নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৩ জুন ২০১৮, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমজান ১৪৩৯
লাইলাতুল ক্বদরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির
বরকতময় ও মহিমান্বিত যে সব দিবস ও রজনী রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শবে ক্বদর বা লাইলাতুল কদর। ইসলামে লাইলাতুল ক্বদর বা শবে ক্বদর সত্যিই বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ক্বদরের এক অর্থ মাহাত্ম বা সম্মান। অন্যান্য রাতের তুলনায় এ রাত মহিমান্বিত হওয়ার কারণ এটাকে লাইলাতুল ক্বদর তথা মহিমান্বিত রাত বলা হয়। এ রাতে আল্লাহ তায়ালা যে কিতাব অবতীর্ণ করেছেন সেটা মহিমান্বিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানী কিতাব যে নবীর উপর অবতীর্ণ, তিনিও মহিমান্বিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী এবং যে উম্মতের জন্য অবতীর্ণ করেছেন, তারাও মহিমান্বিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত। সবর্োপরি আমল না করার কারণে যার সম্মান ও মূল্য ছিলনা সেও এ রাতে তওবা ইস্তিগফার ও বন্দীগির মাধ্যমে মহিমান্বিত হতে পারে। বিশ্ব মানবতার মুক্তির সনদ, আল কোরআন নাযিল করা হয়েছিল এ রাতে। এরশাদ হচ্ছেঃ 'নিশ্চয়ই আমি কোরআনকে মহিমাময়ী রাত্রিতে অবতীর্ণ করেছি'। একই সূরায় এরশাদ হচ্ছে_ তুমি কি জান, মহিমাময়ী রাত্রি হাজার মাস থেকে উত্তম?' পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, (এই রাত্রিতে) আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে ফেরেশতা আর পূণ্য আত্মারা পৃথিবীতে নেমে আসে।' মহান আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আমি ক্বদরের রজনীতে কোরআন নাজিল করেছি। আপনি জানেন কি? কদরের রজনী কি? ক্বদরের রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম! সে রাতে ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হন, জিব্রাঈল (আ.)সহ তাদের রবের নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে সব বিষয়ে শান্তির ফায়সালা নিয়ে; তা উষার উদয় পর্যন্ত'। সূরা-ক্বদর, আয়াত ১-৫। সূরা ক্বদরের প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে, 'নিশ্চয়ই আমি ক্বদর রাতে কোনআন নাযিল করেছি'। এ আয়াত থেকে পরিষ্কার জানা যায়, শবে ক্বদরে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর হযরত জিব্রাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে দীর্ঘ ২৩ বছরে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট ধাপে ধাপে অবতীর্ন হয় আল কোরআন।

শবে কদরের এবাদত হাজার মাসের এবাদতের চেয়ে উত্তম। এ রাতে অগণিত ফেরেশতাসহ হযরত জিব্রাঈল (আ.) দুনিয়ায় অবতীর্ণ হন এবং ফেরেশতারা দুনিয়ার সমস্ত অংশে ছড়িয়ে পড়েন। প্রত্যেক স্থানে স্থানে রুকু-সিজদা করেন। মুমিন নর-নারীর জন্য দোয়ায় মশগুল হন (তাফসীরে ইবনে কাসির)। এ মহান রজনীতে আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য গুনাহগারকে মাফ করেন, তওবা কবুল করেন। এ রাতে মাতা-পিতা ও আত্মীয় স্বজনদের রূহের মাগফিরাতের উদ্দেশ্যে তাদের কবর জিয়ারত ও তাদের জন্য দোয়া করলে আল্লাহপাক কবুল করেন।

