নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ শাবান ১৪৩৯
মার্কিন-চীন বাণিজ্য যুদ্ধ
সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা
মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর মার্কিন-চীন সম্পর্কে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অপ্রত্যাসিত ফলাফলে ট্রাম্প প্রশাসন ৪৪ বছরের চীন নীতি থেকে সরে এসেছে। বস্তুত তাইওয়ানকে চীনের অখ- অংশ মনে করার নীতিই 'এক চীন নীতি'। ১৯৭২ সালে চীনের চেয়ারম্যান মাও সে তুং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের মধ্যে 'এক চীন নীতি'র প্রতি মার্কিন সমর্থনের ব্যাপারে ঐকমত্য হয়। এরপর থেকে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সাথে কথা বলেননি। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে তাদের সে অবস্থানের ইতি ঘটিয়েছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। ফলে মার্কিন-চীন সম্পর্কের টানাপড়েনের পারদ আরও গতি পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র মূলত তিন কারণে এক চীন নীতি সমর্থন করে এসেছে। প্রথমত, বেইজিংয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক, দ্বিতীয়ত, তাইওয়ানকে রক্ষা ও সহযোগিতা করে গণতন্ত্রের পথ রক্ষা এবং তৃতীয়ত, যুদ্ধ পরিস্থিতি এড়িয়ে চলা। ১৯৭২ সালে মাও-রিগ্যান সমঝোতার সাথে সঙ্গতি রেখে ১৯৭৯ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ৪৪ বছরে তাইওয়ানের ব্যাপারে চীনের অবস্থানকে সম্মান জানিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। ৪৪ বছরের সেই রীতি ভেঙে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন-এর সঙ্গে ফোনে কথা বলে বিতর্কের ঝড় তুলেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু সকল বিতর্ক ছাপিয়ে মার্কিন-চীন এখন মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। যা সর্বাত্মক সামরিক সংঘাতে রূপ না নিলেও যে বাণিজ্য যুদ্ধের যে একটা অশুভ ইঙ্গিত বহন করে তা মোটামোটি নিশ্চিত করেই বলা যায়।

একথা বললে অত্যুক্তি হবে না যে, একবিংশ শতাব্দীতে এসে বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে চীন। গণচীনের এই অগ্রযাত্রা ও উত্থান যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্রদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এর যৌক্তিকতার বিষয়টিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। খুব সঙ্গত কারণেই চীনের প্রতি নরম-গরম নীতি চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। একদিকে বাণিজ্য যুদ্ধ এড়াতে আলোচনা, অন্যদিকে দক্ষিণ চীন সাগরে সামরিক তৎপরতার পরিণতি সম্পর্কে চীনকে সতর্ক করে দিচ্ছে ওয়াশিংটন। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের বেড়ে চলা সামরিক তৎপরতা গোটা অঞ্চলে মাথাব্যথার কারণ। কিন্তু সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে ক্রম অগ্রসরমান চীন যুক্তরাষ্ট্র সহ কোন উদ্বেগকে মোটেই পাত্তা দিতে রাজি নয় বরং দেশটি আপন গতিতেই এগিয়ে চলেছে।

ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও আপত্তির মধ্যেই চীন এবার দক্ষিণ চীন সাগরে জাহাজ ও বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। যা যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের পশ্চিমী মিত্রদের বেশ ভাবিয়ে তুলেছে। মার্কিন টেলিভিশন কেন্দ্র সিএনবিসি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে উদ্ধৃত করে এই দাবি করেছে। সম্প্রতি স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জের ফায়ারি ক্রস রিফ, সুবি রিফ ও মিসচিফ রিফে এই সব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে বলে সেই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিয়েতনাম ও তাইওয়ানসহ এশিয়ার কয়েকটি দেশ বিতর্কিত সেই দ্বীপপুঞ্জের দাবিদার। চীন অবশ্য সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে সেখানে নিজস্ব অধিকার প্রতিষ্ঠা করে আসছে। সরাসরি এই দাবি সম্পর্কে মন্তব্য না করলেও হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারা সান্ডার্স সামগ্রিকভাবে সেই অঞ্চলে চীনের সামরিক তৎপরতা সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, এ বিষয়ে চীনের কাছে সরাসরি উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

