নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৬ মে ২০১৮, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৯ শাবান ১৪৩৯
হাজার কোটি টাকা পানিতে
যথাযথভাবে সুশিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে একটি জাতির সামগ্রিক সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। সঙ্গত কারণেই আমরা মনে করি, যখন বাংলাদেশ শিক্ষা ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার মান কতটা নিশ্চিত হচ্ছে, সেটিও আমলে নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। সমপ্রতি পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরে জানা যাচ্ছে, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা সব পর্যায়েই ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হলেও বাস্তবিক অর্থে এর কোনো সুফল মিলছে না-আর তাই পাবলিক পরীক্ষাগুলোর ফলাফল প্রকাশের পর দেখা যায়, এসব বিষয়ে শিক্ষার্থীরা আগের মতোই খারাপ করেছে। জানা যায়, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জানতে চাইলে তারা দায়সারা বক্তব্য দিয়ে গা বাঁচানোর চেষ্টা করছেন।

প্রসঙ্গত, যখন হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হলেও সুফল মিলছে না এমন বিষয় সামনে আসছে, তখন সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং সংকট চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। উল্লেখ্য, ১০ বছরমেয়াদি এক বিশাল প্রকল্প 'সেকায়েপ' গত বছরই তার মেয়াদ শেষ করেছে। এ প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ইংরেজি, অঙ্ক ও বিজ্ঞানে ছেলেমেয়েদের বিশেষভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলা। অথচ প্রকল্প শেষ হওয়ার পরের বছরই এসএসসি পরীক্ষার ফলে দেখা যায়, গত প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীরা। ২০১৮ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করেছে মাত্র ৭৭.৭৭ শতাংশ শিক্ষার্থী। যা গত প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন। আর তার কারণ হিসেবে দেখা গেছে, সেই আগের অঙ্ক ও ইংরেজিতে বিপর্যয়ই ফলাফল খারাপের একমাত্র কারণ।

বলা দরকার, সেকায়েপ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও বর্তমানে মাধ্যমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিসহ আরও প্রায় দেড় ডজন প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর প্রায় সবগুলোই কোনো না কোনোভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে অঙ্ক ও ইংরেজির মানোন্নয়নে প্রায় প্রতিটি প্রকল্পেই নির্দিষ্ট কার্যক্রম রয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনেও রয়েছে কয়েক ডজন প্রকল্প। কিন্তু এতসব প্রকল্প আর কর্মসূচির পরও বাস্তবিক অর্থে অঙ্ক ও ইংরেজিতে বলার মতো কোনো উন্নয়নই হয়নি-এমন বিষয় যখন উঠে আসছে তখন তা অত্যন্ত পরিতাপের জন্ম দেয়।

আমরা বলতে চাই, একাধিক শিক্ষাবিদ যখন জানিয়েছেন, ২৫০টি উপজেলায় সেকায়েপ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, সেখানেও অঙ্ক, ইংরেজিতে খারাপ ফল অন্যান্য অঞ্চলের মতোই। ফলে এ প্রকল্পের কোনো সুফল বাস্তবিক অর্থে পরিলক্ষিত হয়নি বলেই তাদের অভিমত। ফলে এ বিষয়টিকে আমলে নিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা অপরিহার্য। এ ছাড়া যখন একজন শিক্ষাবিদ বলেছেন, প্রকল্প নেয়া হয় বটে, কিন্তু মাঠপর্যায়ে এগুলো সঠিকভাবে কার্যকর হচ্ছে কিনা তা দেখভাল করাই প্রধান বিষয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মাঠের শিক্ষকরা সঠিকভাবে ক্লাস নিচ্ছেন কি নিচ্ছেন না তাও নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না। আর তার চেয়ে বড় বিষয় হলো- এসব শিক্ষককে ক্লাসে পাঠানোর আগে যথার্থ প্রশিক্ষণ দেয়া হয় না, যা আমাদের সবচেয়ে বড় গাফিলতি বলেও জানান।

আমরা সংশ্লিষ্টদের বলতে চাই, সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে করণীয় নির্ধারণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন। প্রকল্পের সামগ্রিক উদ্দেশ্য যথাযথভাবে যেন সফল হয়, সেই প্রচেষ্টাও জারি রাখতে হবে। সর্বোপরি ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে- এই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের সঠিক বাস্তবায়ন হোক এমনটি আমাদের প্রত্যাশা।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ২১
ফজর৩:৫৮
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১১
সূর্যোদয় - ৫:২৩সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৮১৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.