এই মহিমাম্বিত রজনীকে লাইলাতুল ক্বদর নামে অভিহিত করার তাৎপর্য কি? এ সম্পর্কে তাফসীরে ছাবীর চতুর্থ খন্ডে বর্ণিত আছে- আয় ইযহাব হাফী রাওয়ায়িনাল মালায়িল আলা। অর্থাৎ উর্ধ্ব জগতের ফেরেশতাদের দপ্তর প্রকাশিত হয়। পরবর্তী এক বছরের ভাগ্য, রিযিক, জন্ম-মৃত্যু ইত্যাদি কর্তব্যরত ফেরেশতাদের কাছে ন্যস্ত হয়। লাইলাতুল কদরের ফজিলত সম্পর্কে বহু হাদিস বর্ণিত রয়েছে। বুখারী শরীফে হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন,যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সাওয়াবের আশায় রমজানের রোজা রাখে, তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ (ছগিরা) ক্ষমা করে দেয়া হয় এবং ঈমানের সঙ্গে সাওয়াবের আশায় লাইলাতুল কদরের রাত জেগে ইবাদতে মশগুল থাকে তার পূর্ববর্তী সব গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। তবে কিছু মানুষের গুনাহ এ রাতে ক্ষমা করবেন না। ১. অনিষ্টকারী যাদুকর, গনক ২. মাতা পিতার অবাধ্য সন্তান ৩. ব্যভিচার ৪.আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী ৫. চোগলখোর ৬. যার অন্তর হিংসা বিদ্বেষ ও কৃপনতায় পরিপূর্ণ ৭. বান্দার হক আত্নসাৎকারী।

লাইলাতুল ক্বদর কোন রাতে? এ সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা রয়েছে। এটি আধ্যাতি্নকভাবে সময় সম্পর্কে সাধারণ মানবিক ধারণা না হয়ে এক অনন্তকাল প্রবাহকেই ইঙ্গিত করে। হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেন- তোমরা লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান কর রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, 'যে ব্যক্তি লাইলাতুল ক্বদর অনুসন্ধান করতে চায়, সে যেন রমজান শরীফের শেষ দশকে অনুসন্ধান করে'। মোট কথা লাইলাতুল ক্বদর প্রাপ্তির লক্ষ্যে রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতসমূহে ইবাদতে মশগুল থাকা বাঞ্ছনীয়। অর্থাৎ মাহে রমজানের ২১,২৩,২৫,২৭,২৯ এর মধ্যেই মানব জাতির ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা ঘটেছিল বলে অনুমান করা হয়। এ সম্পর্কে ইবনে হাম্বলের অভিমতে ইবনে ওমরের বর্ণিত একটি হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আল্লাহর প্রিয় নবী (দ.) বলেছেন, 'কেউ যদি এ রাতের দিশা পেতে চায় তবে সে যেন ২৭ তারিখে তা খোঁজ করে।' অসীম মাহাত্ন্য ও সৌভাগ্যের অধিকারী সেই রাত্রি যে, রাত্রিতে আল্লাহ তায়ালার পরিশুদ্ধতম বাণী প্রথমবারের মত পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয় রৌদ্রদগ্ধ, শুষ্ক চিত্তে ঐশী চিন্তার ও ধ্যানের জন্য রমজান মাসের শেষ দশ দিন নির্ধারিত। প্রিয় নবী (দ.) রমজান মাসের শেষ দশ দিন মসজিদের নির্জনতায় ধ্যানে ও এবাদতে তাঁর সময় অতিবাহিত করতেন। 'হাজার মাস' কথাটিতে ব্যাপকতর অর্থে বিস্তৃত কাল প্রবাহ হিসেবে দেখা যেতে পারে। সুরা কদরের সমাপ্তি হয়েছে এক চমৎকার উক্তি দিয়ে_ 'শান্তি থাকুক প্রভাতের পুনরাগমন পর্যন্ত।' শান্তিই হচ্ছে লাইলাতুল ক্বদরের মুখ্য বৈশিষ্ট্য। ধ্যানীর চিত্তে এই শক্তি আসে এক স্থির প্রশান্ততায় যা তাকে দুর্লভ ঐশ্বরিক আর্শিবাদ গ্রহণ করার জন্য মানবিকভাবে প্রস্তুত করে। আত্মার অন্ধকার যখন দূরীভূত হয় প্রসন্ন নিবেদনের সি্নদ্ধতায় তখন চিত্তে জাগে এক অভূতপূর্ব শান্তি আর নিরাপত্তাবোধ। লাইলাতুল ক্বদর সত্যিই আল্লাহর তায়ালার রহমতে পরিপূর্ণ। এ রাতের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব এতই বেশি