নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০১৯, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ১০ রমজান ১৪৪০
মৃত্যুফাঁদ ভূমধ্যসাগর
গত ৭ বছরে ৬ হাজার ৯০৬ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন নিখোঁজ রয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশিদের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে ভূমধ্যসাগর। অবৈধভাবে গত ৭ বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যেতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ হাজার ৯০৬ জন। নিখোঁজ হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপ প্রবেশের সংখ্যা ১ লাখেরও বেশি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের তথ্যে দেখা গেছে, গত ৭ বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যেতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৬ হাজার ৯০৬ জন। নিখোঁজ হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ৬৩৬ জন, ২০১৪ সালে ৭৭০ জন, ২০১৫ সালে ১৫৫৫ জন, ২০১৬ সালে ১৪৮৫ জন, ২০১৭ সালে ৭৯৫ জন, ২০১৮ সালে ৬৭৭ জনসহ এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে ১২ হাজার ৫৩৯ জন।

ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান বিষয়ক দফতর ইউরোস্ট্যাট-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ইউরোপের দেশগুলোতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ১৭ হাজার ২১৫ জন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলে ১১ হাজার ৭১৫টি আবেদন বাতিল করা হয়।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য মতে, কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর ব্যবহার করে ইতালিতে প্রবেশের হার দিন দিন বাড়ছে। ইউএনএইচসিআরের মতে, ভূমধ্যসাগর ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশকারীর সংখ্যায় বাংলাদেশিদের অবস্থান চতুর্থ।

অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে ৭টি রুট ব্যবহার করা হয়। এর সবগুলোই লিবিয়া কিংবা তুরস্ক থেকে ইউরোপে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হয়। এ ৭ রুটের মধ্যে 'জনপ্রিয়' কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরের রুট। এটি ব্যবহার করে লিবিয়া থেকে ইতালি যাওয়া নিরাপদ মনে করে অনিয়মিত অভিবাসীরা। তাই দালালের কথায় প্রভাবিত হয়ে লাখ লাখ টাকা খরচ করে চলে যান লিবিয়া কিংবা তুরস্ক। সেখান থেকে শুরু হয় ইউরোপ যাওয়ার মূল পর্ব। ইউরোপ যেতে মোট খরচ হিসেবে চাওয়া হয় ১০ থেকে ১৪ লাখ টাকা। সেই টাকা আদায় করা হয় আগেই, এমনকি যাত্রা শুরুর পর শারীরিক নির্যাতন করেও টাকা আদায় করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুনের শেষ থেকে আগস্ট এই ৩ মাস সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা বেশি। কারণ এ সময় সাগর কিছুটা শান্ত থাকে এবং ছোট ছোট নৌযান নিয়েই ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করে সবাই। লিবিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ইতালির ল্যাম্পুসা দ্বীপ। সেখান দিয়েই মূলত ইতালি প্রবেশ করে অনিয়মিত অভিবাসীরা। এছাড়া গ্রিস, স্পেন হয়েও ইউরোপ প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। ২০১৭ সালের মাঝামাঝি থেকে অভিবাসীদের ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে পাড়ি দেয়ার হার কিছুটা হলেও কমেছে। কারণ, লিবিয়ার নিরাপত্তা বাহিনীও অভিবাসী অনুপ্রবেশের উপর নজরদারি চালাচ্ছে। ফলে মাঝ সমুদ্রে কোনও শরণার্থীদের নৌকা নজরে এলেই সেটিকে আটক করার নির্দেশ পায় লিবিয়ার বাহিনী। কিন্তু তারপরও থেমে নেই এই পথে ইউরোপ যাওয়া।

গত কয়েক বছরে পাল্টে গেছে ইউরোপের পরিস্থিতি। এখন আর অবৈধভাবে আসা লোকজনকে আশ্রয় দিতে রাজি নয় ইউরোপ, বরং কাগজপত্রহীন মানুষদের নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছে। কাগজপত্র ঠিক না থাকা বাংলাদেশিদের ফেরত আনতে একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এর আওতায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০০ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত নিয়ে আসা হয়েছে।

ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ থেকে ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ না হওয়ার কারণ ২টি বলে মনে করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের অভিবাসন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক এবং বাংলাদেশ পরিস্থিতির কারণে থামছে না ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যাওয়া। এই মুহূর্তে লিবিয়াতে অস্থিতিশীলতার সুযোগে বহু মানব পাচারকারী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। অস্থিতিশীলতার কারণে অরক্ষিত হয়ে আছে লিবিয়ার সীমান্তগুলো। সে কারণে আন্তর্জাতিক মানব পাচারচক্র ইউরোপে ঢোকার জন্য এই জায়গা ব্যবহার করছে। তাছাড়া পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের উদ্বাস্তুরাও এই পথ দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করছে। ইতালিতে প্রবেশ করা মানে হচ্ছে ইউরোপের ২৬টি দেশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়া। প্রত্যেকেই চিন্তা করে হয়তো বেঁচে যাবো। বাংলাদেশিদের এই যে একটা মনস্তাত্তি্বক অবস্থা যে কোনো মূল্যে বিদেশ চলে যাবো এটা যদি ভাঙা না যায় তাহলে অবৈধভাবে বিদেশ পাড়ি দেয়া বন্ধ করা সম্ভব নয়। পক্ষান্তরে ইউরোপ আগের অবস্থায় নেই। অবৈধভাবে গেলে কাজ পাওয়া যায় না। তাই এই বার্তা সবার কাছে পৌঁছানো উচিত যে, কাগজপত্র ছাড়া ইউরোপে গেলে হয় জেলে যেতে হবে নতুবা ফেরত আসতে হবে।

শরিফুল হাসান আরো বলেন, ইউরোপের পথে কিন্তু গরিব মানুষ যায় না। কারণ এতে ৮ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়। যারা যায় তাদের আর্থিক অবস্থা একেবারে খারাপ নয়। যারা এতো টাকা খরচ করে এভাবে ইউরোপ যায় তারা কিন্তু চাইলে দেশে ঐ টাকা বিনিয়োগ করে ব্যবসা করতে পারে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৭
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৬
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৪সূর্যাস্ত - ০৫:১১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৪৭৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.