অবশ্য চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো এই দাবি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, স্প্র্যাটলি দ্বীপপুঞ্জে চীনের সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো সংশয় নেই। জাতীয় স্বার্থে সেখানে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা যেতেই পারে। তবে কোনো দেশ এই পদক্ষেপের লক্ষ্য নয়। চীনের পক্ষে বলা হয়, যারা আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখাচ্ছে না, তাদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। তবে দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে উভয় দেশে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী জুলাই মাসে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে মার্কিন নেতৃত্বে একাধিক দেশের নৌবাহিনীর যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হবার কথা। সে মহড়ায় চীনকে প্রথমে যোগ দিতে আমন্ত্রণ জানালেও সে দেশের পদক্ষেপের ফলে সেই আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে চীনা নৌবাহিনী এই মহড়ায় যোগ দিয়েছিল। এদিকে এক মার্কিন প্রতিনিধিদল বাণিজ্য নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ মেটাতে বেইজিং-এ আলোচনা চালাচ্ছে। কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও বিরোধ মেটানোর ক্ষেত্রে কোনো বড় সাফল্যের আশা করছে না কোনো পক্ষ।

দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দেশ দু'টির মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরুর একটা সমূহ সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এবং তা বিস্তৃতির বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। মূলত কোন দেশ কোন এক বা একাধিক পণ্য আমদানির উপর কর, শুল্ক বা অন্য কোন আর্থিক বোঝা চাপালে বাকি দেশগুলোও পালটা পদক্ষেপ নিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মতো বিশাল দেশের সংঘাতের জের ধরে গোটা বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্তরে বাণিজ্য যুদ্ধের আকার নিতে পারে। যা নিয়ন্ত্রণ মোটেই সহজসাধ্য হবে বলে মনে হয় না। বিগত শতাব্দীর তৃতীয় দশকে শেষ বাণিজ্য যুদ্ধের জের ধরে 'গ্রেট ডিপ্রেশন' বা বিশাল মন্দা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হুবার সে বছর শুল্ক সংক্রান্ত নতুন আইন কার্যকর করার ফলে ২০ হাজারেরও বেশি পণ্যের উপর শুল্ক চাপানো হয়েছিল।

মার্কিন প্রশাসন দাবি করছে যে, এ ক্ষেত্রে শুধু নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ও দেশের জন্য শুল্ক চাপানো হচ্ছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রতিকূল বাণিজ্য ঘাটতির বিরুদ্ধে শুরু থেকেই তোপ দেগে এসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সমালোচকদের মতে, এমন সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির ফলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের স্বার্থ দেখতে পাচ্ছেন না। কারণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কাঠামো তোলপাড় হয়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই তার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে যাবে, রফতানি কমে যাবে এবং প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক শাস্তিমূলক পদক্ষেপ ঘোষণা করলে বাকি দেশগুলোও হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। কানাডা, মেঙ্েিকা, চীন, জাপান, ব্রাজিল ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে পারে। এমন বাণিজ্য যুদ্ধ এড়াতে দ্বি-পাক্ষিক বোঝাপড়ার চেয়ে বহুপাক্ষিক সমাধানসূত্রের পরামর্শ দিচ্ছেন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা।

