নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ শাবান ১৪৩৯
সুস্থ জাতি গঠনের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত পরিবার
আজাদুল ইসলাম
অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও সুখী পরিবার গঠনে পরিবার পরিকল্পনা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। একটি বিষয় অধিকতর গুরুত্ব দেয়া আবশ্যক তা হচ্ছে_সমাজ ও রাষ্ট্রে প্রতিটি পরিবার পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হলে তার মাধ্যমে একটি সুস্থ, বৃদ্ধিদীপ্ত ও অধিক অর্থনৈতিক উৎপাদনক্ষম প্রগতিশীল জাতি গড়ে তোলা সম্ভব। যে পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য আছে তাদের জন্য পরিকল্পিত বা ছোট পরিবার গঠনের আবশ্যকতা নেই_এ ধারণা পোষণ করা ঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে পরিকল্পিত পরিবার গঠন কেবলই আর্থিক সামর্থ্য-অসামর্থ্য বিবেচনায় গ্রহণ বা অগ্রাহ্য করার বিষয় নয়। এর সাথে জড়িত আছে নানা সামাজিক বিষয়, মায়ের সুস্বাস্থ্য, শিশুর পুষ্টি ও উৎপাদনশীলতাসহ অনেক কিছু।

সুস্থ, বৃদ্ধিদীপ্ত ও অর্থনৈতিক উৎপাদনক্ষম একটি দ্রুত প্রগতিশীল জাতি গড়ে তুলতে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের ভূমিকাই প্রধান তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই একটি বলিষ্ঠ জাতি গঠনে পরিবার পরিকল্পনার গুরুত্ব কতখানি তা আলোচনা করা হলো।

মায়ের সুস্বাস্থ্যের জন্য পরিকল্পিত পরিবার গঠনের ভূমিকা অপরিসীম। আজকের কন্যাশিশু আগামী দিনের মা। একটি কন্যাশিশুর সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি তার জন্মকালীন স্বাস্থ্য অবস্থা থেকেই শুরু হয়। এরপর শৈশব, কৈশোরে তার খাদ্যসহ বেড়ে ওঠার সামগ্রিক বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিয়ের আগে সুস্বাস্থ্য থাকা সত্ত্বেও মা হিসেবে একটি নারীর স্বাস্থ্যমান কীরূপ হবে সে ক্ষেত্রে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের প্রভাব অনেক। পরিকল্পিত তথা কম সন্তানের পরিবার গঠনের কয়েকটি উপাদান হচ্ছে- পরিপূর্ণ শারীরিক যোগ্যতা অর্জন না করা পর্যন্ত নারীর বিয়ে নয় বা ১৮ বছরের আগে বিয়ে নয় এবং ২০ বছরের আগে প্রথম গর্ভধারণ নয়; দুটি সন্তানের মধ্যে কমপক্ষে ৩ থেকে ৪ বছরের ব্যবধান রাখা; শিশুকে প্রথম ছয় মাস শুধু মায়ের বুকের দুধ পান করানো এবং দুই বছর পর্যন্ত ঘরে তৈরি হরেকরকম খাবারের সাথে সাথে বুকের দুধ পান অব্যাহত রাখা; এবং মায়ের বয়স ৩৫ বছরের অধিক হলে আর সন্তান গ্রহণ না করা।

আমাদের দেশে নারীদের বিয়ের বয়স ১৮ বছর। ১৮ বছরের আগে বিয়ে আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু অনেক নারীর নির্ধারিত বয়সের আগেই বিয়ে হচ্ছে। জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ২৫ ভাগ হচ্ছে কিশোর-কিশোরী। বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে কিশোরীদের মধ্যে ৪৮ ভাগের বিয়ে হয়ে যায় ১৮ বছরের কমবয়সেই এবং তারা ২০ বছরের আগেই মা হয়ে যায়। মা হয়ার জন্য পরিপূর্ণ শারীরিক যোগ্যতা অর্জনের আগেই অনেক নারীর গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দেয়ার ফলে, একদিকে যেমন তাদের শরীর ভেঙে পড়ছে অন্যদিকে তারা জন্ম দিচ্ছে কমওজন তথা অপুষ্ট শিশু।

