নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৩ জুন ২০১৮, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমজান ১৪৩৯
মহামহিমান্বিত লাইলাতুল ক্বদর
সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা
লাইলাতুল ক্বদর! অর্থ অতিশয় সম্মানিত ও মহিমান্বিত পবিত্র রজনী। এ ছাড়াও এর অন্য অর্থ হলো ভাগ্য, পরিণাম ও তাকদির নির্ধারণ। এ রাতে মানবকুলের ভাগ্য পুননির্ধারণ করা হয়। তাই এই রাত অত্যন্ত বরকতময় ও মহাসম্মানিত হিসেবে পরিগণিত। কালামে পাকের বর্ণনা অনুসারে, 'আমি কুরআন নাযিল করেছি ক্বদরের রাতে। তুমি কি জান ক্বদরের রাত কি ? ক্বদরের রাত হাজার মাসের চাইতেও উত্তম। ফেরেস্তারা ও রূহ [হযরত জিব্রাইল (আ.)] এই রাতে তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেকটি হুকুম নিয়ে নাযিল হয়। এই রাতটি পুরোপুরি শান্তিময় ফজরের উদয় পর্যন্ত'। (সুরা আল ক্বদর) এই মোবারক মাসের মর্যাদা সম্পর্কে পবিত্র কুরআনের অন্যত্র ঘোষণা করা হয়েছে, 'নিশ্চয়ই আমি তা (কুরআন) এক মুবারকময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়'। (সূরা আদ-দুখান) সুরা বাকারার ১৮৫ আয়াতে বলা হয়েছে, 'রমযান মাস, যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে'। মূলত কুরআন নাযিল ও লাইতুল ক্বদরের জন্যই রমজান মাস অন্য মাসের চেয়ে অধিক সম্মানিত।

'ক্বদর' শব্দের আরও অনেক অর্থ রয়েছে। এটি এখানে তাবেদারী ও হুকুম অর্থেও ব্যবহৃত হয়েছে বলে মনে করেন অনেক তাফসিরকারক । যেহেতু এ রাতে মাখলুকাতের জন্য অনাদি তাকদীরে যা লেখা ছিল, তার যে অংশ এ বছর থেকে আগামী রমজান পর্যন্ত সংঘটিত হবে- তা সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ফিরিশতার হাতে প্রদানের হুকুম দেয়া হয়। এ কারণে এ রাতকে লাইলাতুল ক্বদর বলা হয়। শব্দটির আরেকটি অর্থ হচ্ছে মূল্যায়ন, মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব। যেহেতু এ রাতও সম্মান ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী তাই তাকে লাইলাতুল ক্বদর বলা হয়। এ রাত সম্মানিত ও মর্যাদাবান হওয়ার দু'টি উদ্দেশ্য হতে পারে। ক) যে ব্যক্তি রাত জেগে ইবাদত করবে সে আল্লাহর কাছে সম্মান ও মর্যাদার অধিকারী হবে। খ) এ রাতে যে ইবাদত করা হয় তা অন্যান্য রাতের ইবাদতের তুলনায় বেশি সওয়াব ও মর্যাদার অধিকারী।

প্রসিদ্ধ তাফসির গ্রন্থে এসেছে, রাসূল (সা.) একদিন সাহাবায়ে কিরামদের বৈঠকে বনি ইসরাইলের এক আবেদের কথা উল্লেখ করেন যে, তিনি এক হাজার মাস নিরবচ্ছিন্নভাবে আল্লাহর ইবাদাতে মশগুল ছিলেন। তিনি কখনো পরিশ্রান্তও হননি বা বিশ্রামও নেন নি। সাহাবায়ে কিরাম (রা.) এ কথা শুনে আক্ষেপ করে বললেন, 'আমরা তো এত দীর্ঘ হায়াত প্রাপ্ত নই তাই বনি ইসরাইলের সেই যোদ্ধার মত মর্যাদা লাভ করাও তাদের পক্ষে সম্ভব নয়'। এমতাবস্থায় জিব্রিল আমীন আল্লাহর পক্ষ থেকে কুরআনুল কারিমের এ মর্যাদাপূর্ণ সূরা ক্বদর নিয়ে রাসূল (সা.) নিকট আগমন করেন। তখন রাসূল (সা.) এ সুখবরটি সাহাবায়ে কেরাম (রা.) নিকট বলেন, 'হাজার মাসের শ্রেষ্ঠ রজনী লাইলাতুল ক্বদর'। অর্থাৎ উম্মতে মোহাম্মদী স্বল্প আয়ুর হলেও বিশেষ দিনে অল্প ইবাদাতের মাধ্যমেই বনি ইসরাইলীদের সমকক্ষ হতে পারেন। উম্মতে মোহাম্মদীর জন্য নিঃসন্দেহে এটা বিশেষ মর্যাদা। যা অন্য কোন নবীর উম্মতদেরকে দেয়া হয়নি।