আন্তর্জাতিক মহলের সব সাবধানবাণী উপেক্ষা করে ট্রাম্প যদি সত্যি সত্যিই আমদানির উপর বাড়তি শুল্ক চাপান, তার পরিণতি অ্যামেরিকার জন্যও ইতিবাচক হবে না। যেমন, ইস্পাত আমদানির উপর শুল্ক চাপালে অ্যামেরিকার বাজারেও তার মূল্য বেড়ে যাবে। তার ফলে মার্কিন ইস্পাত কোম্পানিগুলোর লাভ হলেও ক্রেতাদের বাড়তি মূল্য গুনতে হবে। যে কোম্পানিগুলো ইস্পাত ব্যবহার করে পণ্য উৎপাদন করে, তাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে। এছাড়া আমেরিকায় ইস্পাত রফতানি করতে না পারলে চীন ইউরোপের বাজারে তা আরও সাশ্রয়ী মূল্যে বিক্রি করার চেষ্টা করতে পারে। স্বাভাবিক বাণিজ্য ব্যাহত হলে এমন আরও দৃষ্টান্ত দেখা যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে এমন অস্বাভাবিক প্রবণতা নানাভাবে সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সামপ্রতিক নানা সংকট কাটিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি যখন সবে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে, তখন নতুন করে এমন বিপদ দুশ্চিন্ত কারণ হয়ে উঠছে। যদিও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন ডবিস্নউটিও সামপ্রতিককালে বিশ্ব বাণিজ্যের বিধিনিয়ম স্থির করে এসেছে এবং বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করেছে। বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু হলে মামলার সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। সব পক্ষ ডাবিস্নউটিও-র রায় না মানলে এই সংগঠন অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। এমন কাঠামো তার কার্যকারিতা হারালে ভবিষ্যতে সেই ক্ষতি পূরণ করা সহজ হবে না।

শেষ পর্যন্ত মার্কিন-চীন যে একটা অনাকাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য যুদ্ধের দিকেই অগ্রসর হচ্ছে তা মোটামোটি সম্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মূলত সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে গত ৩ মে বেইজিংয়ের উপর কড়া শুল্ক আরোপ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে চীনও। তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, আঘাত এলে, চুপ করে বসে থাকবে না তারা। বরং সে ক্ষেত্রে পাল্টা দিতে তারাও তৈরি। আর এই উত্তেজনার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্বের শেয়ার বাজারে। ট্রাম্প এ দিন এই সংক্রান্ত স্মারকলিপি সই করার পরেই হুড়মুড়িয়ে পড়তে শুরু করে আমেরিকার শেয়ার বাজার। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই 'বিশ্বযুদ্ধে' দু'পক্ষ ক্ষান্ত না দিলে, আরও রক্ত ঝরবে বিশ্বের বাজারে। যা কারো জন্যই কল্যাণকর হবে না।

ওয়াশিংটনের দাবি, তারা তদন্তে দেখেছে যে, অবাধ বাণিজ্যের নিয়মকানুনের তোয়াক্কা করে না চীন। যে সমস্ত মার্কিন সংস্থা তাদের দেশে ব্যবসা বা বিনিয়োগ করে, মেধাস্বত্ব সুরক্ষিত রাখার নিয়ম ভেঙে এবং চাপ খাটিয়ে এশীয় দেশটি হাতিয়ে নেয় তাদের প্রযুক্তি। যা সরকারি চোখরাঙানিতে প্রযুক্তি চুরিই। তারা অভিযোগের আঙুল তুলেছে চীনের উঁচু শুল্ক-প্রাচীরের দিকেও। আর এই সব কারণেই ৬ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে চড়া শুল্কের প্রস্তাব। চীনের কটাক্ষ, অবাধ বাণিজ্যে তো দেয়াল তুলছে ট্রাম্পের আমেরিকাই!

