নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০১৯, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমজান ১৪৪০
সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
চিকিৎসক নার্স ও জনবল সঙ্কটে রোগীরা সেবা বঞ্চিত
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে মো. সোহরাব হোসেন
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক,নার্সিং সুপারভাইজার ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল সংকট রয়েছে। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ থাকলে ও অন্য রোগীদের বেলায় অপ্রতুল। এ নিয়ে স্বাস্থ্য সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের রয়েছে নানা অভিযোগ।

বর্তমান সরকার যখন স্বাস্থ্য সেবাকে জনগনের দোড় গোড়ায় পৌঁছে দিতে বদ্ধ পরিকর। ঠিক এ সময়ে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্র তার বিপরীত। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের নিজ জেলা মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চিকিৎসা সেবার এ হাল স্থানীয়দের ভাবিয়ে তুলেছে। উপজেলার ১১ টি ইউনিয়ন ও ১ টি পৌরসভা নিয়ে এ এলাকায় ৩ লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আউটডোর ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় তিন শতাধিক রোগী এলেও চাহিদা অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা পান না তারা। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয় ব্যক্তিরা বলছেন, চিকিৎসক, নার্সিং সুপারাইজারসহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে মূলতঃ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। আবার যারা কর্মরত আছেন তারাও ঠিকমতো কর্মস্থলে আসেন না এবং চিকিৎসা সেবা দেন না। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে জুনিয়র কনসালট্যান্ট চর্ম ও যৌন, ইএনটিসহ ১১ জন চিকিৎসক, নার্সিং সুপারভাইজার ২টি, সিনিয়র স্টাফ নার্স ৪ টি, প্রধান সহকারী ১ টি, ক্যাশিয়ার ১টি, স্টোর কিপার ১টি, স্বাস্থ্য পরিদর্শেকর ৩ টি পদসহ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৩৬ টি পদ শূন্য রয়েছে। রয়েছে সুপেয় বিশুদ্ধ পানির অভাব। রোগীদের দেয়া হচ্ছে নিম্নমানের খাবার। জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় এ দাবদাহে বিদ্যুৎহীন সময়ে অসহনীয় ও ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে ডাক্তার ও রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হাপাতালের টয়লেট দুর্গন্ধ ও ব্যবহার অনুপযোগী। পুরো কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও দুর্বল।

২০১১ সালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত হয়। গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে-আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার , জুনিয়র কনসালট্যান্ট চর্ম ও যৌন, ইএনটি ও গাইনীসহ ১১ টি পদে চিকিৎসক কাগজে-কলমে থাকলেও বাস্তবে নেই। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তারা জেলা ও রাজধানী পর্যায়ে ডেপুটেশনে কর্মরত আছেন। যারা আছেন তাদের মধ্যে একমাত্র জুনিয়র কনসালট্যন্ট (মেডিসিন) ডা. মোঃ শফিকুল্লাহ আকবর, জুনিয়ার কনসালট্যান্ট (গাইনী) জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান সপ্তাহে ৩-৪ দিনের বেশি অফিস করে না। ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার (আইএমও) ডা. ক্ষিতিশ চন্দ্র তালুকদারের বাড়ি এ উপজেলায় হওয়ায় জরুরি বিভাগে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্টদের দায়িত্ব দিয়ে তিনি ঘুমিয়ে সময় কাটান। তার অসদাচরণ ও স্বেচ্ছাচারিতায় অতিষ্ঠ সেবা নিতে আসা রোগী সাধারণ। এদিকে, ডা. জাহানে ফেরদৌসের বিরুদ্ধে জনৈক নার্স খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ এনে টিএইচএ বরাবার লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলেও জানা গেছে। তাছাড়া ডা. শফিকুল্লাহ আকবরের বিরুদ্ধে ও রোগীদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে। ডেন্টাল ইউনিটে কোন যন্ত্রপাতি নেই। দাঁতের যন্ত্রণায় কাতর দন্ত রোগীরা চিকিৎসা না পেয়ে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।

অভিযোগে রয়েছে, সরকারি কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আবাসিক ভবনে কোন চিকিৎসক থাকেন না। অযত্ন অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে সরকারি কোয়ার্টার। তাদের সকলেই থাকেন রাজধানী ঢাকা বা সাভারে। যে কারণে চিকিৎসকদের সয়য় মতো পান না রোগীরা। নাম প্রকশে অনিচ্ছুক হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসক বলেন, ৩০ জন ডাক্তারের স্থলে কাগজে-কলমে রয়েছে ১৯ জন। বাকী ১১ জন চিকিৎসক ডেপুটেশনে থাকায় সংকটবস্থা বিরাজ করছে। সেবা নিতে আসা একাধিক রোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে পক্ষকালব্যাপী হাসপাতালের আউটডোরে গিয়ে ৬নং কক্ষের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) ডা. শফিকুল্লাহ আকবর ও ১২ নং কক্ষের জুনিয়র কনসালট্যান্টের (গাইনী) ডা. জাহানে ফেরদৌসের চেয়ার বেশিরভাগ সময় খালি পাওয়া গেছে। তবে টিএইচএ ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লাহকে সময় মতো অফিস করার পাশাপাশি বহির্বিভাগের রোগী দেখে ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা গেছে। এদিকে সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী ৩৩ আইটেমের ওষুধ সরবারাহ থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মেলে না। পাশাপাশি সাপের কামড়ের প্রতিষেধক টিকা ও কুকুরের কামড়ের ভ্যাকসিন নেই এ হাসপাতালটিতে। সেই সাখে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের রয়েছে দৌরাত্ম্য। সময় অসময়ে ডাক্তার ভিজিটের কারণে বিঘি্নত হচ্ছে স্বাস্থ্য সেবা।

এ ব্যাপারে ডা. শফিকুল্লাহ আকবর, ডা. জাহানে ফেরদৌস ও ডা. ক্ষিতিশ চন্দ্র তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা সকলেই যার যার অবস্থানে থেকে কর্মস্থলে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের কথা দাবি করেন।

সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সেকেন্দার আলী মোল্লাহ বলেন, আরএমও পদ শূন্য থাকলেও হাসপাতালে যেসব ডাক্তার আছেন তাদের দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা দেয়া যথেষ্ঠ সম্ভব হচ্ছে। ব্যক্তিগত অসুবিধার কারণে অনুমতি নিয়েই ডাক্তাররা দু'একদিন অনুপস্থিত থাকেন। বায়োমেট্রিক সিস্টেম ও মনিটরিং সেলের নজরদারীর কারণে ফাঁকি দেয়ার কোন সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল আমীন আখন্দ বলেন, হাসপাতালের জনবল সংকটসহ অন্যান্য বিষয় আমি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ২২
ফজর৪:১৮
যোহর১২:০২
আসর৪:৩৫
মাগরিব৬:৩০
এশা৭:৪৫
সূর্যোদয় - ৫:৩৬সূর্যাস্ত - ০৬:২৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৬০২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.