নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শনিবার ২৩ মে ২০২০, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৯ রমজান ১৪৪১
ঢাকা সিটির নির্বাচিত দুই মেয়রকে জনপ্রতিনিধি হয়ে ওঠাই বড় চ্যালেঞ্জ
করোনা মোকাবিলা, মশা নিধন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নারীর জন্য নিরাপদ নগরী, দখল ও দূষণমুক্ত নগরী, আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থা, নিরাপদ সড়ক ছিন্নমূল পুনর্বাসন, অ্যাপভিত্তিক নাগরিক সমস্যা সমাধান, অনলাইনে সেবা ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়া তোলা হবে প্রকৃত নগরপিতার কর্তব্য
আশীষ কুমার সেন
সমপ্রতি ঢাকার দুই সিটির দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন নির্বাচিত দুই মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও মো. আতিকুল ইসলাম। উত্তরে মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে আতিকুল ইসলাম এক সপ্তাহ পার করেছেন দু'দিন আগে। আর দক্ষিণে ব্যারিস্টার তাপসে শপথ নেওয়ার এক সপ্তাহ হচ্ছে গতকাল শুক্রবার। দায়িত্ব নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অভ্যন্তরীণ নানা বিষয় বুঝে নেওয়ার বিষয়েই দুই মেয়র এখন বেশি মনোযোগী। তবে মূল কাজ বা পরিকল্পনার জায়গায় অন্য সবকিছুকে সরিয়ে দিয়ে হুট করে যে 'করোনা মোকাবিলা' সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে সেটা দুই মেয়রের কথাতেই পরিষ্কার। এ মুহূর্তে ঢাকাবাসীর চিকিৎসাসেবাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তারা। এছাড়া সামনে বর্ষা। দুই মেয়রের সামনে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, রাস্তা সংস্কার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, যানজট নিরসন ও বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দূরীকরণই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকার দুই সিটির নিজস্ব ক্ষমতার যথাযথ ব্যবহারের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নগর উন্নয়নে সমন্বিত পরিকল্পনায় জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা সিটির নির্বাচিত দুই মেয়রকে 'জনপ্রতিনিধি' হয়ে ওঠাকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রায় সাড়ে তিন মাস পর নবনির্বাচিত দুই মেয়র দায়িত্ব নিয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে ঐতিহ্যের ঢাকা পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাঁচটি রূপরেখা ঘোষণা করেছিলেন মেয়র তাপস। এ পাঁচটি রূপরেখা হলো ঐতিহ্যের ঢাকা, সুন্দর ঢাকা, সচল ঢাকা, সুশাসিত ঢাকা ও উন্নত ঢাকা। ৩০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার কথাও

জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে সুস্থ, সচল ও আধুনিক ঢাকা গড়ার লক্ষ্যে ত্রিমুখী ইশতেহার দেন আতিক। 'সবাই মিলে সবার ঢাকা' সস্নোগান সামনে রেখে ইশতেহারে বছরব্যাপী মশা নিধন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নারীর জন্য নিরাপদ নগরী, দখল ও দূষণমুক্ত নগরী, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা, নিরাপদ সড়ক, ছিন্নমূল পুনর্বাসন, অ্যাপভিত্তিক নাগরিক সমস্যা সমাধান, অনলাইনে সেবা ও স্মার্ট সিটি হিসেবে গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এখন এগুলো বাস্তবায়নের পালা তাঁদের।

নগরবিদদের মতে, কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, জনগণকে দেওয়া কথার সঠিক বাস্তবায়ন করতে হবে। নগর উন্নয়নের জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে। জনগণের সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত ও উন্নয়নে অঞ্চলভিত্তিক পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

মশা নিয়ন্ত্রণ : দায়িত্ব নেওয়ার পরই মশা নিয়ন্ত্রণের বড় চ্যালেঞ্জে পড়তে হবে দুই মেয়রকে। বিগত সময়ে ডেঙ্গু ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয়েছে দুই সিটির মেয়রকে। শতাধিক মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। মানহীন ওষুধ ব্যবহার করার কারণে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয়নি। শহরের নর্দমা, নালা ও আবর্জনাও পরিষ্কার করা হয়নি, সেগুলো মশার প্রজনন স্থান। নতুন দুই মেয়রের শপথ অনুষ্ঠানে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন মশা যেন ভোট না খেয়ে ফেলে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফুটপাত দখলমুক্ত : রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাট। সেসব দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা তুলছে ক্ষমতাশালী গোষ্ঠী। সিটি করপোরেশন রাজস্ব বঞ্চিত হয়। এই ফুটপাত দখলমুক্ত করে মানুষের চলাচলের যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে। পায়ে হাঁটার রাস্তা প্রশস্ত করার দায়িত্ব নিতে হবে দুই মেয়রকে।

পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা : দুই সিটিতে দৈনিক প্রায় সাত হাজার মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে। এর মধ্যে সনাতনী পদ্ধতিতে দুই সিটি করপোরেশন ৭০ শতাংশ ময়লা অপসারণ করছে। আর ৩০ শতাংশ বর্জ্য এখনো অপসারণ করতে পারছে না। এসব বর্জ্য শহরের নদী-নালা, খাল-জলাশয়ে মিশছে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে শহরে মশার প্রজনন বাড়ছে, বায়ুদূষণ বাড়ছে। বাড়ছে নানাবিধ রোগব্যাধি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা যথাযথভাবে হয় না এমন অভিযোগ নগরবাসীর। সিটি করপোরেশনকে কর দেওয়ার পরও ময়লা নেওয়া হয় না। উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে ময়লা।

গৃহকর আদায়ে অব্যস্থাপনা : সরকারের বরাদ্দের পাশাপাশি গৃহকর সিটি করপোরেশনের আয়ের অন্যতম উৎসব। গৃহকর আদায়ে রয়েছে অব্যবস্থাপনা। বাড়িওয়ালা কর পরিশোধ করতে গেলেও সঠিকভাবে পারেন না। ঘুষ দিয়ে সেবা নিতে হয়। এতে করে অনেকে কর না দিয়েই চলছেন। এতে করে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে নগর সংস্থা।

যানজট : ঢাকার অন্যতম সমস্যা হচ্ছে যানজট, যা মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে। যানজট নিরসন সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে সম্ভব না। যানজট নিরসনের দায়িত্ব পুরোপুরি সিটি করপোরেশনের না হলেও জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সবাইকে ডেকে সমস্যা সমাধানে নেতৃত্ব দিতে হবে সিটিকে। সহযোগী উন্নয়ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরসন করতে হবে।

জলজট : জলজট বা জলাবদ্ধতা নগরীর আরেকটি বড় সমস্যা। ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত না হওয়া ও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বর্ষা মৌসুমে নগরীর অনেক এলাকা পানিতে ডুবে যায়। যদিও এ কাজ একা সিটি করপোরেশনের নয়, ওয়াসা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান জড়িত। কিন্তু যেহেতু জলাবদ্ধতা নিয়ে মেয়রকে ভুগতে হয়। তাঁকেই সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে হয়।

ঘিঞ্জি পুরান ঢাকা, ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জ : ঐতিহ্যবাহী পুরান ঢাকা পড়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। এখানকার বাড়ি ও সড়কগুলো ঘিঞ্জি। অনেক ভবন পুরনো হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পুরান ঢাকার ঘোড়ার গাড়ি, পঞ্চায়েত ব্যবস্থাসহ ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র তাপস। কাজেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করা তাঁর জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন-২০১৯-এ মেয়রকে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আগের মেয়ররা সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছেন। কোনো কোনো সময় সমন্বয় করতে গিয়ে বাগযুদ্ধও হয়েছে কিন্তু কার্যত কোনো ফল আসেনি।

ঢাকা সিটির নির্বাচিত দুই মেয়রকে 'জনপ্রতিনিধি' হয়ে ওঠাকে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করেন স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ। তিনি দৈনিক জনতাকে বলেন, দুইজনই নিজ নিজ পেশায় সফল। তবে সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব পালনে অনেক কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে, সেগুলো উতরে জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে হবে। অনেক সংস্থা জড়িত থাকায় সিটি করপোরেশন একা চাইলেও অনেক কিছু করতে পারবে না উল্লেখ করে ড. তোফায়েল বলেন, নিজের ক্ষমতার মধ্যে সিটির দুই মেয়রকে প্রথমে ফুটপাত ও খাল দখলমুক্ত করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা ও হোল্ডিং ট্যাঙ্ আদায়ে জোর দিতে হবে। বাড়ির মালিক কর দিলেও ময়লা পরিষ্কার হয় না। বাধ্য হয়ে স্থানীয় ক্ষমতাধরকে টাকা দিতে ময়লা পরিষ্কার করতে হয়। সেটা বন্ধ করতে হবে। জলাবদ্ধতা দূর করতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ট্রাফিক জ্যাম কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হবে। জনগণকে স্বস্তি দিতে অনেক কিছুই করতে হবে মেয়রকে।

