নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ শাবান ১৪৩৯
দীর্ঘ হচ্ছে কারাবাস
খালেদা জিয়ার জামিনে বাধা
দিন দিন স্বাস্থ্যের চরম অবনতি কিছু হলে দায় সরকারকে নিতে হবে : বিএনপি
আমিরুল ইসলাম অমর
কারো ৫ বছরের জেল হলে জামিনে বাধা থাকে না। অহরহ জামিন দিচ্ছে আদালত। তবে, ৫ বছরের সাজা হলেও বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিন হচ্ছে না। নানা নাটকীয়তার পর গত ১২ মার্চ দুদকের আবেদনের শুনানি নিয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৪ মাসের অন্তর্বর্র্তীকালীন জামিন দেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা কেন বৃদ্ধি করা হবে না, তা জানতে চেয়েও রুল জারি করেন আদালত। ঐ জামিন আদেশের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল করেন। গত বুধবার (৯ মে) খালেদা জিয়ার জামিনের বিরুদ্ধে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। এর আগে গত ৮ মে থেকে এ শুনানি শুরু হয়। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ মে) এ বিষয়ে আদেশ দেয়ার কথা থাকলেও জামিনের রায় ফের পিছিয়ে আজ বুধবার (১৬ মে) ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের এটর্নি জেনারেলের শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করা হয়। এর আগে গত ১৯ মার্চ মামলাটি শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করেছিলেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন একই বেঞ্চ। বিভিন্ন সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা যায়। তবে, আজ খালেদা জিয়ার জামিন হবে কি না তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনসহ জনমনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। অনেকে এও প্রশ্ন করছেন, অন্যদের ক্ষেত্রে জামিনে এতো বাধা না থাকলে খালেদা জিয়ার জামিনের ক্ষেত্রে কেন এতো বাধা?

বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, বেগম জিয়ার মামলা নিয়ে সরকার একটির পর একটি খেলা খেলে চলেছে। ইতোমধ্যেই দেশের মানুষ দেখেছেন তার ডিভিশন এবং মামলার সার্টিফায়েড কপি নিয়ে কত রকম খেলা হলো। এখন দেখা যাচ্ছে বেগম জিয়ার জামিন নিয়ে নতুন করে চক্রান্তের জাল বিছানো হচ্ছে। তারা এও বলছেন, খালেদা জিয়াকে দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ করে রাখতে চায় সরকার। সরকার তাকে রাজনীতি ও নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে চায়। এই উদ্দেশ্য নিয়েই ক্ষমতাসীনরা মামলাগুলো সাজাচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে বেগম খালেদা জিয়াকে কারান্তরীণ করে রাখা হয়েছে। এই অবস্থায় বিএনপি শুধু হতাশ নয়, ক্ষুব্ধও হয়েছে। তবে, বিএনপি চেয়ারপারসনের কিছু হলে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।

নেতাকর্মীরা বলছেন, সরকার ভেবেছিল বেগম জিয়ার কারাদ-ের খবর প্রচারিত হওয়ার সাথে সাথে বিএনপি তথা ২০ দলীয় জোটের নেতা ও কর্মীরা রাস্তায় নেমে পড়বে এবং একটি দক্ষ যজ্ঞ কা- বাধিয়ে দেবে। সেটিকে উসিলা করে সরকার সমস্ত বিরোধী দলের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি আক্রমণ চালাবে। কিন্তু সরকারের এই ফাঁদে পা দেয়নি বিএনপি। সরকারের কাছে খবর আছে যে বিএনপি যে কোনো প্রকারে যদি নির্বাচনে যেতে পারে এবং দেশের ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রের আশপাশে পৌঁছতে পারে তাহলে সরকার পক্ষ বুঝবে কত ধানে কত চাল। তারা বলেন, সরকারের এই কৌশল ফেল করার পর এখন সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে নিম্ন আদালতের রায়কে বহাল রাখার জন্য উচ্চ আদালতের ওপর পর্দার অন্তরাল থেকে প্রভাব বিস্তার করবে। এইভাবে উচ্চ আদালতেও যদি নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকে তাহলে বেগম জিয়া নির্বাচনের জন্য অযোগ্য ঘোষিত হবেন। তারেক রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়া উভয়েই যদি অযোগ্য ঘোষিত হন তাহলে আওয়ামী লীগ মাঠটি খালি পাবে এবং খালি মাঠে গোল দেবে। এটিই তাদের আসল লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তারা সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে যাচ্ছেন। তারা আরো বলেন, আসলে দেশে আগামীতে একদলীয় সরকার প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে, একপক্ষীয় ও একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং সাজা দেয়া হয়েছে। তার জামিন নিয়ে টালবাহানা করা ঐ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই করা হচ্ছে। মনে হচ্ছে জামিন এবং মামলা নিয়ে আরো অনেক খেলা চলবে। তবে এর ফলে জনমত যে কতখানি বিক্ষুব্ধ হচ্ছে সেটি সরকার টের পাচ্ছে না। গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক পথে জনগণের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের যদি বিস্ফোরণ ঘটে তবে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাল নথি তৈরি করে মিথ্যা ও সাজানো মামলায় সরকারের নির্দেশিত রায়ে বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি করার পর থেকে এখন পর্যন্ত তার সাথে কারা কর্তৃপক্ষ ও সরকার যে ধরনের আচরণ করেছে এবং তার চিকিৎসা নিয়ে যে টালবাহানা করছে তাতে আমরা দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছি। তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও তার জামিন স্থগিত করাও ঐ চক্রান্তেরই অংশ। সুতরাং বিশ্বের অন্যান্য দেশের নির্দয় স্বৈরশাসকরা তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি নির্মম আচরণের মতো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বর্তমান বাংলাদেশের স্বৈরশাসকও দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে নির্দয় আচরণ করে তাকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে মারাত্মক চক্রান্তজাল বুনছে। এসময় তিনি খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসার জোর দাবি জানান। তিনি এও বলেন, ম্যাডামের কিছু হলে তার দায় সরকারকেই নিতে হবে

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৯
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪১৭০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.