নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৩ জুন ২০১৮, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমজান ১৪৩৯
পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা
পানিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম রামু খাগড়াছড়ি ও মৌলভীবাজার
কঙ্বাজার প্রতিনিধি
টানা চারদিনের অবিরাম বর্ষণে ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, কঙ্বাজারের রামু ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন জায়গা ডুবে গেছে। ভয়াবহ এ বন্যায় অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম মহানগরীতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। একই অবস্থা জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতেও। ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। বের হলেই আবার ফেরার নিশ্চয়তা নেই। গত দুই দিন বাসায় সেহরি খাওয়া হয়নি অনেক রোজাদারের। বিদ্যুৎ নেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা। পানি ঢুকে পড়ার ারণে বহু বাসাবাড়িতে রান্নাও হচ্ছে না। ঘরের মধ্যেই কোমর পরিমাণ পানি।

মৌসুমের প্রথম অবিরাম বর্ষণে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে নগর ও উপজেলাজুড়ে। জেলার হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, সীতাকু- ও মীরসরাই উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা রূপ নিয়েছে। এসব উপজেলায় একদিকে প্রবল বর্ষণ অন্যদিকে পাহাড়ি ঢল এবং বন্যার পানিতে ঘর-বাড়ি, হাটবাজার, অফিস-আদালতসহ সব কিছুই ডুবে গেছে।

নগরীর হালিশহর, আগ্রাবাদ, এশিয়ান হাইওয়ের ষোলশহর ২নং গেট থেকে মুরাদপুর, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাপাসগোলা, বাদুড়তলা, কেবি আমান আলী রোড, খাজা রোড, প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ সোনালী ব্যাংক কলোনি, সিডিএ, মুহুরীপাড়া, দাইয়াপাড়া, শান্তিবাগ ছোটপুল এবং বাকলিয়ার বিভিন্ন অংশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

গত রোববার দিবাগত রাত থেকে এসব এলাকায় বৃষ্টি বন্ধ হলে পানি কমে, আবার বৃষ্টি শুরু হলে পানি বেড়ে যায়। এ অবস্থাতেই রয়েছে ওসব এলাকার বাসিন্দারা। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালেও হাঁটু পানি জমে আছে দুদিন ধরে। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানির স্রোতে ভেসে গেছে পুকুর-দীঘি ও খামারের মাছ। মুরগির খামার ও গৃহপালিত পাখি এবং গবাদি পশু চরম বিপাকে। বন্ধ রয়েছে অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর যান চলাচলও।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানায়, টানা চারদিনের অবিরাম বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ডুবে গেছে খাগড়াছড়ি। স্মরণকালের ভয়াবহ এ বন্যায় শহরের অধিকাংশ এলাকা ও মেরুং বাজার পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বন্যায় অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। পাশাপাশি পাঁচ শতাধিক পরিবার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।

এদিকে, নিম্নাঞ্চল ছাড়িয়ে পানি উঠেছে খাগড়াছড়ির বাস টার্মিনাল থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত। নদ-নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত এক দশকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়নি খাগড়াছড়ি জেলাবাসীকে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে খাগড়াছড়িবাসীরা এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।

স্থানীয়রা জানায়, জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, গঞ্জপাড়া, শান্তিনগর, বটতলী, কল্যাণপুর, ভাঙাব্রিজ, বাঙ্গালকাঠি, চেঙ্গীব্রিজ এলাকা, কালাডেবা ও কমলছড়ির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি ও ফসলের খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে চার শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর ছাড়াও রামগড় ও দীঘিনালার কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে মাটিরাঙ্গায়। দীঘিনালার মাইনী নদীতে বিপদসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও প্রবল বর্ষণের কারণে উপজেলার ছোটমেরুং এলাকা পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানির নিচে ডুবে গেছে মেরুং ইউনিয়ন।

মেরুং ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। শাতাধিক পরিবার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছেন। সড়কে পানি উঠায় খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি সড়ক ও দীঘিনালা-লংগদু সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে গেছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে বেশ কিছু কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি।

এদিকে, রামগড়ের গর্জনতলীতে আটকে পড়া ২০ পরিবারকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে এনেছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় রেডক্রিসেন্ট কর্মীরা। মাটিরাঙ্গা-তানাক্কাপাড়া সড়কের একাধিক স্থানে পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিভীষণ কান্তি দাশের নেতৃত্বে কিছু এলাকায় মাটি সরিয়ে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা হয়েছে।

এইটানা বর্ষণ অব্যাহত থাকলে খাগড়াছড়িতে আবারও পাহাড় ধস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকাসমূহে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। কঙ্বাজার প্রতিনিধি জানায়, কঙ্বাজারের রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম বোমাংখিল গ্রামে ঢলের পানিতে ডুবে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। মৃত শিশু মোহাম্মদ জুনায়েদ (৩) পশ্চিম বোমাংখিল এলাকার নুরুল হুদার ছেলে। গর্জনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য নুরুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ঢলের পানি লোকালয়ে ঢুকায় নিচু এলাকা থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছিল নুরুল হুদার পরিবার। এরই মধ্যে তার শিশু সন্তান জুনায়েদ পানিতে ডুবে যায়। পরিবারের সদস্যরা অল্পক্ষণ পর তাকে উদ্ধার করে গর্জনিয়া বাজারের একটি ক্লিনিকে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

গর্জনিয়া ইউনিয়নের উদ্যোক্তা শাহারিয়ার ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গর্জনিয়া ও কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বন্যা দেখা দিয়েছে। গর্জনায়া সেতুর ঝুঁকিপূর্ণ এপ্রোচটি নদীগর্ভে ফের বিলীন হতে চলেছে।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানায়, টানা বৃষ্টি সঙ্গে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে মৌলভীবাজারের মনু নদীর ও ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রভাহিত হচ্ছে। নদী উপচে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। এ দিকে ভারত থেকে নেমে আসা পানিতে মৌলভীবাজারের ভারত সীমান্তবর্তী কমলগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, মনু নদী বিপদসীমার ৮০ সে.মি এবং ধলাই নদী বিপদসীমার ৩৮ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা যায়, উপজেলার ৪টি ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অবস্থার আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিম্নচাপের কারণে সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সারাদিন অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে গতকাল মঙ্গলবার ভোর থেকে ধলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় কমলগঞ্জের ধলাই সেতু এলাকায় ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার অনেক উপর দিয়ে প্রাবহিত হয়।

কমলগঞ্জে কর্মরত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষক আব্দুল আউয়াল জানান, এখানে ধলাই নদীর পানি বিপদসীমার ৩৮ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, যেভাবে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে ও তাতে ধলাই নদীর পানি বেড়ে যাবে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় কমলগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের করিমপুর গ্রাম এলাকায় ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ করছে ফসলি জমিতে। দ্রুত গতিতে পানি বেড়েই চলেছে।

কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর, ইসলামপুর কমলগঞ্জ সদর ও আদমপুর ইউনিয়নে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৯টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ শামছুদ্দীন আহমদ বলেন, বাদে করিমপুর গ্রামে ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে দ্রুত গতিতে পানি প্রবেশ করছে ফসলি জমিতে। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে ২০ হেক্টর জমির রোপিত আইশ ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ১৬
ফজর৩:৫৫
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:২০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৬৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.