নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯
জনতার মত
তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা
মো. ওসমান গনি
স্বাস্থ্যসেবা এটি একজন মানুষের মৌলিক অধিকার। আর এই মৌলিক অধিকারটি দেশের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য বর্তমান সরকার জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।কিন্তু কতিপয় দুর্নীতিবাজ লোকের কারণে সরকারের গৃহীত জোরালো পদক্ষেপ জলে ভাসতে শুরু করছে। দেশের তৃণমূল পর্যায়ের সকল মানুষ যাতে শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা পায় সেই জন্য বর্তমান সরকার জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে। এমন কি ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো কাগজপত্রে ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন এমবিবিএস নিয়োগ থাকলেও দেশের অধিকাংশ কেন্দ্রে তারা উপস্থিত থাকে না। তারা তাদের সুবিধার্থে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অবস্থান করে থাকে। প্রয়োজনীয় মনিটরিং এর অভাবে তাদের বিরুদ্ধের কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছে না। যার কারণে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ আজ ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে যে সমস্ত হাসপাতাল ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার গড়ে উঠছে তারা তাদের ইচ্ছামত সেবা দেয়ার নামে টাকা আদায় করে কোটিপতি হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ডাক্তারদের ভূল চিকিৎসার কারণে অনেক মানুষের অকালে প্রাণ ঝড়ে যাচ্ছে।সমপ্রতি কুমিল্লা মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে এক মহিলা ডাক্তার এক রোগীর সিজার করানোর সময় মহিলার পেটের বাচ্চা দুই খন্ড করে ফেলে এমন কি ঐ মহিলার জরায়ুও কেটে ফেলে। যা নিয়ে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ ছাপা হয়। সমপ্রতি সারাবিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের দেশেও পালিত হয়ে গেল বিশ্বস্বাস্থ্যদিবস। প্রতি বছর ঘটা করে স্বাস্থ্যদিবস পালন করা হলেও আমাদের দেশে দুর্নীতির কারণে তা শতভাগ সফল হচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুয়ায়ী, চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে দেশে প্রতি বছর সর্বস্বান্ত হচ্ছে ৬৪ লাখ মানুষ। ১৫ শতাংশ পরিবার অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। বাড়ছে ডাক্তারের ফি, পরীক্ষা নিরীক্ষার ফি, ওষুধের দাম। যে কারণে গরিব-নিঃস্ব পরিবারগুলোতে যেমন চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে, তেমনি সচ্ছল মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষেও চিকিৎসা ব্যয় মেটানো কষ্টদায়ক হয়ে উঠেছে। মানুষ চিকিৎসা করাতে গিয়ে রীতিমতো জমিজমা, ভিটেবাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। প্রাইভেট চেম্বার অথবা বেসরকারি হাসপাতালেই শুধু নয়, সরকারি হাসপাতালেও চিকিৎসা ব্যয় বাড়ছে। সেই সঙ্গে আছে দুর্নীতি, অনিয়ম, অপচিকিৎসা। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে রোগীরা ডাক্তারের শরণাপন্ন হতেই ভয় পাবে, এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞগণ। দেশের স্বাস্থ্যখাতে দুরবস্থার চিত্র নতুন নয়। একে তো প্রয়োজনের তুলনায় বরাদ্দ নিতান্তই কম, তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজরদারির অভাব, অবহেলা, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণেই হাসপাতালগুলো থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিবিধ সমস্যাদি সৃষ্টির জন্য শুধু চিকিৎসকদের পেশাগত অবহেলাই যে দায়ী থাকে তা নয়, বরং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা, দুর্নীতি ও ভ্রান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং ব্যবসায়ীদের অধিকতর মুনাফালোভী মনোভাবই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী। অথচ এসব সমস্যা নিরসনে আজ পর্যন্ত কোন রকম কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। বিষয়টি দুঃখজনক। বাংলাদেশে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগ প্রচুর। শহর এলাকা ছাড়া অন্যান্য স্থানে মানসম্মত চিকিৎসা দেয়া হয় না। আজকাল চিকিৎসায় ওষুধের খরচ অনেক বেশি। যে যেভাবে পারছে জীবন রক্ষাকারী অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম বাড়াচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে কোন নিয়ন্ত্রণ নেই, মনিটরিংও নেই, ওষুধ প্রশাসন নির্বিকার ভূমিকা পালন করছে। ওষুধ কোম্পানি ও ডাক্তারদের মধ্যে বেশ কিছু সিন্ডিকেট তৈরি হয়ে গেছে যারা অনৈতিক অভ্যাসে জড়িয়ে পড়েছে। প্রেসক্রিপশনে বেশি ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ করতে হবে। ওষুধের দাম বৃদ্ধির অবৈধ সিন্ডিকেট ভাঙতে নজরদারি বাড়াতে হবে।চিকিৎসা প্রদান করা চিকিৎসকদের নৈতিক দায়িত্ব এবং চিকিৎসা পাওয়া জনগণের মৌলিক অধিকার এ কথাটা যেমন সত্যি, তেমনি এটাও সত্য যে, চিকিৎসা ব্যয় জনগণের সহনীয় পর্যায়ে থাকলেই শুধু চিকিৎসাসেবা জনগণের কাছে সহজলভ্য হতে পারবে। বাংলাদেশের মানুষ নিজের পকেট থেকে অনেক টাকা খরচ করে চিকিৎসার জন্য। ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে হলে সরকারকে সকল নাগরিকের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হবে। এর জন্য বীমা পলিসি সহায়তা করতে পারে। স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বরাদ্দ বাড়াতে হবে। চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল ব্যাপক হারে বাড়াতে হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙ্কে কার্যকর করতে হবে এবং রেফারাল সিস্টেম চালু করতে হবে। চিকিৎসা ব্যয় হরাস করতে হলে ওষুধের প্রস্তুতকরণ ব্যয়, হাসপাতাল ও রোগ নিরূপণী কেন্দ্রসমূহের স্থাপনা ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমাতে হবে এবং এ পদক্ষেপগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেখতে হবে। দেশের মানুষের শতভাগ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে শুধু সরকারের ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। প্রথমে আমাদের সকলের মনমানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে।আর বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা হাসপাতাল ও ডায়গনষ্টিক সেন্টার গুলোকে সত্যিকারের মানবসেবার মনমানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। ডাক্তারদের ওষুধ কোম্পানি ও ডায়গনষ্টিক সেন্টারের সাথে অলিখিত কমিশন চুক্তি বন্ধ করতে হবে।

মো. ওসমান গনি : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৯
ফজর৫:১৫
যোহর১১:৫৬
আসর৩:৪০
মাগরিব৫:১৯
এশা৬:৩৬
সূর্যোদয় - ৬:৩৫সূর্যাস্ত - ০৫:১৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬১০৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.