নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১২ জুন ২০১৯, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ৮ শাওয়াল ১৪৪০
বর্ষায় জলাবদ্ধতায় ডুবার আশঙ্কা রাজধানীর
ড্রেন-খাল পরিষ্কারে নেই তৎপরতা
জাহাঙ্গীর খান বাবু
প্রতিবছর বর্ষা এলেই রাজধানী ঢাকায় চলে সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির কাজ। এবারও তার ব্যতিক্রম নেই। চলছে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি। অন্যদিকে উড়াল ও পাতাল রেলপথ নির্মাণে রাজধানীর ব্যস্ততম সড়কে চলছে কাজ। এতে করে এবার বর্ষায় রাজধানীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া ড্রেনগুলোও পানি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এগুলো পরিষ্কারে নেই তৎপরতা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে কয়েকদিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এদিকে জলাবদ্ধতার যন্ত্রণায় ভুগবে রাজধানীবাসী। ঈদের দিন থেকেই মাঝে মাঝে ভারী বর্ষণ চলছে কিন্তু ভারী বর্ষণে নগরীতে যেন বিগত বছরগুলোর মতো জলাবদ্ধতা দেখা না দেয়, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রস্তুতি চলছে যথেষ্ট ঢিমেতালে। পানি নিষ্কাশনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেন-খাল পরিষ্কারেও নেই জোর তৎপরতা।

এ নিয়ে সিটি করপোরেশন আর ওয়াসার মধ্যে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য চলছে। দায়িত্ব কৌশলে এড়িয়ে চলছেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন। এর মধ্যে মেট্রোরেলসহ উন্নয়নমূলক কাজের জন্য নিয়মিতই চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। পানি বের হওয়ার পথগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। রাজধানীর চারপাশে নদী উদ্ধারে তৎপরতা চললেও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার ভেঙে ফেলা অংশ থেকে যাচ্ছে নদীতীরেই। ফলে যে উদ্দেশ্য নিয়ে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হচ্ছে তার সুফল রাজধানীবাসী না পাবার আশঙ্কাই জোরালো হয়ে উঠছে।

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে গবেষণা করা বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সিপ ইন্টারন্যাশনালের 'জার্নি টুওয়ার্ডস ডিসাস্টার রেসিস্টেন্ট ঢাকা সিটি' প্রকল্পের সমন্বয়ক সাইফুন নাহার ইত্তেফাককে বলেন, 'এবার বর্ষা মৌসুমে রাজধানীবাসীর যে কি অবস্থা হবে সেটা বলে বোঝানো যাবে না। পরিকল্পনাহীনতা, সমন্বয়হীনতা, কাজে গাফিলতি, ড্রেন পরিষ্কার না করেই বিল তুলে খেয়ে নেয়াসহ উন্নয়নমূলক কাজগুলো এবার খুবই ভোগাবে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানা গেছে, এবার বৃষ্টিপাত বাড়বে। পাশাপাশি আমরা দেখছি, নদীগুলো দখলমুক্ত করা হচ্ছে। খুব ভালো উদ্যোগ। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে ২৩টি ভবন ভাঙা হয়েছে তার ডাস্ট নদীপাড়েই রয়ে গেছে। এগুলো না সরানো হলে নদীগুলো দিয়ে পানি ঠিকমতো প্রবাহিত হবে না। তাহলে এই উদ্ধার তৎপরতার সুফল মানুষ কীভাবে পাবে? ড্রেনগুলো এখনো ঠিকমতো পরিষ্কার করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক কর্মীদের এসব কাজ দেয়া হচ্ছে। ফলে তারা কাজ না করেই বিল তুলে নিচ্ছে। আমরা দেখছি, সিটি করপোরেশন ও ওয়াসা দৈনন্দিন কাজের বাইরে কিছুই করছে না। মেট্রোরেলসহ একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার যেমন দুরবস্থা, তেমনি পানি নিষ্কাশনের প্রধান এই মাধ্যম ড্রেন নিয়েও সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার মধ্যে আছে রশি টানাটানি। ১৯৯৬ সালের পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ আইনের ১৭ ধারায় বলা আছে, ঢাকা ওয়াসা পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় ড্রেন নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও খাল দেখভাল করবে। অন্যদিকে সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯-এর তৃতীয় তফসিলে বলা হয়েছে, ছোটখাটো নালা, ড্রেন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে সিটি করপোরেশন। এই আইনের সুযোগে তারা পরস্পরের ওপর দোষ চাপিয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, রাজধানীতে প্রায় ১০ কিলোমিটার বঙ্কালভার্ট রয়েছে। এই বঙ্কালভার্ট বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের অন্যতম মাধ্যম। এছাড়া রয়েছে সাড়ে তিনশ কিলোমিটার স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন। এ দুটি মাধ্যমেই বৃষ্টির পানি বিভিন্ন জলাশয়, খাল বা নদীতে পড়ে। এগুলো দেখভাল করে ঢাকা ওয়াসা। এছাড়া ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের রয়েছে ২ হাজার ৫১ কিলোমিটার উন্মুক্ত (সারফেস) ড্রেন। মূলত বৃষ্টির পানি ঐ সারফেস ড্রেন দিয়ে বঙ্কালভার্ট বা স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনে প্রবেশ করে। স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইন বা বঙ্কালভার্ট দিয়ে সরাসরি সেই পানি নিচু জলাশয়ে গিয়ে জমা হয়। কিছু পানি পাম্প করেও বের করা হয়।

জানা যায়, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম শেষে দেখা যায় বঙ্কালভার্ট ও স্টর্ম স্যুয়ারেজ লাইনগুলোর অন্তত ৮০ শতাংশই ভরাট হয়ে যায়। সেগুলো পরিষ্কারের জন্য প্রতিবছর অক্টোবর মাস থেকেই নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এবার সেই উদ্যোগ নিতে বেশ দেরি হয়ে গেছে। এখনও সেই কাজ পুরোপুরি শুরু হয়নি।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান, স্টর্ম স্যুয়ারেজ ও বঙ্কালভার্ট পরিষ্কারের দায়িত্ব ঢাকা ওয়াসার। আর সারফেস ড্রেন পরিষ্কারের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। সারফেস ড্রেনগুলো পরিষ্কারের ব্যাপারে দুই সিটি করপোরেশন কাজ করছে। কিন্তু বঙ্কালভার্ট ও স্টর্ম স্যুয়ারেজ যদি পরিষ্কার করা না হয় তাহলে সারফেস ড্রেন পরিষ্কার করে কোনো লাভ হবে না। তারা বলেন, কারণ সারফেস ড্রেনের পানি বঙ্ কালভার্ট ও স্টর্ম স্যুয়ারেজ ড্রেন দিয়েই যায়। সেগুলো পরিষ্কার না হলে বৃষ্টির পানি রাস্তার ওপরেই ভাসতে থাকবে। তবে সিটি করপোরেশন সারফেস ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করে। এবারও সেটা করছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ১৭
ফজর৪:৩০
যোহর১১:৫৪
আসর৪:১৮
মাগরিব৬:০৪
এশা৭:১৭
সূর্যোদয় - ৫:৪৫সূর্যাস্ত - ০৫:৫৯
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬০১৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.