নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১২ জুন ২০১৯, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৮ শাওয়াল ১৪৪০
জনতার মত
কৃষিপ্রধান দেশে অবহেলিত কৃষক ও কৃষি
ইমরান হোসাইন
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। মানবজাতির আদিমতম পেশা হচ্ছে কৃষি। দেশের খাদ্য যোগান দেয় কৃষকরা। দেশের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। মোট দেশজ উৎপাদন তথা জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান ১৯.১% এবং কৃষি খাতের মাধ্যমে ৪৮.১% মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে। মানুষের জীবনধারণের জন্য খাদ্যশস্য উৎপাদন অপরিহার্য। কৃষি ও কৃষক আমাদের প্রত্যেকেরই মানুষের শেকড়ের সাথে কোনো না কোনোভাবে মিশে আছে। কিন্তু শেকড়কে আমরা ভুলে যাই অতি সহজে। আমাদের অধিকাংশ মানুষের বাপ-দাদার পেশাও কৃষি। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নয়নের চাবিকাঠি হচ্ছে এদেশের কৃষক সমাজ। কৃষক শ্রম দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, আপন সন্তানের মতো লালন-পালন করে ফসল ফলায়। শস্যের যত্ন করেন, সার কীটনাশক দেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিজের ইচ্ছামতো যত্ন নেয়। কখনো ঝড় বৃষ্টি বা তীব্র রৌদ্র কোনো কিছু কষ্ট মনে না করে মাঠে কাজ করে আমাদের দেশের কৃষকরা। তবুও ভালোবাসা আর কষ্ট মিশ্রিত কৃষকেরা স্বপ্ন দেখেন ফসল নিয়ে। কৃষক শব্দটির সাথে কষ্টের অনেক মিল। কিন্তু যখন কোনো ফসল উৎপাদন করেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না, তখন কৃষকদের কি অবস্থা হচ্ছে! আপনি একটু ভাবেন তো? এবার ধানের দাম একেবারেই নেই। প্রতি মণ ধানের দাম থেকে প্রতি শ্রমিকের মজুরির দাম-ই বেশি। বীজতলা থেকে শুরু করে প্রতি মণ ধান ঘরে তুলতে প্রায় হাজার টাকার উপরে খরচ হয়। কিন্তু ধান বিক্রি করছে তার অর্ধেক দামে। এতে করে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের ধানের ন্যায্যমূল্য দেয়া উচিত। কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষকের কষ্ট সারাজীবন। আমরা কখন ভাবিনা আমাদের জীবনে তাদের কত অবদান রয়েছে। একজন কৃষক জমিতে ফসল ফলান, অনেক শ্রম ও ঘাম ঝরে তার। চূড়ান্ত ফল মিলে ফসল প্রাপ্তিতে, কিন্তু সেই দামও যদি সঠিকভাবে না পায়। কৃষক যে ফসল ফলাচ্ছেন আমরা কি তার ন্যায্যমূল্য দিচ্ছি! কিন্তু মাঝখানে মহাজনরা কৃষকের ফসলের কম মূল্য দিয়ে ক্রয় করে শহরে বেশি দামে বিক্রি করছে। এমনটি চলতে থাকলে আমাদের উন্নয়ন হবে কি করে। কষ্ট করছেন আমাদের কৃষকেরা, সুখ মিলছে মহাজনরা। সেটা আবার কোন বিনিয়োগ, অবদান ও কষ্ট ছাড়াই! এর ফলে কী হচ্ছে? উৎপাদনকারী কৃষকদের ঠকানো হচ্ছে। কৃষকের উৎপাদন ন্যায্যমূল্যও দেয়া হচ্ছে না। এমনটি চলতে থাকলে কৃষক অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এদিকে আরেক দিশেহারা কৃষক ধানের দাম না পেয়ে রাগে-দুঃখে নিজের পাকা ধান খেতে নিজেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন- টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পাইকড়া ইউনিয়নের বানকিনা গ্রামের কৃষক আবদুল মালেক সিকদারের খেতে আগুন দেয়ার সে ছবি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ধানের ন্যায্যমূল না থাকায় মনের দুঃখে পাকা ধানে আগুন দিয়েছেন তিনি। এই কৃষির উপর চলে কৃষকের জীবন, তার পরিবার, সারা বছরে খরচ এবং কৃষকের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনাসহ প্রভৃতি বিষয়। এতে করে যদি কৃষক সঠিক দাম না পায় তা হলে তার পরিবারকে নিয়ে পথে বসতে হবে। জীবন জীবিকার জন্য এদেশের জনগণ ও অর্থনীতি মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল। তাই কৃষি উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের সামাজিক অর্থনীতি বিপন্ন হয়ে পড়বে। এতে করে আমাদের কৃষকদের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য দিতে হবে। কৃষককের উন্নতি মানে আমাদের দেশের উন্নতি। কৃষকের ক্ষতি মানে দেশের ও আমাদের ক্ষতি।

ইমরান হোসাইন : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ১৪
ফজর৪:৩৯
যোহর১১:৪৫
আসর৩:৫৫
মাগরিব৫:৩৭
এশা৬:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৫৫সূর্যাস্ত - ০৫:৩২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৮৭২.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.