নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৩ জুন ২০১৮, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমজান ১৪৩৯
শাহজাহান বাচ্চু হত্যায় মামলা দায়ের
স্টাফ রিপোর্টার
কয়েক বছর আগে দেশে বস্নগার ও ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হত্যাকা- শুরুর পর হুমকি পাওয়ার কথা পরিচিতজনদের জানিয়েছিলেন লেখক-প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু। রাজধানীর বাংলাবাজারে থাকা তার পরিচিতজনরা একথা জানিয়েছেন। বাংলাবাজারে শাহজাহান বাচ্চুর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বিশাকা প্রকাশনীর অফিস রয়েছে। তবে অফিসটি গত ৮ বছর ধরে বন্ধ। এটি ভাড়া দেয়া রয়েছে একটি ট্রান্সপোর্ট কোম্পানির কাছে। গত সোমবার মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন শাহজাহান বাচ্চু। এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করায় ঢাকায় খুব কম আসতেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, 'বিশাকা প্রকাশনী' নামে কোনো প্রতিষ্ঠান সেখানে এখন আর নেই। তবে ইস্পাহানি ভবনের নিচতলায় আট বছর আগে শাহজাহান বাচ্চু এই প্রকাশনীটি পরিচালনা করতেন। বর্তমানে অফিসটি ভাড়া দেয়া হয়েছে 'হাজী মান্নান ট্রান্সপোর্ট' নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে।

ইস্পাহানি ভবনে থাকা ঐ দোকানটির ভাড়া আদায় করেন বাচ্চুর স্ত্রী। তিনি ঢাকায় থাকেন। তিনি ভাড়া নিতে বা দোকানে কোনো সমস্যা হলে সেখানে যান। বর্তমানে ভাড়ায় থাকা প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. হাফিজুল্লাহ বলেন, ভাড়া নেন ওনার স্ত্রী। বাচ্চু সাহেবকে আমি গত কয়েক বছরে আসতে দেখিনি। কয়েকদিন আগেও ওনার স্ত্রী এসেছিলেন। দোকানের শার্টার ঠিক করার জন্য।

প্রকাশনীর কাজে ব্যবহৃত দোকানটি ২০১০ সালে ওই পরিবহণ প্রতিষ্ঠানের ভাড়া দেয়া হয় বলে জানান হাফিজুল্লাহ। দোকাটি ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় অনেকখানি জায়গা ফাঁকা। রাতে এনে জিনিসপত্র রাখা হয়। বাকি সময় ফাঁকাই থাকে। এছাড়া, একটি সেলফে রয়েছে বিশাকা প্রকাশনীর কিছু বই।

২০১৩ সালে কয়েকজন বস্নগার হত্যাকা-ের পর শাহজাহান বাচ্চু নিজের প্রতি হুমকির কথা জানিয়েছিলেন বলে জানান কাজী জালাল উদ্দিন। তিনি বলেন, তখন উনি বলেছিলেন, ফেসবুক ও বস্নগে লেখালেখির কারণে হুমকি আসে। দেখি কী হয়। দুই স্ত্রী থাকলেও শাহজাহান বাচ্চু পারিবারিক জীবনে অসুখী ছিলেন না বলে জানান কাজী জালান উদ্দিন। তিনি বলেন, উনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল অনেক ভালো। অনেকটা বলা যায় পারিবারিক। তাকে কখনও পরিবার নিয়ে অসুখী দেখিনি।

জঙ্গিরা তাকে টার্গেট করতে পারে। আবার এলাকাতেও কোনও ঝামেলা থাকতে পারে বলে মনে করেন কাজী জালাল। তিনি বলেন, লেখালেখির কারণে জঙ্গিদের শাহজাহান বাচ্চু টার্গেটে পড়তে পারেন। আবার অনেকদিন ধরে এলাকায় থাকতেন, সেখানেও বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু এমন একজন মানুষকে গুলি করে মারতে পারে- এটা আমাদের বিশ্বাস হচ্ছে না।

গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শাহজাহান বাচ্চু গ্রামের বাড়ি কাকালদীর পাশের পূর্ব কাকালদী এলাকার একটি ওষুধের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় দুটি মোটরসাইকেলে করে পাঁচজন দুর্বৃত্ত এসে প্রথমে বোমা ফাটিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করে। পরে বাচ্চুকে দোকান থেকে বের করে গুলি করলে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এদিকে, প্রকাশনীর মালিক শাজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ৪ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানায় মঙ্গলবার মামলাটি করেন এই লেখক-প্রকাশকের দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা। থানার ওসি মো আবুল কালাম বলেন, মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ের চারজনকে আসামি করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় সিরাজদিখানের কাকালদী মোড়ে শাজাহান বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা চারজন গুলি করে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাচ্চুর (৬৫) বাড়ি উপজেলার মধ্যপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কাকালদী গ্রামে। তাছাড়া তিনি সাপ্তাহিক আমাদের বিক্রমপুর পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন। বাচ্চুকে কারা মেরেছে, তা এখনও পুলিশ বের করতে পারেনি। ফেসবুকে লেখালেখিকে কেন্দ্র করে বাচ্চু ধর্মীয় উগ্রবাদীদের হুমকির মুখে ছিলেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন।

বাচ্চু হত্যাকা-ের পর সোমবার রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বাচ্চুর দুই স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেন।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুন - ২৫
ফজর৩:৪৫
যোহর১২:০১
আসর৪:৪১
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৭
সূর্যোদয় - ৫:১২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৫৫৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.