নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৩ জুন ২০১৮, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমজান ১৪৩৯
পাইপলাইন ত্রুটিতে এলএনজি'র অপচয় ও পরিচালন ব্যয় বাড়ছে
এফএনএস
জাহাজে করে বিদেশ থেকে এলএনজি আমদানি করা হলেও তা সরবরাহ করা যাচ্ছে না ফলে একদিকে যেমন জাহাজে থেকেই হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে গ্যাস, অন্যদিকে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়। মূলত সঠিকভাবে এলএনজি সরবরাহের পাইপলাইন তৈরি না হওয়ার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে দেশের প্রথম ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে দেড় মাস ধরে নোঙর করে আছে কমিশনিং কার্গো। কিন্তু এখনো প্রথম কিস্তির এলএনজি সরবরাহ সম্ভব হয়নি। ফলে পেট্রোবাংলাকে আর্থিক ক্ষতি গুনতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, এলএনজি অন্যান্য তরল পদার্থের মতোই উদ্বায়ী। ক্রায়োজেনিক লিকুইড ট্যাংকে এ গ্যাস মজুদ করা হয়। তবে ক্রায়োজেনিক ট্যাংকে তাপের কারণে এলএনজির একটি অংশ উড়ে যায়। মজুদকালীন ও লোড-আনলোডের সময় তাপজনিত কারণে এই অপচয় হয়ে থাকে। তাতে গ্যাসের পরিমাণ হরাস পায়। মহেশখালীতে আমদানিকৃত এলএনজির ক্ষেত্রেও এমনটা হচ্ছে। কমিশনিং কার্গো বসিয়ে রাখার কারণে বয়েল-অফ গ্যাস ও পরিচালন ব্যয় বাবদ সংস্থাটির প্রায় অর্ধকোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। তাছাড়া কমিশনিং কার্গোর পর ধারাবাহিকভাবে পরবর্তী যেসব জাহাজ আসার কথা, সেগুলো না আসার কারণেও গ্যাস ব্যবহার ছাড়াই ব্যয় বহন করতে হবে। তাতে করে পেট্রোবাংলার আর্থিক ক্ষতি আরো বাড়বে।

সূত্র জানায়, বিগত ২৪ এপ্রিল এলএনজির প্রথম কিস্তি নিয়ে কমিশনিং কার্গো কঙ্বাজারের মহেশখালীতে পৌঁছায়। গত ১২ মে পাইপলাইনের মাধ্যমে ওই গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা ছিল। কিন্তুএফএসআরইউ থেকে জিরো পয়েন্ট তথা জাতীয় গ্রিডের আগ পর্যন্ত সাড়ে ৭ কিলোমিটার পাইপলাইনের বিভিন্ন অংশে ছিদও দেখা দেয়ায় তা সম্ভব হয়নি। এরপর পুনরায় সরবরাহের তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২৬ মে। কিন্তু ওই সময়ের মধ্যেও পাইপলাইনের ত্রুটি মেরামত না হওয়ায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৯০০ ঘনমিটার (৬০ হাজার ৪৭ টন) এলএনজিবাহী জাহাজটি সাগরে নোঙররত অবস্থায় বসে আছে। বিশাল ওই জাহাজের পরিচালন ব্যয় (ফিঙ্ড অপারেটিং কস্ট) ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ দৈনিক ডেমারেজ বা লোকসান গুনতে হচ্ছে ৫০ হাজার ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এঙ্লিারেট এনার্জি টার্মিনাল নির্মাণ ব্যয় বহন করলেও অপচয়ের ব্যয় বহন করতে বাধ্য নয়। কারণ নির্মাণ ও ব্যবহার চুক্তি অনুযায়ী ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) ও টার্মিনাল থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের ব্যয় মার্কিন কোম্পানি এঙ্লিারেট এনার্জির। কিন্তু গ্যাসের অপচয় ও নির্ধারিত সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করতে না পারার কারণে যে ক্ষতি, তা আমদানিকারক হিসেবে পেট্রোবাংলাকেই বহন করতে হবে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে বিদ্যুৎ, শিল্প ও আবাসিকসহ বিভিন্ন খাতে দেশে গ্যাসের চাহিদা দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুট। তার মধ্যে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ২৭০ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি থাকছে ১৩০ কোটি ঘনফুট। ওই সংকট সামাল দিতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ। ওই লক্ষ্যে একটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণ ও ব্যবহার বিষয়ে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে পেট্রোবাংলা ও যুক্তরাষ্ট্রের এঙ্লিারেট এনার্জির মধ্যে চুক্তি হয়। ইতিমধ্যে কঙ্বাজারের মহেশখালীতে একটি ভাসমান টার্মিনাল (এফএসআরইউ) নির্মাণ শেষ করেছে এঙ্লিারেট এনার্জি। ওই টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। আর এলএনজির প্রথম কিস্তিও ইতিমধ্যে দেশে পৌঁছে গেছে। গ্যাস সরবরাহের জন্য মহেশখালী থেকে আনোয়ারা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। আনোয়ারা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে কেজিডিসিএল কর্তৃপক্ষ চট্টগ্রামের গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করবে। আনোয়ারায় একটি সাব-স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। আনোয়ারা থেকে পতেঙ্গা হয়ে আরো একটি গ্যাস পাইপলাইনে ফৌজদারহাট পর্যন্ত যাবে এলএনজি গ্যাস। ফৌজদারহাট থেকে চট্টগ্রামের উদ্বৃত্ত গ্যাস নেয়া হবে জাতীয় গ্রিডে। এলএনজি সরবরাহের লক্ষ্যে এঙ্লিারেট এনার্জির টার্মিনাল জাহাজ ভাড়া করা হয়েছে। জাহাজের ভাড়া, সেবা ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে সরকার প্রতি বছর এঙ্লিারেট এনার্জিকে ৭২০ কোটি টাকা প্রদান করবে। অর্থাৎ আমদানিকৃত এলএনজি তরলীকৃত অবস্থা থেকে গ্যাসে রূপান্তরসহ দৈনিক আনুষঙ্গিক ব্যয় প্রায় ২ কোটি টাকা।

এদিকে এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক খায়েজ আহমেদ মজুমদার জানান, এলএনজি সরবরাহ করবে রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)। কর্ণফুলী গ্যাস টিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড বিতরণ কোম্পানি হিসেবে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করবে। শুরুতে মে মাসের শেষদিকে গ্যাস সরবরাহ করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২৩ জুন সরবরাহ করা হবে বলে নিশ্চিত হয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরবরাহ না হওয়ায় দৈনিক ভিত্তিতে জাহাজ ভাড়া বাবদ ও গ্যাসের অপচয়জনিত কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, সে বিষয়ে আমি অবগত নই।

অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ জানান, কার্গো অপেক্ষায় রাখার জন্য পেট্রোবাংলার কোনো আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে না। কারণ দায়িত্ব এ সংস্থার নয়। এর দায় এঙ্লিারেট এনার্জিই বহন করছে। পাইপলাইনের যে জটিলতা ছিল, তা সমাধান হয়েছে। ১৪ জুন এ বিষয়ে একটি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। আপাতত কোনো সমস্যা নেই। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাকি আছে। ওগুলো শেষে ঈদের পর গ্যাস সংযোগ দেয়া যাবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুন - ২৫
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫২৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.