নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ শাবান ১৪৩৯
কেএসআরএম'র যাকাত ও ইফতার ৩ দফায় ২২ জন নিহত
কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা
স্টাফ রিপোর্টার ও চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রামে কেএসআরএম'র ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে ৩ দফায় প্রাণ গেছে ২২ জনের। এর মধ্যে ২০০৫ সালে ৫ জন, ২০০৮ সালে ৬ জন এবং সর্বশেষ গত সোমবার ১১ জন। গত সোমবারের ট্রাজেডিতে একটি মামলা হলেও এর আগের দুটি ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। গঠন হয়নি তদন্ত কমিটিও। বার বার এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও টনক নড়েনি কেএসআরএম কর্তৃপক্ষের। গত সোমবারের ঘটনার পর পুলিশের একপেশে আচরণের কারণে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কিত ক্ষতিগ্রস্তরা। ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ১১ নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে শিল্প প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম (কবির স্টিল লি.) মালিক শাহজানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নিহত উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা নিহত হাসিনা আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল হোসেন। তিনি জানান, যাকাত ও ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে পদদলিত হয়ে নিহত এক নারীর স্বামী বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার মামলা করেছেন। মামলায় তিনি বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি তুলে ধরে অভিযোগ এনেছেন কেএসআরএম-এর মালিক মোহাম্মদ শাহজাহানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।

২০০৮ সালের ঘটনার পর ইফতার সামগ্রী বিতরণ করবে না বলে ঘোষণা দিলেও এবার আবারও তা চালু করা হয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে কিছুই জানানো হয়নি। ব্যবস্থাপনার ত্রুটির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এদিকে ঘটনার পর পর পুলিশের অতিরিক্ত তোষামোদীর ভূমিকায় জনমনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তদন্ত করার আগেই 'হিটস্ট্রোক' বলে অগ্রিম মন্তব্য করে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছে পুলিশ। গণমাধ্যমের সমালোচনার মুখে অবশ্য পরে তা প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ। শুধু পুলিশই নয়, মর্মান্তিক এ ঘটনাটি নিয়ে অতিরিক্ত চাটুকারিতা এবং তোষামোদী করতে গিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন কিছু কিছু গণমাধ্যম ও সংবাদকর্মী। স্থানীয় এবং জাতীয় কিছু সংবাদ মাধ্যমের তেলবাজি ভূমিকায় ক্ষুব্ধ এবং বিব্রত খোদ চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিক সমাজ। ঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এদিকে এ ঘটনায় নিহতদের ময়নাতদন্ত না হলেও পুলিশ স্ব-প্রণোদিত হয়ে বলছে হিটস্ট্রোকে মারা গেছে তারা। এমনকি ঘটনাস্থল থেকে কোনো আলামতও জব্দ করেনি পুলিশ। ময়নাতদন্ত ছাড়া এতটা নিশ্চিত কিভাবে হলো এনিয়ে জনমনে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে সাতকানিয়া নলুয়া ইউনিয়নের গাটিয়াডাঙ্গা গ্রামে স্বজনদের কান্না ও আহাজারি চলছে। স্বজনদের চেখের সামনে চলে গেলো ১১টি তাজা প্রাণ। একটু ভালো থাকার জন্য সামনে রমজান উপলক্ষে বিতরণ করা ইফতার সামগ্রী নিতে গিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু০বরণ করেছে ১১ নারী। তাদের শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।

অপরিকল্পিতভাবে এসব ইফতার যাকাত বিতরণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অসখ্য প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে প্রতি বছর। তারপরও প্রশাসন থেকে কোনো রকম তদারকি হচ্ছে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, যে সংখ্যক লোক জমায়েত হবে বলে আশা করা হচ্ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি লোক জড়ো হয়। এরমধ্যে নারীদের সংখ্যাই বেশি। সাতকানিয়া ছাড়া আশপাশের উপজেলা থেকেও অনেক লোক চলে আসে। ধারণার চেয়ে অনেক বেশি লোক জমায়েত হয়ে যায় মাদ্রাসা মাঠে। আর সেই ভিড়ের মধ্যে মানুষ লাইন না ধরে তাড়াহুড়া করার চেষ্টা করে এবং ইফতার সামগ্রী নেয়ার চেষ্টা করলে হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে সংবাদমাধ্যমকে বলেন কেআরএমএসের কর্মকর্তা মো. রফিক।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান বলেন, সাতকানিয়াতে নিহতরা সবাই পদদলিত হয়েছে। সেখানে হিটস্ট্রোকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, যারা আহতাবস্থায় চিকিৎসা নিয়েছে তাদের অধিকাংশেরই বুকে, শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকজনের পা ভাঙাও পাওয়া গেছে। শ্বাসকষ্টও ছিল কয়েকজনের। গত সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গণমাধ্যমকর্মীরা গেলে স্থানীয় কিছু যুবক হতাহতদের স্বজনদের দিয়ে 'হিট স্ট্রোকে' মৃত্যু হয়েছে বলানোর চেষ্টা করছিলেন। এদিকে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসে কর্মরত প্রদীপ কুমার নামে এক আবহাওয়াবিদ জানান, সোমবার চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ তপমাত্রা ছিল ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াস সর্বনিম্ম ছিল ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ধরনের তাপমাত্রায় মানুষের মধ্যে হিটস্ট্রোক হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। এ ছাড়া বদ্ধঘর ছাড়া খোলা মাঠে কোনোভাবেই হিটস্ট্রোক হয় না। এদিকে সোমবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেএসআরএম-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহেরুল করিমও হিট স্ট্রোককে মৃত্যুর কারণ হিসাবে দেখান। এসময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের কারণে তোপের মুখে পড়েন তিনি।

নলুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তার বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে বেলা ১০টার পরপর সেখানে গিয়ে মাঠে লাশ পড়ে থাকতে দেখি। ধাক্কাধাক্কিতে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে আমার মনে হচ্ছে।

এবারও আয়োজনের অব্যবস্থাপনায় ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত করে ইউপি চেয়ারম্যান তাসলিমা বলেন, যে মাঠে আয়োজন করা হয়েছে, সেখানে ১০ হাজারের মতো লোক থাকতে পারে। কিন্তু সমবেত হয় ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

সাতকানিয়ার ইউএনও মোবারক হোসেন বলেন, প্রচ- ভিড়ের মধ্যে পদদলিত, সাফোকেশন এবং ধাক্কাধাক্কির কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৯
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৭৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.