ঘন ঘন গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের কারণেও মায়ের স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। গর্ভকালে সন্তান মায়ের খাদ্য ও পুষ্টিরই একটি অংশ গ্রহণ করে গর্ভে বেড়ে ওঠে। এরপর যখন সে মায়ের বুকের দুধ পান করে তখনও সে মায়ের খাদ্য ও পুষ্টির একটি অংশ গ্রহণ করে। তাই একের পর এক গর্ভধারণ ও সন্তান প্রসবের ঘটনা ঘটলে মায়ের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়। এ অবস্থায় সচ্ছল পরিবারের নারীর ক্ষেত্রেও সুস্বাস্থ্য ধরে রাখা সম্ভব হয় না। আবার অধিকবয়সে সন্তান ধারণ করতে গিয়েও অনেক ক্ষেত্রে মায়ের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

সন্তানের সুস্বাস্থ্যের প্রাথমিক ভিত্তি হচ্ছে তার জন্মকালীন পুষ্টি অবস্থা। অপুষ্টি নিয়ে জন্ম নেয়া শিশুদের পরবর্তীতে স্বাস্থ্যবান করে গড়ে তোলা কঠিন। অধিক সন্তানের পরিবারে প্রধানত আর্থিক কারণে জন্মপরবর্তী বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা ও পুষ্টিকর গ্রহণ প্রায়শই সম্ভব হয়ে ওঠে না। দুটি সন্তানের মধ্যে যথেষ্ট সময়ের ব্যবধান না থাকলে পরে জন্ম নেওয়া শিশুটি অনেক ক্ষেত্রেই দুই বছর বয়স পর্যন্ত বুকের দুধ গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। মায়ের অপুষ্টির কারণে বুকের দুধের ঘাটতিও হতে পারে। এসব কারণে অপরিকল্পিত পরিবারে সন্তানের সুস্বাস্থ্য নিয়ে বেড়ে ওঠার সুযোগ সীমিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং এর মাধ্যমে দেশে শিশুমৃত্যুর হার হরাস ও শিশুর সামগ্রিক বিকাশে ভূমিকা পালন করা সম্ভব।

সন্তানের শিক্ষা, বিনোদন, শারীরিক এবং মানসিক বুদ্ধি বিকাশের সুযোগগুলো পর্যাপ্তভাবে নিশ্চিত করার জন্য পরিবারের সন্তান সংখ্যা সীমিত রাখা আবশ্যক। অন্যথায় আর্থিক সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়গুলো সঠিকভাবে নজর দেয়া সম্ভব হয় না। আর অসচ্ছল পরিবারের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভয়াবহ রূপ নেয়।

পরিবারের যথাযথ সেবাযত্ন ও পুষ্টিকার খাবারের অভাবে শিশুর সুষম বিকাশ বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত হয়। তাদের অনেকেই ভগ্নস্বাস্থ্য নিয়ে বেড়ে ওঠে, তারা নিজ পরিবারে বিড়ম্বনার কারণ হয়ে পড়ে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। নানারকম সামাজিক সমস্যা হরাস করা ও প্রশমিত করার জন্য চাই প্রতিটি সন্তানের যথাযথ যত্ন তথা শারীরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের পর্যাপ্ত সুযোগ। পরিকল্পিত তথা দুটি সন্তানের পরিবার না হলে কাজটি হয়ে পড়ে অত্যন্ত দূরূহ।

নিজ পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যে সর্বত্র স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখার জন্যও প্রতিটি পরিবার হওয়া দরকার পরিকল্পিত পরিবার। পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি হলে, বিশেষ করে সেই পরিবারে আর্থিক অনটন থাকলে, পারিবারিক পরিম-লে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ রক্ষা কিছুতেই সম্ভব হয় না। থাকার জায়গার অভাবে অল্প স্থানে অনেক লোককে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। যার প্রভাব পড়ে পরিবার ও রাষ্ট্রে। একইভাবে পুরোদেশ ঘনবসতিপূর্ণ হয়ে উঠলে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ বজায় রাখা দুরূহ হয়ে পড়ে। শহরে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে, যানবাহনে, হাটবাজারে, রাস্তায় প্রচ- যানজটসহ নানা বিড়ম্বনায় জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠে। নানারকম নাগরিক সুবিধা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়ে। শব্দদূষণ বেড়ে যায়। এভাবে গোটাদেশ হয়ে হয়ে ওঠে অস্বাস্থ্যকর ও দুর্বিষহ।

মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু হার হরাস এবং শিশুর যথাযথ শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পথ সুগম করতে পরিকল্পিত পরিবার গঠনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর সামগ্রিক যত্ন ও সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি পরিবারই হওয়া চাই পরিকল্পিত পরিবার।

পিআইডি ফিচার
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ২১
ফজর৪:১৭
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৬
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৬
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪২১০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.