যে, স্বয়ং নবীজি বলেন- লাইলাতুল ক্বদর পরিপূর্ণ বিশ্বাসের সাথে যে ব্যক্তি আমার ইবাদতের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করবে তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। অত্যন্ত গৌরবময় এবং দুর্লভ সুযোগ কেউ হারাতে চায় না বলেই সমস্ত বিশ্বের মুসলমানরা এই শুভ রাতের জন্য আকুল আগ্রহে অপেক্ষা করে এবং ধ্যানের মাধ্যমে রাত্রিটি অতিবাহিত করার চেষ্টা করে। এই রাত্র আল্লাহর রহমত পাওয়ার সুয়োগ এনে দেয়। এ রাতে করুণাময় আল্লাহ তায়ালার ক্ষমার জন্য আমাদের কে কায়মনো বাক্যে প্রার্থনা করা উচিত। কারণ, কোন কিছুই অনুগ্রহশীল আল্লাহ তায়ালার ক্ষমার চাইতে আনন্দময়, লাভজনক এবং মধুর হতে পারে না। হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বলেছেন, প্রিয় নবী (দ.)কে জিজ্ঞাসা করলাম, এটিই সেই রাত্রি অনুমান করতে পারলে কি প্রার্থনা করবো? প্রিয় নবী (দ.) তাঁর উত্তরে বলেন- 'বলবে হে প্রভু, তুমি ক্ষমা ভালবাস। আমাকে তুমি ক্ষমা কর।' একটি ঘটনা, প্রিয় নবী (দ.) একবার সাহাবায়ে কেরামের সামনে বনী ইসরাঈলের একজন মুজাহিদ হযরত শামাইন (রা.)-এর অবস্থা উল্লেখ করে বলেছেন- তিনি এক নাগাড়ে এক হাজার মাস ইবাদত বন্দেগী এবং দিনে রোজা রাখতেন এবং সাথে সাথে আল্লাহর পথে কাফিরদের সাথে যুদ্ধ ও করেছেন। একথা শুনে সাহাবায়ে কেরাম প্রিয়নবীর খেদমত আরজ করলেন- ইয়া রাসুলুল্লাহ্ (দ.) আমাদের আয়ুতো খুবই কম। এর মধ্যে আবার বিছু অংশ ঘুমে অতিবাহিত হয়, কিছু অংশ জীবিকা অন্বেষনে, কিছু অংশ পানাহারে এবং পার্থিব কাজে ব্যয় হয়। তাই আমরা তো হযরত শামাইন (রা.)-এর মত ইবাদত করতে পারি না। ফলে বনী ইসরাঈল আমাদের থেকে অগ্রগামী হবে। উম্মতের কান্ডারী নবী (দ.) এটা শুনে বিষন্ন হলেন। সেই মুহূর্তে হযরত জিব্রাইল (আ.) নবীর দরবারে আল্লার পক্ষ হতে সূরা ক্বদর পেশ করেন। এতে আল্লাহর হাবীবকে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে। (হে আমার হাবীব) আপনি মর্মাহত হবেন না, আপনার উম্মতকে আমি প্রত্যেক বছরের জন্য এমন রাত দিন দান করেছি, যদি তারা সে রাতে আমার ইবাদত করে তাহলে শামাউনের হাজার মাসের ইবাদত থেকে বেশি সাওয়াব তাদের আমল নামায় লিখা হবে। শবে ক্বদরের আমল তাফসিরে রূহুল বয়ানে উল্লেখ্য, যে ব্যক্তি শবে কদরের বিশুদ্ধ অন্তকরণে নফল নামায পড়বে তার সমস্ত গুনাহ মাফ হয়ে যাবে। এ রজনীতে নফল নামায যেভাবে ইচ্ছে পড়া যায়। তবে নুযহাতুল মাজালিস নামক কিতাবে এর নিয়ম দেয়া হয়েছে, এভাবে প্রতি রাকাতে সূরা তাকাছুর একবার এবং সূরা ইখলাস এগার বার করে পড়বে। তাহলে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার মৃত্যু সহজ করে দিবেন, কবরের আযাব থেকে নাজাত করবেন এবং নূরের এমন চারটি স্তম্ভ দান করবেন, যার প্রতিটি স্তম্ভে এক হাজার মহল থাকবে। মহান আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে শবে কদরের সমূদয় ফজিলত এবং কল্যাণ লাভে ধন্য করুক। আমিন।

গাজী মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জাবির : সাংবাদিক ও কলামিস্ট
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২০
ফজর৪:৪২
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫১
মাগরিব৫:৩২
এশা৬:৪৪
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৪৩১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.