নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ৩ বৈশাখ ১৪২৫, ২৮ রজব ১৪৩৯
টঙ্গীতে ট্রেন লাইনচ্যুত নিহত ৫ আহত ৫০
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর ও টঙ্গী প্রতিনিধি
গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেন দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে ৪ জন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়ার পর আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া একই ঘটনায় আরও অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে টঙ্গী রেল স্টেশনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। টঙ্গীর স্টেশন মাস্টার জানিয়েছেন, ঐ ঘটনায় পর উত্তরবঙ্গের সাথে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও বিকেল সাড়ে ৪টায় যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

এদিকে দুর্ঘটনা কারণ অনুসন্ধানে ৪ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলমন্ত্রী মজিবুল হক, রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, স্থানীয় সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জানা গেছে, স্থানীয় নতুন বাজার এলাকায় জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী কমিউটার ট্রেনটি লাইন পরিবর্তনের পয়েন্টে লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। গতকাল দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ট্রেনটি টঙ্গী রেল স্টেশন ছেড়ে ঢাকার কমলাপুরের দিকে যাচ্ছিল। ১২ বগির ৭টি বগি ১ নং পয়েন্ট লাইন থেকে বেড়িয়ে গেলেও অবশিষ্ট ৫টি বগি ভুল লাইন পরিবর্তনের কারণে লাইন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় মৃত ব্যক্তিরা হলেন আফিল উদ্দিন (৩৫), আমির হোসেন (৪২), শাহাদৎ হোসেন (৪০) ও বিপ্লব (৩৬)।

আহতদের টঙ্গী হাসপাতাল ছাড়াও ঢামেক হাসপাতাল নেয়া হয়েছে। ঢামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, টঙ্গীতে ঐ দুর্ঘটনার পর দুপুর দেড়টার দিকে আহত ৬ জনকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তাদের মধ্যে শাহদাত হোসেন (৩৫) নামের একজনকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত ডাক্তাররা। শাহদাত হোসেনের বাড়ি ময়মনসিংহ।

এছাড়া বাকি ৫ জন আহতরা হলেন- বাদল (২৮), সবুজ (৪০), ইসরাফিল (১২), আলমগীর (৩২) এবং ফরিদ (২৮)। ডাক্তারের বরাত দিয়ে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ বঙ্রে ইনচার্জ এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, আহতদের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত।

নিহত বাদলের ভাগ্নে আমিরুল ইসলাম বলেন, আমরা (বাদলসহ) একই ট্রেনে ঢাকা আসছিলাম। তবে টঙ্গীর কাছে ট্রেনটি দুর্ঘটনাকবলিত হলে মামা লাফ দিয়ে নিচে নেমে যান। তখনি তিনি আহত হন। মামা পেশায় রিকশা চালক ছিলেন।

ট্রেনের আহত যাত্রী লিয়াকত আলী, নজরুল ইসলাম ও আব্দুল বাতেন জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে ভোর ৪টার দিকে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। লোকাল এ ট্রেনটি প্রতিটি স্টেশনে যাত্রা বিরতী করে আসায় ভেতর ও ছাদে যাত্রীদের ভীড় ছিলো অত্যধিক। অধিকাংশ যাত্রী স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী খেটে খাওয়া মানুষ হওয়ার কারণে তারা সাধারণত ছাদে অল্প ও বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করে থাকেন। হতাহতদের প্রায় সবাই রাজধানীতে রিকশাচালক, মাটিকাটা শ্রমিক ও ইটভাঙ্গা শ্রমিক ছিলেন।

তারা আরো জানান, ট্রেনটি টঙ্গী রেল স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কয়েক মিনিট পরেই হঠাৎ ঝাঁকুনি দিয়ে পড়ে যেতে থাকে। এতে ভীত হয়ে ছাদের যাত্রীরা নিচে লাফিয়ে পড়তে গিয়ে হতাহত হয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় নতুন বাজার, স্টেশন রোড, মধুমিতারোড ও আরিচপুর এলাকা থেকে লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। এ সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তাদের সাথে যোগ দিয়ে নিহতদের লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে। আহতদের টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাষ্টার জেনারেল হাসপাতাল, ঢামেক ও পঙ্গু হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনার পরপরই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর টঙ্গী রেল স্টেশনে গিয়ে দেখা যায় স্টেশন মাষ্টারের কক্ষ, টিকিট কাউন্টারসহ অন্যান্য কক্ষগুলো ফাঁকা। বেলা পৌনে ২টার দিকে সহকারী স্টেশন মাষ্টার কবীর হোসেন ও পয়েন্টস ম্যান মো. আলমগীর কর্মস্থলে এসে পৌঁছান।

তারা জানান, দুর্ঘটনার সময় সহকারী স্টেশন মাষ্টার আব্দুর রাজ্জাক দায়িত্বে ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, সম্ভবত ট্রেনটি নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করার আগেই পয়েন্ট লাইন পরিবর্তন করা হয়েছে। এ কারণে ট্রেনের কিছু অংশ ১ নং লাইনে এবং কিছু অংশ ২ নং লাইনে চলে যায়। যাত্রীরা ভয়ে লাফালাফি করে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন। দুর্ঘটনার ঘণ্টাখানেক পর ৭টি বগিসহ ইঞ্জিন ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বিকেল ৪টায় স্টেশন মাষ্টার হালিমুজ্জান স্টেশনে আসার পর বলেন, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক, তদন্ত করে এর সঠিক কারণ জানা যাবে।

দুর্ঘটনা সম্পর্কে কমলাপুর রেল স্টেশনের (জিআরপি) ওসি ইয়াসিন ফারুক জানান, ক্রসিংয়ের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা আতঙ্কে ছাদ থেকে লাফ দিলে ট্রেনে কাটা পড়েন।

বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি)'র চীফ ইন্সপেক্টর (সিআই) মজিবুর রহমান জানান, দুপুর ১টা ২০ মিনিটের সময় জামালপুর থেকে ছেড়ে আসা কমিউটার ট্রেনটি টঙ্গীতে লাইনচ্যুত হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আতিক জানান, লাইন পরিবর্তনের সময় ঢাকাগামী জামালপুর কমিউটার ট্রেনের পেছন থেকে পাঁচটি বগি লাইনচ্যুত হয়। তখন আতঙ্কিত হয়ে ছাদ থেকে অনেকে লাফিয়ে পড়েন। ১০ থেকে ১৫ জনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

জয়দেবপুর রেলওয়ে ফাঁড়ির এসআই মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, গতকাল রোববার টঙ্গীর নতুনবাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ট্রেনটির ৪টি পেছনের বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর গতির কারণে ঐ অবস্থায় ট্রেনটি কয়েকশ গজ এগিয়ে যায়। একপর্যায়ে দুটি বগি কাত হয়ে যায়।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি মো. ইয়াসিন ফারুখ জানান, ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার পর ছাদে থাকা যাত্রীরা লাফিয়ে পড়লে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয় এবং আরও বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৭ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর মো. শাহাদাত (৩৮) নামে আরও একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন বলে মেডিকেল ফাঁড়ির এএসআই বাবুল মিয়া জানান।

কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন জানান, দুর্ঘটনার পর লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ এবং বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে উত্তর ও দক্ষিণ বঙ্গের সাথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিকেল সাড়ে ৪টায় রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীএপ্রিল - ২৭
ফজর৪:০৮
যোহর১১:৫৭
আসর৪:৩২
মাগরিব৬:২৮
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:২৮সূর্যাস্ত - ০৬:২৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৯১৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.