নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১২ জুন ২০১৯, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৮ শাওয়াল ১৪৪০
চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য যুদ্ধে ক্ষতি কার?
কাজী আশফিক রাসেল
বিশ্ব অর্থনীতির দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়। সমপ্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করায় চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যযুদ্ধ অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে উত্তেজনাকর। নতুন এ শুল্ক বৃদ্ধির আগে চীনের ২০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যা বর্তমানে বৃদ্ধি পেয়ে ২৫ শতাংশ হয়েছে। এছাড়াও, ট্রাম্প আরো ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আগামী জুন নাগাদ আরো ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর এ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই নতুন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে দিয়ে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে আলোচনার যে শুভ সূচনা হয়েছিল, তা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হলো সে কথা হলফ করেই বলা যায়। প্রত্যুত্তরে চীন ৬ হাজার কোটি মার্কিন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে। দুই দেশের এ বাণিজ্যযুদ্ধ শুধু শুল্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হুয়াওয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যে বিমাতাসুলভ আচরণ, তার খানিকটা যে বর্তমান বাণিজ্যযুদ্ধের প্রভাব, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। হুয়াওয়ের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশেই কানাডায় গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে। আর অতিসমপ্রতি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে হুয়াওয়েকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে যারা হুয়াওয়ের সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে যুক্ত, তারা যেন সেই সম্পর্ক অতি দ্রুতই ছিন্ন করে। আর তারই ধারাবাহিকতায় গুগল, ইন্টেলসহ আরো কিছু প্রধান প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে হুয়াওয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।

দুই দেশের এই তীব্র বাণিজ্যযুদ্ধের ফলে কে লাভবান হচ্ছে আর কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেটা খতিয়ে দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের এটা বিশ্বাস যে, শুল্ক আরোপের ফলে যুক্তরাষ্ট্র লাভবান হচ্ছে। কিন্তু তাঁর এ বিশ্বাস যদি সত্য হয় তাহলে শুল্ক আরোপের ফলে চীনের পণ্য ও সেবার দাম যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বেড়ে যাওয়ার কথা এবং চীনা রফতানিকারকরা মার্কিন বাজার হারাবে। আর যদি সেই বাজার পুনরুদ্ধার করতে চায়, তাহলে তাদের পণ্য ও সেবার দাম কমাতে হবে। কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। মার্কিন বাজারে চীনা পণ্যের দাম কমেনি। তার মানে, চীনা রপতানিকারকরা শুল্কের বোঝা মার্কিন ভোক্তাদের ওপর চাপাতে সমর্থ হয়েছে। তবে শুল্ক আরোপের প্রধান নেতিবাচক দিক হচ্ছে আন্তর্জাতিক মুক্ত বাণিজ্যের ফলে ভোক্তা ও উৎপাদনকারী যে বাড়তি উপযোগ বা সুবিধা পায়, সেটার বিলুপ্তি। ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ ডেভিড রিকার্ডোর প্রদত্ত

ঈড়সঢ়ধৎধঃরাব ধফাধহঃধমব ঃযবড়ৎ অনুসারে কোনো একটি দেশ সেই পণ্য বা সেবা উৎপাদনে মনোনিবেশ করবে, যেখানে তার তুলনামূলক সুবিধা রয়েছে। আর অন্য সব প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করবে।

শুল্কমুক্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে পরিমাণ পণ্য ও সেবা উৎপাদন হবে, শুল্ক আরোপের ফলে উৎপাদন তার চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম হবে। অর্থাৎ শুল্ক আরোপের ফলে কিছু উৎপাদক, যারা শুল্কমুক্ত বাণিজ্যে অর্থনৈতিকভাবে বাজারে টিকে থাকতে সক্ষম, তারা আর টিকে থাকবে না। ফলে জাতীয় পর্যায়ে বেকারত্ব বাড়বে । অন্যদিকে ভোক্তারা সেই পণ্য বা সেবা বেশি দামে কিনতে বাধ্য হবে।

রিকার্ডো প্রদত্ত এ তত্ত্বের আলোকে দেখা যায় যে যুক্তরাষ্ট্র চীনের যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে, সেসব পণ্যের দাম মার্কিন বাজারে বেড়ে যাওয়ায় অনেক চীনা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে। আবার মার্কিন ভোক্তারা এই একই পণ্য স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে আগের চেয়ে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে মার্কিন পণ্যের ওপর চীনের প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ একই প্রভাব ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিষ্ঠান চীনে তাদের বাজার হারাবে। ফলে ব্যবসাও গুটিয়ে নিতে হতে পারে। এ অবস্থায় চীনের ভোক্তারা বেশি দামে স্থানীয় পণ্য কিনতে বাধ্য হবে।

সুতরাং এটা অত্যন্ত সুস্পষ্ট যে, শুল্ক আরোপের ফলে দুই দেশের ভোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হবে। সেই সঙ্গে দুই দেশের কিছু উৎপাদন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। যদি কিছু লাভ হয়, সেটা হচ্ছে যে স্থানীয় কিছু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যারা পূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকতে অক্ষম, তারা আবার উৎপাদনে ফিরে আসবে। এতে কিছু কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতির আলোকে এসব প্রতিষ্ঠান অদক্ষ। সুতরাং তাদের কর্মসংস্থান সম্পদের প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে সম্পদের অদক্ষ বণ্টনকে উৎসাহিত করবে।

কাজী আশফিক রাসেল : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১২
ফজর৪:৫৩
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩২
সূর্যোদয় - ৬:১১সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭৫০০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.