৎু) তে বলা হয়েছিল পদার্থকে ক্ষুদ্র হতে ক্ষুদ্রতর অংশে বিভাজন করে সর্বশেষ যে অবিভাজ্য অংশটি পাওয়া যায় তাকে বলা হয় গড়ষবপঁষধৎ যা আর ভাগ করা যায় না কিন্তু বৈজ্ঞানিক উধষঃড়হ এ গড়ষবপঁষধৎ কে বিভাজন করে যে ক্ষুদ্রতম অংশ বের করলেন তার নাম দেওয়া হল অঃড়স দুই বা ততোধিক অঃড়স এর সমন্বয়েই গঠিত হয় একটি গড়ষবপঁষধৎ কিন্তু পরবর্তীকালে ঞযড়সংড়হ, জঁঃযবৎভড়ৎফ সহ কতিপয় বৈজ্ঞানিক ঘোষণা করলেন প্রতিটি পদার্থের মূলেই রয়েছে বিদ্যুৎ ঊষবপঃৎরপরঃু এবং এক একটি অঃড়স কণার মধ্যে রয়েছে একাধিক সূক্ষ্ম বিদ্যুৎ কণা বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এর নাম ঊষবপঃৎরপরঃু ও চৎড়ঃড়হ. ঊষবপঃৎরপরঃু হচ্ছে ঘবমধঃরাব ঋণাত্মক এবং চৎড়ঃড়হ হচ্ছে ধনাত্মক চড়ংরঃরাব বিদ্যুৎকণা এবং এই ইলেকট্রন এবং চৎড়ঃড়হ হচ্ছে সমস্ত সৃষ্টির মূল মৌলিক উপাদান।

শুধুমাত্র জড় পদার্থ জগৎ, প্রাণী জগৎ নয়, উদ্ভিদ জগতেও এ বিদ্যুৎ বা জ্যোতির খেলা চলছে নিরন্তর। বাঙালী বৈজ্ঞানিক স্যার জগদীশ চন্দ্র বহু পূর্বেই প্রমাণ করেছেন্ উদ্ভিদেরও প্রাণ আছে এবং উদ্ভিদ ও সংবেদনশীল। সম্প্রতি ঈবষষ ঢ়যড়হব সহজলভ্য এক অত্যাশ্চর্য বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার। এটিতে যে সংবেদশীল বৈদ্যুতিক ব্যাটারী ব্যবহৃত হয় তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর নতুনভাবে বৈদ্যুতিক চার্জ করে নিতে হয়। সূরা হা-মীম আস সাজদাহ'র ৪টি আয়াতে যে কয়েকটি তথ্য আছে তার মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে মহাশূন্য জগতের প্রাথমিক অবস্থায় অনু-পরমানু দ্বারা গঠিত ঘন গ্যাস জাতীয় অবস্থার বর্ণনা। আর আল্লাহর প্রিয় হাবিব (দঃ) বলেছেন আউয়ালু মা খালাকাল্লাহু নূরী। অর্থাৎ আল্লাহর প্রথম সৃষ্টি আমার নূর বা জ্যোতি। আধুনিক বিজ্ঞানের মতে বিশ্ব সৃষ্টির পূর্বে তা একটি জমাট জ্যোতিপিন্ড বা অগি্নগোলক ছিল যাতে মহাবিশ্বের সমস্ত শক্তি পদার্থে পরিপূর্ণ ছিল। এ গোলক বিস্ফোরণের ফলে এর কিয়দংশ বিক্ষিপ্ত হয়ে ক্রমান্বয়ে সম্প্রসারিত ও শীতল হয়ে মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানের এই মতবাদ বিগ ব্যাংগ থিয়োরি হিসেবে খ্যাত। সর্বশক্তিমান আল্লাহ্ কোরআনের সূরা যারিয়াত-আয়াত ৪৭ এ ইরশাদ করেছেন এবং নভোমন্ডলকে আমি শক্তি দ্বারা সৃষ্টি করেছি। নিশ্চয়ই আমি সম্প্রসারণকারী।