হাদীসের বর্ণনা মতে, লাইলাতুল ক্বদরের রজনীতে যে বা যারা আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকে, আল্লাহ তাকে বিশেষ মর্যাদা দান করেন। এ সম্পর্কিত হাদীসটি হল, সমস্ত রজনী আল্লাহ তাআলা লাইলাতুল কদর দ্বারাই সৌন্দর্য ও মোহনীয় করে দিয়েছেন, অতএব তোমরা এ বরকতময় রজনীতে বেশি বেশি তাসবিহ-তাহলিল ও ইবাদত-বন্দেগিতে রত থাকো। অন্য হাদিসে তিনি বলেছেন, তোমরা তোমাদের কবরকে আলোকিত পেতে চাইলে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর রাতে জেগে রাতব্যাপী ইবাদত-বন্দেগিতে কাটিয়ে দাও।

হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, রাসূলু (সা.) বলেছেন, শবে ক্বদরে হযরত জিবরাঈল আ. ফিরিশতাদের সাথে দলবদ্ধ হয়ে অবতরণ করেন। তাঁরা ঐসব লোকদের জন্য রহমতের দোয়া করতে থাকেন, যারা রাত জেগে দাঁড়িয়ে বা বসে আল্লাহর জিকির ও ইবাদতে মশগুল থাকেন।

তারপর রমজান গত হয়ে যখন ঈদুল ফিতর আসে, তখন আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দাদের নিয়ে ফেরেস্তাগণের সামনে গর্ববোধ করেন। তখন তিনি ফেরেস্তাদের জিজ্ঞেস করেন, ঐ শ্রমিকের পারিশ্রমিক কি হতে পারে, যে পূর্ণ শ্রম ব্যয় করেছে। উত্তরে তারা বলে, তাদের প্রতিদান হলো পূর্ণ পারিশ্রমিক দিয়ে দেয়া। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে ফেরেস্তারা! আমার বান্দা ও বান্দীরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পূর্ণরূপে পালন করেছে, অতঃপর আমার নিকট দোয়া করতে করতে ঈদগাহে বের হয়েছে। আমার সম্মান ও বড়ত্বের কসম! জেনে রেখ, নিশ্চয়ই আমি তাদের দু'আ কবুল করব। তারপর (বান্দাদের উদ্দেশ্যে) বলেন, তোমরা ঘরে ফিরে যাও, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম। রাসূলু (সা.) বলেন, অতঃপর তারা বাড়ি ফিরে ক্ষমাপ্রাপ্ত হয়ে।' [শুআবুল ঈমান-৩/৩৪৩, মিশকাত-১৮২]

তাফসীরবিদগণ উল্লেখ করেছেন, ক্বদরের এক রাতের ইবাদত ঐ হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে উত্তম যাতে লাইলাতুল ক্বদর নেই। আর যেহেতু ১০০০ মাসে ৮৩ বছর ৪ মাস হয়, এই হিসেবে যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদর পেল এবং তাতে ইবাদত করলো, সে যেন ৮৩ বছর ৪ মাস আল্লাহর ইবাদত করে কাটিয়ে দিল। এ কথাটিও লক্ষণীয় যে, আল্লাহ তা'আলা লাইলাতুল ক্বদরকে হাজার মাস থেকে উত্তম বলেছেন; হাজার মাস বরং তার চাইতেও অধিক মর্যদাবান এই মহিমান্বিত রজনী। তবে এটা কতবেশি তা আল্লাহ তায়ালাই ভাল জানেন।

