নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ শাবান ১৪৩৯
জনতার মত
গণপরিবহণের যত অনিয়ম
আজহার মাহমুদ
জনগণের স্বার্থে গণপরিবহণ। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য একমাত্র অবলম্বন হচ্ছে গণপরিবহণ। বাংলাদেশের মানুষ অতটা ধনি ব্যক্তি নয় যে, প্রত্যেকে চাইলে একটা করে প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করবে। দু'বেলা দুমুঠো ভাত জোগাতে হিমশিম আবার প্রাইভেট গাড়ি! কথাটি একটু হাস্যকরই বটে। কিন্তু এই হাস্যকর কথা বলারও একটি রহস্য রয়েছে, আর সেটা হচ্ছে গণপরিবহণের অনিয়ম, অসঙ্গতি, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলাসহ নানা অপকর্ম। গণপরিবহণের নৈরাজ্য বর্তমান সময়ে আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। এই পরিবহণের শৃঙ্খলা ছিল কখন তাও হলফ করে কেউ বলতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। এ সেক্টর একটি অনিয়ন্ত্রিত সংস্থা। কোটি কোটি মানুষ এ সেক্টরের মুখাপেক্ষী। উচ্চ মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে একদম নিচের শ্রেণির মানুষের যাতায়াতের মাধ্যমও এই গণপরিবহণ। গণপরিবহণ বলতে আমরা সাধারণত যেটা বুঝে থাকি তা হলো বাস। সারা দেশের রাস্তায় বিভিন্ন নামে চলাচল করে থাকে এই পরিবহণ। সিটি সার্ভিস, সিটিং সার্ভিস, বিরতিহীন সার্ভিস, স্পেসাল সার্ভিস, প্রভাতি পরিবহণ, সুপ্রভাত পরিবহণ, ৪ নাম্বার, ৭ নাম্বার, আরো কত বাহারি নামের নানা ধরনের পরিবহণ আমাদের দেশের নানা জেলায় চলাচল করে থাকে অনবরত। এ সকল পরিবহণের মান কতটুকু তা কিন্তু সকলেরই কম বেশি জানা। তালি-জোরা, রঙ মালিশ করে গাড়ির নাম্বার এবং রুট পরিবর্তন করে এসব পরিবহণ আমাদের চোখেরনিত্যদিন চলাচল করছে। এসব পরিবহণের সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে অদক্ষ ড্রাইভার। ছোট ছোট বাচ্ছাকে হেলপারের কাজ দিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে এসকল পরিবহণের মালিকগণ। থাকে না ড্রাইভার কিংবা হেলপারের কোনো বৈধ লাইসেন্স। অনেক সময় ড্রাইভার থাকে নেশাগ্রস্ত। পরিবহণগুলোর থাকে না যথাযথ ফিটনেস। এতসব সমস্যার পরেও আইনের নাকের ডগায় চলাচল করে এ সকল পরিবহণ। আইন আছে, ট্রাফিক পুলিশও আছে কিন্ত তার প্রয়োগ নেই। তাই গণপরিবহণের শৃঙ্খলা দিন দিন পিছিয়ে পড়ছে। বেড়ে যাচ্ছে গণপরিবহণের অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলা। সকাল-বিকেল অফিস টাইমে গণপরিবহণের অনিয়মের কারণে অসহ্য হয়ে পড়েছে শ্রমজীবী মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সকলেরই ভোগান্তির শেষ নেই। অসহায় এবং নারী যাত্রী এক শ্রেণির সন্ত্রাসী পরিবহণের হাতে লাঞ্ছিত হয় প্রতিনিয়ত। বর্তমানে যে বিষয়টি বেশি মাথাচড়া দিয়ে উঠেছে তা হলো গণপরিবহণে নারীর নিরাপত্তাহীনতা। এটি নতুন কোনো বিষয় নয় আমাদের দেশে। কিন্ত পুরাতন বিষয় হলেও এই সমস্যার সমাধান পাচ্ছে না নারী যাত্রীগণ। যাতায়াতের জন্য গণপরিবহণে উঠতে হবে সকলের। তাই বলে নারীর সম্মানহানি করবে কিছু পরিবহণ শ্রমিক, তা কখনোই মেনে নেয়া যায় না। আজকাল দেখা যায়, গণপরিবহণে নারী ধর্ষণ কোনো ব্যাপারই না। এসব নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠছে আমাদের জন্য। খবরের কাগজে রোজ একটা না একটা ধর্ষণের ঘটনা পড়ছি আমরা। আমাদের মাঝে এখন বিষয়টি নিত্যদিনের খবর হয়ে উঠেছে। আবার নাকি আমরা স্বাধীন দেশেও বসবাস করি। এ লজ্জা কোথায় রাখবো তা ভেবে পাই না। গণপরিবহণের এই নৈরাজ্য ঠেকাতে যাত্রী কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামক একটি সংগঠন থাকলেও এর কোনো তৎপরতা দেখা যায় না তাদের। এভাবে যদি আমরা সকলে সিনেমা দেখার মতো দর্শকের ভূমিকা পালন করি, তবে অদূর ভবিষ্যতে আপনাকেও এই সিনেমার চরিত্রে অন্যকেউ দেখবে সেটা মনে রাখবেন। এই গণপরিবহণের অনিয়ম, অন্যায় ঠেকাতে এখনি সকলের এক হতে হবে। কিছু কিছু পরিবহণ শ্রমিক থাকে যারা সন্ত্রাসীর মতো করে টাকা হাতিয়ে নেয় যাত্রীদের নিকট থেকে। এরপরেও যাত্রীরা হয়রানি থেকে মুক্তি পায় না। এসকল দুর্ভোগের জন্য প্রশাসন কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না কেনো তাও আমার বুঝে আসে না। অনেকের মতে প্রশাসনের সাথে মালিক পরিবহণের সখ্যতার কারণে এ সমস্যা। এভাবে এ সেক্টরকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আজকাল গণপরিবহণে কোনো ভদ্রতা নেই। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুরুব্বী কিংবা বয়স্ক মানুষদের সাথেও তাদের ব্যবহার হয় মারমুখী। আচরণ আর বৈশিষ্ট্যে নেই কোনো শৃঙ্খলা। ক্রমান্বয়ে এ সমস্যা জঠিল থেকে জঠিলতার হচ্ছে। এর জন্য কারা দায়ী সেটা পরিবহণ শ্রমিক, মালিক এবং প্রশাসন অবগত আছেন। তাই আইনের কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না তাদের বিরুদ্ধে। এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রশাসনের সঠিক পদক্ষেপ নেয়া অত্যন্ত জরুরি।

রাষ্ট এই সেক্টরের প্রতি একটু গভীর নজর দিলে আমার মনে হয় এই সেক্টরের অনিয়ম দূর করা সম্ভব। মালিক, শ্রমিক, প্রশাসন এবং যান্ত্রী সাধারণ যদি এক হয়ে সমঝোতার মাধ্যমে কাজ করি তবে এই সমস্যা থেকে উত্তরণ কোনো কঠিন কিছু নয়। তবে এর জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। গণপরিবহণকে গড়ে তুলতে হবে একটি সেবামূলক খাতে, এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা। তাই প্রশাসনের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা থাকবে গণপরিবহণের অনিয়ম এবং নৈরাজ্য প্রতিরোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

আজহার মাহমুদ : লেখক
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীমে - ২৬
ফজর৩:৪৭
যোহর১১:৫৬
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৪১
এশা৮:০৪
সূর্যোদয় - ৫:১৩সূর্যাস্ত - ০৬:৩৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৭৫৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.