বিশ্ব অর্থনীতির দুই মহাশক্তির এই যুদ্ধে তাই কাঁপুনি বাজার ও কর্পোরেট দুনিয়ায়। বিষয়টির যৌক্তিকতাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই। ২০৩৬ সাল পর্যন্ত ৭ হাজার বোয়িং বিমানের বরাত দিয়েছে তো শুধু চীনা সংস্থাই। পুরোদস্তুর যুদ্ধ বাধলে, তাই প্রভাব সর্বগ্রাসী হওয়ারই সম্ভাবনা। অনেকে বলছেন, ক্ষতি এত মারাত্মক বলেই আলোচনার দরজা কিছুটা খুলে রেখেছেন ট্রাম্প। যতটা কড়া পদক্ষেপের কথা ছিল, এ দিনের প্রস্তাব না কি তার তুলনায় কিছুটা নরম। শুধু ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক আরোপ নিয়ে নয়, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে প্রযুক্তিযুদ্ধও শুরু হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন গত আগস্টে চীনের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরির অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে। সমপ্রতি মার্কিন কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, এ ব্যাপারে শিগগিরই নতুন পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। মার্কিন বাণিজ্য সচিব উইলবার রস বলেছেন, উচ্চ প্রযুক্তি হবে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কে 'চ্যালেঞ্জের নতুন ক্ষেত্র'।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমপ্রতি রয়টার্সকে বলেছেন, চীনের ওপর বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদসংক্রান্ত বড় ধরনের জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। এমনকি তাঁর স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন বক্তৃতায়ও আইপি ঠিকানা চুরির প্রসঙ্গটি এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিসের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ উইলিয়াম রাইনস বলেছেন, 'সব প্রশাসনের হাতেই বিভিন্ন সুযোগ থাকে, চরম থেকে মাঝারি যেকোনো পদক্ষেপই সে নিতে পারে।' তিনি বিল ক্লিনটনের প্রশাসনেও কাজ করেছেন। তিনি আরও বলেন, 'পার্থক্য হচ্ছে, এই প্রেসিডেন্ট চূড়ান্ত পদক্ষেপ নিতেই বেশি আগ্রহী।'

ব্যাপারটা হলো, মার্কিন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর চীনের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি অনেক দিন ধরেই দেশটির মাথাব্যথার কারণ। এর যেমন নিরাপত্তাজনিত কারণ আছে, তেমনি অর্থনৈতিক কারণও আছে। আইপি চুরির মধ্যে আছে নকল পণ্য ও পাইরেটেড সফটওয়্যার বিক্রি। এই বাবদ মার্কিন কোম্পানিগুলোর বছরে ২২ হাজার ৫০০ কোটি থেকে ৬০ হাজার কোটি ডলার ক্ষতি হচ্ছে। মার্কিন বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরিবিষয়ক কমিশনের ২০১৭ সালের প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে। চীন যখন নিম্ন প্রযুক্তি থেকে উচ্চ প্রযুক্তির যুগে অর্থনীতিকে নিয়ে যেতে চাইছে এবং অর্থনীতিকে পুনর্গঠিত করতে চাইছে, তখন এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হলো। শিকাগো কাউন্সিল অন গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স ফেলো ফিল লেভির মতে, 'চীন এ ব্যাপারে ক্রমেই সচেতন হয়ে উঠছে যে তার পক্ষে কম দামের পণ্য বানিয়ে আর টিকে থাকা সম্ভব হবে না।'

২০১৫ সালে চীনা প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং যখন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে আশ্বস্ত করলেন যে চীন আর করপোরেট গোপনীয় তথ্য চুরি করবে না, তখন এটি এত বড় সমস্যা ছিল না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনে ব্যবসা করার জন্য কোম্পানিগুলোকে এখন সেখানে প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হচ্ছে। ব্যাপারটা হলো, চীনে যারা ব্যবসা করতে চায়, তাদের স্থানীয় কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে হয়। এই অংশীদারির কারণে চীনা কোম্পানিগুলো বিদেশি কোম্পানির এমন অনেক তথ্য পেয়ে যাচ্ছে, যা গোপন রাখা হতো। এরপর ২০১৭ সালে চীন নতুন এক আইন করে আন্তঃদেশীয় তথ্য স্থানান্তরের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে। এই আইনের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে তথ্য সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়। ৮০ শতাংশ বিদেশি কোম্পানি বলেছে, তারা এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তদন্ত নিয়ে ট্রাম্প কতদূর যাবেন তা পরিষ্কার নয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন-চীন সম্পর্ক যে রীতিমত সংঘাতপূর্ণ হয়ে উঠছে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আর এই সংঘাতটা সর্বাত্মক সামরিক রূপ লাভ না করলেও তা যে বাণিজ্যিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে তা বলার সুযোগটা থেকেই যাচ্ছে। মূলত বিশ্ব রাজনীতিতে উভয় দেশের সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা থেকেই এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিণতিতে কী হতে যাচ্ছে তা বলার সুযোগ হয়তো এখনও সৃষ্টি হয়নি। তবে ভাল কিছু আশা করা দুরাশাই হতে পারে।

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : সাংবাদিক
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৩
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৬১৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.