নোবেল পুরস্কার প্রাপ্ত বিশ্বের খ্যাতিমান মুসলিম বৈজ্ঞানিক প্রফেসর আবদুস সালামের ঙসবমধসরহধং ঞযবড়ৎু এর মতে বিশ্ব ভ্রহ্মান্ডের সমস্ত সৃষ্টির (পদার্থের) মূলে রয়েছে চারটি পাওয়ার বল। তা হচ্ছে ১. প্রোটন ২. ফ্রোটিন ৩. ইলেকট্রন ৪. নিউট্রন। এর সমস্ত কিছুর মূলেই কিন্তু জ্যোতি বা বিদ্যুৎ। বিজ্ঞানীগণ এখনো এই জ্যোতির স্তরসমূহের ব্যাপারে তাদের নতুন নতুন গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। বিজ্ঞানীগণ মহাবিশ্বের অনন্তলোক সম্পর্কে গবেষণা করতে গিয়ে জানতে পেরেছেন প্রতিনিয়তই মহাশূন্যের অজ্ঞাত অনন্তলোক হতে একটি জ্যোতি মহাবিশ্বের সর্বত্রই ঠিকরে পড়ছে। তাঁরা এর নাম দিয়েছেন ঈড়ংসরপ জধফরধঃরড়হ বা মহাজাগতিক রশ্মি। এই ঈড়ংসরপ জধফরধঃরড়হ মহাকাশের অসীম অনন্তলোকের সকল চৌম্বুক ক্ষেত্র, গ্যাস বলয়, ঊষবপঃৎড়হ, চৎড়ঃড়হ, ঋৎড়ঃড়হ, ঘবঁঃৎড়হ ও অঃড়সরপ ৎধু ইথার ইত্যাদি ভেদ করেই ভূমগুলো প্রবেশ করছে। আধুনিক বিজ্ঞানের গবেষণায় এখনো এর উৎস আবিষ্কৃত না হলেও এই জ্যোতি কোথা হতে আসছে এবং উৎস কি তা ইসলামী জগতের অন্তঃদৃষ্টিসম্পন্ন আউলিয়া কেরাম, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অনুসারী বুজুর্গানেদ্বীন ওলামায়ে কেরাম হৃদয়ঙ্গম করতে সক্ষম।

হুযুর করিম (দঃ) এর জ্যোতিবিম্ব বা নূর এর পার্থিব বিকাশ ছিল। জাগতিক নশ্বর দেহ (মুবারক) বিজ্ঞানীদের ভাষায় ডড়ৎষফষু ধঢ়ঢ়বৎবহপব ড়ৎ ধঢ়ঢ়বধৎধহপব রহ ঢ়যুংরপধষ ড়িৎষফ নির্ভরযোগ্য হাদীসগ্রন্থ হতে জানা যায়-১. হুযূর করিম (দঃ)-এর দেহ মোবারকের কোন ছায়া বা প্রতিবিম্ব ছিল না। ২. হুযূর করিম (দঃ) এর সামনে এবং পেছনে আলোতে এবং অন্ধকারেও সমদৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন এবং দেহ মোবারকের কোন ভরত্ব ছিল না।

আধুনিক বিজ্ঞানের তথ্য, তত্ত্ব, উপাত্ত ও থিয়োরীসমূহ বিশ্লেষণেও প্রমাণিত হয় যে, সরকারে দো-আলম হুযূর করিম (দঃ)-এর শরীর মোবারক (ঢ়যুংরপধষ নড়ফু) এর সাথে সার্বক্ষণিক সংশ্লিষ্ট ছিল জ্যোতি দেহ (অংঃৎধষ নড়ফু) থিওসফীর ভাষায় তাকে বলা হয় ঊঃযবৎরপফড়ঁনষব (ইথারিক ডবল) এবং ফলে অনন্ত নভোমন্ডলের সর্বশেষ শেয সীমায় লা-মকাম বা অনন্ত শূণ্যে ভ্রমণ সম্ভব হয়েছিল সম্পূর্ণ সচেতন অবস্থায় শারিরীকভাবে। প্রশ্ন মি'রাজ সম্পর্কে বর্ণিত সুদীর্ঘ ভ্রমণ, এত ব্যাপক বিষয়াদির দর্শন লাভ এবং রাতের কিয়দংশের মধ্যের কিভাবে সম্ভব হতে পারে? যেখানে প্রত্যেকটি আসমান অতিক্রম করতেই এক হাজার বৎসর আবশ্যক।

উলি্লখিত আপত্তির খন্ডন পবিত্র কোরআন মজীদের সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত-১ এ একটি মাত্র শব্দের মাধ্যমেই করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার যুগে এ ধরণের প্রশ্ন হাস্যকরও বটে।