লাইলাতুল ক্বদরের মর্যাদা বহুসংখ্যক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হযরত আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদরে ঈমানের সাথে সওয়াবের নিয়তে ইবাদতের জন্য দাঁড়ায়, তার পেছনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়। [বুখারী-১/২৭০, মুসলিম-১/২৫৯] হযরত উবাদাহ ইবনে সামেত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূল (সা.)এর কাছে লাইলাতুল ক্বদর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে নবী করীম সা. বলেন, লাইলাতুল ক্বদর রমজানে হয়। তোমরা রমজানের শেষ দশকে তা অনুসন্ধান কর। কেননা, শবে ক্বদর ২১/২৩/২৫/২৭/২৯তম রাতে কিংবা শেষ রাতে হয়ে থাকে। সুতরাং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় সে রাত অন্বেষণ করে এবং তা পেয়ে যায়, তার পূর্বের ও পরের সকল গুনাহ মাফ হয়ে যায়। [মুসনাদে আহমদ-৫/৩১৮, মাজমাউয যাওয়ায়েদ-৩/১৭৫]

হযরত আয়েশা রা. বলেন, আমি রাসূলকে (সা.) বললাম, হে আল্লাহ রাসূল! আমি যদি জানতে পারি যে, এটা শবে ক্বদর তাহলে আমি কি দু'আ চাইব? রাসূল (সা.) বললেন, তুমি এই দু'আ পড়বে- 'হে আল্লাহ! তুমি অনেক বড় ক্ষমাশীল। তুমিতো ক্ষমা পছন্দ কর। তুমি আমার গুনাহসমূহকে ক্ষমা করে দাও।' [তিরমিযী-২/১৭১, ইবনে মাজাহ-২৮২, মুসনাদে আহমদ-৬/১৭১, মুসতাদরাকে হাকেম-১/৫৩০, শুআবুল ঈমান-৩/৩৩৯] হযরত আনাস ইবনে মালেক রা. বলেন, একবার রমজান শুরু হওয়ার পর রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, তোমাদের কাছে একটি মাস এসেছে, যাতে একটি রাত আছে, যা হাজার রাতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ। যে ব্যক্তি এ রাত থেকে বঞ্চিত সে হাজারো কল্যাণ ও বরকত থেকে বঞ্চিত। আর যে ব্যক্তি শবে ক্বদরের বরকত থেকে বঞ্চিত, সে প্রকৃতপক্ষে বঞ্চিত। [ইবনে মাজাহ ]। এই রাতে কুরআন নাযিল করার দু'টি অর্থ হতে পারে। এক, এই রাতে সমগ্র কুরআন অহীর ধারক ফেরেশতাদেরকে দিয়ে হয়। তারপর অবস্থা ও ঘটনাবলী অনুযায়ী তেইশ বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে জিব্রাইল (আ.) আল্লাহর হুকুমে তার আয়াত ও সূরাগুলো রাসূল (সা.)-এর ওপর নাযিল করতে থাকেন। ইবনে আব্বাস (রা.) এ অর্থটি বর্ণনা করেছেন। (ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবী হাতেম, হাকেম, ইবনে মারদুইয়া ও বায়হাকী)-এর দ্বিতীয় অর্থ হচ্ছে, এই রাত থেকেই কুরআন নাযিলের সূচনা হয়। এটি ইমাম শা'বীর উক্তি। অবশ্য ইবনে আব্বাসের (রা.) ওপরে বর্ণিত বক্তব্যের মতো তাঁর একটি উক্তিও উদ্ধৃত করা হয়। (ইবনে জারীর) যা হোক, উভয় অবস্থায় কথা একই থাকে। অর্থাৎ রসূল (সা.)-এর ওপর কুরআন নাযিলের সিলসিলা এই রাতেই শুরু হয় এবং এই রাতেই সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত নাযিল হয়। এটিই অধিকতর গ্রহণযোগ্য মত।