নগর বিশেষজ্ঞ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, সিটির ক্ষমতা মেয়রকেন্দ্রিক কুক্ষিগত না থেকে কাউন্সিলর নির্ভর হতে হবে। আঞ্চলিক পরিকল্পনা হাতে নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দ দিতে হবে। কিন্তু বরাবরই দেখা যায় কাউন্সিলদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তিনি বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে নগরীর মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জোর দিতে হবে। ময়লা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ড্রেন ও খাল অবমুক্ত করতে হবে। ভবন সুরক্ষিত কি না সেটাও যাচাই-বাছাই করতে হবে। জনচলাচলের জন্য পরিবেশবান্ধব দূষণমুক্ত গণপরিবহন চালু এবং কঠিন ও তরল বজ্র্যের যথাযথ ব্যবস্থাপনা করতে হবে। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী প্রথা ফিরিয়ে আনতেও বড় ভূমিকা পালন করতে হবে। এদিকে, দক্ষিণের মেয়র তাপস বলেছেন, করোনা মোকাবিলায় সফল রাষ্ট্রগুলোর অভিজ্ঞতার আলোকেই কাজ করবেন। আর করোনার সময়ও মাঠে থাকা উত্তরের মেয়র আতিক দুস্থদের খাদ্য বণ্টন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি করোনা রোগীদের চিকিৎসায় স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে একটি মার্কেট হস্তান্তর করেছেন এরইমধ্যে। তবে নগরীর পরিচ্ছন্নতা কাজে উভয় মেয়র মনোযোগী। আপাতত গুরুত্ব দিচ্ছেন বিস্নচিং পাউডার ছিটানোয়।

গত ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ের আগে মাঠ চষে বেড়ানোর সময় এই দুই মেয়র বা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের নির্বাচনি ইশতেহারে করোনা শব্দটিই ছিল না । গত নভেম্বরে চীনের উহানে এই ভাইরাসের উৎপত্তির খবর বাংলাদেশের মানুষ সংবাদ মাধ্যমে শুনে থাকলেও এই ভাইরাস যে মাত্র তিন মাস পরেই বাংলাদেশসহ সারা পৃথিবীকে বিপর্যস্ত করে ফেলবে সেটা ছিল সবার ধারণার বাইরে ছিল। ফলে রাজধানীর ওই সময়ের নির্বাচনে ভোটারদের কাছে রাজনৈতিক নানা বিবেচনার বাইরে শুনতে চাওয়ার প্রধান বিষয় ছিল কোন মেয়র প্রার্থী কী কী পরিকল্পনার কথা বলছেন, কোন কোন কর্মসূচি হাতে নেওয়াকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। অন্য প্রার্থীদের মতোই বিজয়ী উভয় প্রার্থীরই ছিল রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন ও ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণেই অগ্রাধিকার। অথচ তাদের বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের আগেই অচেনা শত্রু করোনাভাইরাস বিশ্ব প্রেক্ষাপটকেই বদলে দেওয়ায় শপথ নেওয়ার পর তাদের কাছে এখন জলাবদ্ধতা নিরসন ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে করোনা মোকাবিলা।

৫টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে গত ১৬ মে দুপুরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দায়িত্বগ্রহণ করেন ব্যরিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এসময় তিনি বলেন, আমার মনে হয় না শতবছরেও এরকম চাপ নিয়ে আর কোনও মেয়র দায়িত্বগ্রহণ করবে। যেই মহামারির মধ্যে আমরা পড়েছি তাতে সারা বিশ্ববাসী চাপের মধ্যে আছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর আমি ৫টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এর মধ্যে প্রথম হচ্ছে করোনা মোকাবিলা।