বিজ্ঞানীরা জ্যোতি বা আলোর উৎস, গতি-প্রকৃতি সম্পর্কে গবেষণা করতে গিয়ে দেখতে পান আলো বা জ্যোতি অতীব সূক্ষ্ম জ্যোর্তিবিন্দু নিয়ে গঠিত এবং এটা যে কোন বাধাকে অতিক্রম করে তরঙ্গায়িত হয়ে চলে।(ঘবঃিড়হ্থং পড়ৎঢ়ঁংপঁষধৎ ঃযবড়ৎু ড়ভ ষরমযঃ) আলোক বা জ্যোতি সম্পর্কে জানতে গিয়ে বৈজ্ঞানিকরা আবিষ্কার করলেন ইথার এর। কোন শব্দকে বিদ্যুতায়িত করে ইথারে ছড়িয়ে দেয়া হলে ইথার তরঙ্গের মাধ্যমে তা মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে। আলোক তরঙ্গের গতিকে পরিমাপ করতে গিয়ে ৩টি তরঙ্গ স্তর আবিষ্কৃত হল যা যথাক্রমে খাটো তরঙ্গ ঝযড়ৎঃ ডধাব মাধ্যম তরঙ্গ গবফঁস ডধাব এবং লম্বা তরঙ্গ খড়হম ডধাব। এ আবিষ্কার এর ফলেই প্রচলিত হল জধফড় (রেডিও) পরবর্তীকালে আরো উন্নত যন্ত্র ঞৎধহংরংঃধৎ এবং এই গবেষণা হতেই বর্তমান যুগের ছঁধহঃঁস ঞযবড়ৎু এর সূত্রপাত। ছঁধহঃঁস ঞযবড়ৎু মূল বিষয় রশ্মি তরঙ্গ (চযড়ঃড়হং) এর উপর ভিত্তি করে বর্তমান যুগের সর্বত্র প্রচলিত ঞবষরারংরড়হ এর আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে। বিশ্বের যে কোন প্রান্তের যে কোন ঘটনা চিত্রায়িত করে সূক্ষ্ম বিন্দু (উড়ঃ) আকারে ইথারে ছড়িয়ে দেয়া মাত্র বিশ্বের অপর প্রান্তে থাকা গ্রাহক যন্ত্রে (ঞঠ) তা মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্ফুটিত হয়ে উঠে। এখানে আলোর গতি কে সময় (ঞরসব) কোন ভাবে বাধাগ্রস্ত করে না। পবিত্র মি'রাজের বিশাল ঘটনাপ্রবাহ্ ঘটার সময় ও কাল সম্পর্কে সংশয়বাদীদের সকল সংশয় বিজ্ঞান দূরীভূত করে দিচ্ছে। আধুনিক বিজ্ঞানের মতে সময় আমাদের একটি কল্পনা বা খেয়াল। সময়ের কোন স্থিরতা নেই। যে হিসেবে আমরা বিশ্বের কোন ঘটনাকে নির্ণয় করি; প্রকৃতি সে হিসেবের ধার ধারে না। সব চাইতে বড় কথা মহান আল্লাহ্ পাকের কুদরতের সামনে আমাদের ঘড়ি তুচ্ছ। এই জন্যে বিশ্ববিখ্যাত বৈজ্ঞানিক আধুনিক বিজ্ঞানের জনক আইনস্টাইন বলেছেন, স্ট্যান্ডার্ড টাইম ঝঃধহফধৎফ ঃরসব বলে কোন টাইম নেই সকল টাইম ই লোকাল টাইম।

সময় এবং গতি সম্পর্কে উপরোলি্লখিত বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের তথ্য উপাত্ত মতেই হুজুর করিম (দঃ) এর নভোমন্ডল ভ্রমণ একটি বাস্তব ঘটনা এবং সময়ের বিশ্লেষণে হুজুর করিম (দঃ) আকাশলোকে, জান্নাত, জাহান্নাম, আরশ, কুরছি, সিদরাতুল মোনতাহা ইত্যাদি ভ্রমণ শেষে আবার ফিরে এসে নবী করিম (দঃ) এর অজুর পানি গড়িয়ে যেতে দেখাও বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ হতে বাস্তব বলে প্রমাণিত।

কিন্তু নূরনবী (দঃ)-এর মি'রাজের সফরের কোটি ভাগের এক ভাগও কেয়ামত পর্যন্ত মানুষ পৌঁছতে পারবে না। কারণ তারা এখনও প্রথম আকাশেই সম্পূর্ণ সফল হয়ে উঠেনি। মিরাজ ও মহাকাশ সম্পর্কে জানার কৌতূহলী পাঠকের জন্য বলছি-সূরা বনী ইসরাঈলের ১ম সূরা নজমের ১-১৮ আয়াত ও তার নির্ভরযোগ্য তাফসীর পাঠ করতে পারেন।

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীএপ্রিল - ২৭
ফজর৪:০৮
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৮
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:২৮সূর্যাস্ত - ০৬:২৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯১৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.