মূলত রসূল (সা.) এবং তাঁর ইসলামী দাওয়াতের জন্য কোন ঘটনা বা ব্যাপারে সঠিক নির্দেশ লাভের প্রয়োজন দেখা দিলে তখনই আল্লাহ কুরআনের সূরা ও আয়াতগুলো রচনা করতেন না। বরং সমগ্র বিশ্ব-জাহান সৃষ্টির পূর্বে অনাদিকালে মহান আল্লাহ পৃথিবীতে মানব জাতির সৃষ্টি, তাদের মধ্যে নবী প্রেরণ, নবীদের ওপর কিতাব নাযিল, সব নবীর পরে মুহাম্মাদ (সা.)কে পাঠানো এবং তাঁর প্রতি কুরআন নাযিল করার সমস্ত পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছিলেন। ক্বদরের রাতে কেবলমাত্র এই পরিকল্পনার শেষ অংশের বাস্তবায়ন শুরু হয়। এই সময় যদি সমগ্র কুরআন অহী ধারক ফেরেশতাদের হাতে তুলে দেয়া হয়ে থাকে তাহলে তা মোটেই বিস্ময়কর নয়। কোন কোন তাফসীরকারক কদরকে তকদীর অর্থে গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ এই রাতে আল্লাহ তকদীরের ফায়সালা জারী করার জন্য তা ফেরেশতাদের হাতে তুলে দেন। সূরা দুখানের নিম্নোক্ত আয়াতটি এই বক্তব্য সমর্থন করে।

'এই রাতে সব ব্যাপারে জ্ঞানগর্ভ ফায়সালা প্রকাশ করা হয়ে থাকে।' (৪ আয়াত) অন্যদিকে ইমাম যুহরী বলেন, কদর অর্থ হচ্ছে শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা । অর্থাৎ এটি অত্যন্ত মর্যাদাশালী রাত। এই অর্থ সমর্থন করে এই সূরার নিম্নোক্ত আয়াতটি 'কদরের রাত হাজার মাসের চাইতেও উত্তম'। এখন প্রশ্ন হচ্ছে , এটা কোন রাত ছিল। এ ব্যাপারে ব্যাপক মতবিরোধ দেখা যায়। এ সম্পর্কে প্রায় ৪০ টি মতের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে আলেম সমাজের সংখ্যাগুরু অংশের মতে রমযানের শেষ দশ তারিখের কোন একটি বেজোড় রাত হচ্ছে এই কদরের রাত। আবার তাদের মধ্যেও বেশিরভাগ লোকের মত হচ্ছে সেটি সাতাশ তারিখের রাত। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত নির্ভরযোগ্য হাদীসগুলো এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে।

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বর্ণনা করেছেন, রসূল (সা.) লাইলাতুল কদর সম্পর্কে বলেন : সেটি সাতাশের বা উনত্রিশের রাত। (আবু দাউদ ) হযরত আবু হুরাইরার (রা.) অন্য একটি রেওয়ায়াতে বলা হয়েছে সেটি রমযানের শেষ রাত। (মুসনাদে আহমাদ) যির ইবনে হুবাইশ হযরত উবাই ইবনে কা্থবকে (রা.) কদরের রাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি হলফ করে কোন কিছুকে ব্যতিক্রম হিসেবে দাঁড় না করিয়ে বলেন, এটা সাতাশের রাত। (আহমাদ, মুসলিম , আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও ইবনে হিব্বান) হযরত আবু যারকে (রা.) এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি বলেন, হযরত উমর (রা.), হযরত হুযাইফা (রা.) এবং রসূল (সা.)-এর বহু সাহাবার মনে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ ছিল না যে, এটি রমযানের সাতাশতম রাত। (ইবনে আবী শাইবা) হযরত উবাদাহ ইবনে সামেত (রা) বর্ণনা করেছেন, রসূল (সা.) বলেন, রমযানের শেষ দশ রাতের বেজোড় রাগুলোর যেমন একুশ, তেইশ, পঁচিশ, সাতাশ বা শেষ রাতের মধ্যে রয়েছে কদরের রাত। (মুসনাদে আহমাদ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, রসূল (সা.) বলেন, তাকে খোঁজ রমযানের শেষ দশ রাতের মধ্যে যখন মাস শেষ হতে আর নয় দিন বাকি থাকে। অথবা সাত দিন বা পাঁচ দিন বাকি থাকে। (বুখারী) অধিকাংশ আলেম এর অর্থ করেছেন এভাবে যে রসূল (সা.) এখানে বেজোড় রাতের কথা বলতে চেয়েছেন।