হোম ওয়ার্কে অভিজ্ঞ মেয়র ফজলে নূর তাপস তখন করোনাভাইরাস মোকাবিলায় রাষ্ট্রের অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত পরিকল্পনার কথা জানান। নিজের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে মেয়র বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর, আইইডিসিআর ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সবার সমন্বয়ে আমাদের যে হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো আছে সব কিছুকে নিয়ে আমরা ঢাকাবাসীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপকভাবে কার্যক্রম শুরু করতে চাই। যাতে করে আমরা ঢাকাবাসীকে সুরক্ষা দিতে পারি। বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা দিয়ে ঢাকাবাসীকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা জানিয়ে ফজলে নূর তাপস বলেন, অনেকগুলো দেশ, তারা কিন্তু সফলতা অর্জন করতে পারেনি। আবার অনেক ছোট দেশও কিন্তু সফলতা অর্জন করতে পেরেছে। এরমধ্যে ভিয়েতনাম, নিউজিল্যান্ড, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও হংকং করোনা মোকাবিলায় অনেক ভালো করেছে। আমরা তাদের কার্যক্রমগুলোকে গ্রহণ করতে চাই। কন্ট্রাক ট্রেসিং, টেস্টিং, সার্ভিলেন্স ও এনটেইনমেন্ট, এই চারটি ধাপে আমরা কাজটি করতে চাই। করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতার আশঙ্কা করে মেয়র বলেন, করোনা সম্পূর্ণভাবে নির্মূল হয়তো কোনোদিন নাও হতে পারে। সুতরাং আমাদের জীবন ও জীবিকার তাগিদেই কার্যক্রম চালাতে হবে। এই করোনাভাইরাসকে নির্মূল করার জন্য আমাদের যে কয়টি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে সেসব নিয়ে ব্যাপকভাবে কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নিয়েছি। এটাকে কীভাবে আরও বেগবান করা যায় এবং ঢাকাবাসী যেন চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত না হয় আমরা সেদিকে নগর রাখছি।

তবে করোনা মোকাবিলায় মেয়র বিস্তর পরিকল্পনার কথা জানালেও এখন পর্যন্ত ডিএসসিসির পক্ষ থেকে সড়কে জীবাণুনাশক বিস্নচিং পাউডার ছিটানো ছাড়া আর কোনও কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না। আশা করা যায়, অচিরেই করোনা মোকাবিলায় ঢাকা দক্ষিণ মেয়রের পরিকল্পনার বিস্তারিত বাস্তবায়ন দেখতে পাবে নগরবাসী।

এদিকে, গত মার্চে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর সরকার সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যবিধি ঘোষণার পর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। খাদ্য বিতরণসহ ছিল আরও কিছু দৃশ্যমান কর্মসূচি। নতুন মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার পর শপথের আগের প্রায় আড়াই মাস প্রথমে নাগরিকদের পক্ষে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের কাজ দেখার ঘোষণা দেন মেয়র আতিকুল। মশা নিধন কর্মসূচি দেখভাল শুরু করতে না করতেই দেশে হানা দেয় করোনাভাইরাস। এরপর সিটি করপোরেশনের হাত ধোয়ার বেসিন স্থাপনের কাজের উদ্বোধনের পর করোনা মোকাবিলায় দুস্থদের পাশে দাঁড়াতে নিজের প্ল্যাটফর্ম 'সবাই মিলে সবার ঢাকা'র পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে আসছেন তিনি। ইতোমধ্যে দুস্থ, হিজড়াসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর মানুষকে এ সহায়তা দিয়েছেন তিনি। জানতে চাইলে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য আমাদের একটি মার্কেট স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করেছি। এছাড়া ডিএনসিসি এলাকায় প্রতিদিন ১০টি ওয়াটার বাইজারের মাধ্যমে ব্যাপক হারে জীবাণুনাশক ছিটাচ্ছি। করোনা টেস্টের জন্য ৭টি স্থানে বুথ স্থাপন করেছি। নাগরিকদের মধ্যে খাদ্যসহায়তাসহ হাত ধোয়ার সাবান বিতরণ করেছি। এসব কাজ অব্যাহত থাকবে। ঢাকাবাসী যেন চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত না হন সেজন্য করোনা মোকাবিলায় আরও কিছু কর্মপরিকল্পনার কথা জানান তিনি। বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এসব পরিকল্পনা দৃশ্যমান হবে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ১৫
ফজর৩:৫৪
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:২০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২০৩২৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.