হযরত আয়েশা ( রা) বর্ননা করেছেন, রসূল (সা.) বলেন : কদরের রাতকে রমযানের শেষ দশ রাতের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে তালাশ করো। ( বুখারী, মুসলিম, আহমাদ, তিরমিযী ) হযরত আয়েশা (রা) ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর ( রা) এও বর্ণনা করেছেন যে, রসূল (সা.) ওফাতের পূর্ব পর্যন্ত রমযানের শেষ দশ রাতে ইতিকাফ করেছেন।

মূলত আল্লাহ মানুষকে দুনিয়াতে খলিফা বা প্রতিনিধি হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আর প্রতিনিধির দায়িত্ব হলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের আদেশ ও নিষেধ পুরোপুরি পালন করা। আর ভাল কাজের পুরস্কার গ্রহণের জন্য আল্লাহ মানুষ মৃত্যু নামক নিয়ামতও দান করেছেন। কালামে পাকে বলা হয়েছে,আল্লাহ বলেন, 'যিনি (আল্লাহ) জন্ম ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, যাতে করে এর দ্বারা তিনি তোমাদের যাচাই করে নিতে পারেন কর্মক্ষেত্রে কে তোমাদের মধ্যে সৎকর্মশীল'। সুরা আল মূলক, আয়াত-২। এতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, দুনিয়া আমাদের জন্য পরীক্ষা ক্ষেত্র। তাই আল্লাহর দেয়া আদেশ ও নিষেধ যথাযথভাবে পালন করে ইহকালীন কল্যাণ ও পরকালীন মুক্তি অর্জন করতে হবে। আর ইবাদাত-বন্দেগী করার জন্য আমাদেরকে অনেক মর্যাদাপূর্ণ দিন ও সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে।

মহামহিমান্বিত লাইতুল ক্বদর এর মধ্যে অন্যতম। তাই লাইলাতুল ক্বদরের রাতের মর্যাদাকে কাজে লাগিয়ে বেশি বেশি নফল ইবাদাতসহ এই রাতে কুরআন তেলাওয়াত, অর্থসহ পঠন, হৃদয়ঙ্গম ও বাস্তবজীবনে তার প্রতিফলন জরুরি। কুরআন নিয়ে গবেষণা ও অন্যদের কুরআন শেখানোও এই রাতের খুবই মর্যাদাপূর্ণ আমল। আসলে এই রাতে আল্লাহর সাথে নিবিঢ় সম্পর্ক স্থাপন, তারাবীহ ও তাহাজ্জুদসহ বেশি বেশি নফল আমল করার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়াও তাওবা, অতীত কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে লজ্জিত হওয়া, অন্যায় কাজ পরিবত্যাগ করার জন্য প্রত্যয় গ্রহণসহ জীবনের সকল ক্ষেত্রে আল্লাহকে একমাত্র ইলাহ ও রাসুল (সা.) এর জীবনাদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করার শিক্ষাও নিহিত আছে। কারণ, আমাদেরকে সন্তষ্ট চিত্তে এবং আল্লাহকে সন্তষ্ট সেই মহান প্রভূর কাছে ফিরে যেতে হবে। মহাগ্রন্থ আল কুরআনে ঘোষিত হয়েছে, 'হে প্রশান্ত আত্মা! তুমি তোমার মালিকের কাছে ফিরে যাও সন্তষ্টচিত্তে ও তার প্রিয়ভাজন হয়ে। অতপর শামিল হয়ে যাও আমার নেক বান্দাদের মধ্যে এবং প্রবেশ করো আমার জান্নাতে'। (সুরা আল ফজর, আয়াত-২৭-৩০। তাই লাইলাতুল ক্বদরের মর্যাদা ও গুরুত্ব কাজে লাগিয়ে স্বীয় আত্মাকে প্রশান্ত করেই আমাদেরকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সে তাওফিক দান করুন-আমীন!

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা : সাংবাদিক
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ১৭
ফজর৩:৫৫
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৩
সূর্যোদয় - ৫:২১সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৮৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.