নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বুধবার ১৩ জুন ২০১৮, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৭ রমজান ১৪৩৯
রাঙ্গামাটিতে পাহাড় ধসে ১১ জন নিহত
উদ্ধার তৎপরতা শুরু এলাকায় আতঙ্ক ৩ জন নিখোঁজ রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ
স্টাফ রিপোর্টার, রাঙ্গামাটি, চট্টগ্রাম ও বান্দরবান প্রতিনিধি
রাঙ্গামাটি জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসে মাটি চাপা পড়ে বুড়িঘাট ইউনিয়নে একই পরিবারের ৪ জন ও নানিয়ারচর ইউনিয়নে ৪ জন ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নে ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১১ জন নিহত হলেও এখনো ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। গত সোমবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। রাঙ্গামাটির নানিয়ারচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) কোয়ালিটি চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৈনিক জনতাকে জানান, গত সোমবার রাতে ভারি বর্ষণে মাটি চাপায় নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নে একই পরিবারের ৪ জন ও নানিয়ারচর ইউনিয়নে ৪ জন ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নে ৩ জন নিহত হয়েছেন।নিহতরা হলেন উপজেলার বুড়িঘাট ইউনিয়নের ধরমপাশা কার্বারিপাড়ার ফুলদেবী চাকমা (৫৫), তার মেয়ে ইতি দেওয়ান (১৯), পুত্রবধূ স্মৃতি চাকমা (২৩), নাতি আয়ুব দেওয়ান (দেড় মাস), নানিয়ারচর ইউনিয়নের বড়কূলপাড়ার সুরেন্দ্র লাল চাকমা (৫৫), তার স্ত্রী রাজ্য দেবী চাকমা (৫০), মেয়ে সোনালী চাকমা (১৩), নানিয়ারচর ইউনিয়নের বড়কূলপাড়ার মহিলা মেম্বার রত্না চাকমার ছেলে রোমেন চাকমা (১৪), ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের মনতলা এলাকার বৃষকেতু চাকমা (৫৫), হাতিমারা গ্রামের রিপেন চাকমা (১৪) ও রিতা চাকমা (৮)।

নানিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পাহাড় ধসে এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছেন।

নানিয়ারচর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল লতিফ দৈনিক জনতাকে জানান, গত সোমবার রাতে ভারি বর্ষণে ভূমিধস হয়। ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার অনেক নিচু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। তিনি আরো জানান, নানিয়ারচর উপজেলার শিকলপাড়া, বড়পুল এবং হাতিমারা গ্রামে পৃথক সময়ে পাহাড় ধসে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। পাহাড় ধসের কারণে বন্ধ রয়েছে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক যোগাযোগ। রাঙ্গামাটির কুতুবছড়ি এলাকায় রাস্তা ভেঙে গেছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছে যাত্রীরা।

তিনি আরো জানান, পাহাড় ধসে উপজেলার ইসলামপুরে ৪৫টি, বগাছড়িতে ৪২টি এবং বুড়িঘাটে একটি বসতঘর মাটি চাপা পড়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাঙ্গামাটি ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক দিদারুল আলম বলেন, এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । বর্তমানে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। উদ্ধার কাজে অংশ নিতে আমাদেরও দু'টি টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, রাঙ্গামাটির বিভিন্ন সড়কে ধস ও ফাটল এবং গাছ উপড়ে পড়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আবারও পাহাড় ধসে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা অনেকের। এ অবস্থায় খোলা হয়েছে ২১টি আশ্রয় ক্যাম্প। সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন ১১০টি পরিবারের পাঁচ শতাধিক সদস্য।

এর আগে গত বছরের ১৩ জুন রাঙ্গামাটিতে ঘটে ভয়াবহ পাহাড় ধস। ঐ সময় পাঁচ সেনা সদস্যসহ ১২০ জন নিহত হয়। সেই সাথে ঘর-বাড়ি, রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বছর ঘুরতে না ঘুরতে ফের মৃত্যুর মিছিল নামে পাহাড়ে।

গত শুক্রবার থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হলেও গত রোববার বাড়তে থাকে। গত সোমবার ও গতকাল মঙ্গলবার টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১১ জন নিহত হয়।

হাতিমারা পাড়ার বাসিন্দা জিয়ানা তালুকদার বলেন, গত সোমবার ভোরে পাড়ার রিপেনদের বাড়ির ওপর পাহাড় ধসে পড়ে। পরে রিপেন ও পাশের বাড়ির রীতা চাকমাকে মৃত উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে মনতলা এলাকা থেকে বৃষ কেতু চাকমাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এলাকার বিভিন্ন স্থানে এখনো ছোট-খাটো পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটছে। তাই আমরা ঐ পাড়ার সবাইকে নিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে এসেছি।

এদিকে, পাহাড় ধসের আতঙ্কে ঘর ছেড়ে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন অনেকে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ১১০টি পরিবারের সদস্যরা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।

রূপনগর এলাকার বাসিন্দা সাকিব হোসেন বলেন, বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধস হচ্ছে। ভয়ে বাসা-বাড়িতে থাকতে পারছি না। তাই আমরা রূপনগর অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছি।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে আশ্রয় নেয়া রাবেয়া আক্তার বলেন, টানা বৃষ্টিতে আমার বাড়ির পেছনের অংশ ভেঙে পড়েছে। ছেলেমেয়ে নিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবনে বর্তমানে ১১০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, রাঙ্গামাটিতে গত কয়েক দিন ধরে অবিরাম বৃষ্টি হচ্ছে। গত সোমবার রাতে ভারি বর্ষণে পাহাড় ধসে ১১ জন নিহত হয়েছেন। তবে জেলার অন্য উপজেলায় পাহাড় ধস হলেও কারো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।

জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদ বলেন, রাঙ্গামাটি সদর উপজেলা ও পৌরসভা এলাকায় প্রায় ১৫-২০টি স্থানে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। তবে কেউ হতাহত হয়নি। সবাইকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। ২১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি অস্থায়ীভাবে ৩০০টি তাঁবু টাঙানো হয়েছে। সেখানে যে কেউ আশ্রয় নিতে পারবেন বলেও জানান জেলা প্রশাসক। উল্লেখ্য, গত ১০ জুন রোববার টেকনাফের কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি বস্নক, জি-সেভেন বস্নক, বালুখালী ক্যাম্প, টেংখালী এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় অন্তত পাঁচশ লোক আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে ধ্বংস হয়েছে রোহিঙ্গাদের ছয়শ বাড়ি। গত সোমবার বান্দরবানের কয়েকটি উপজেলায় ভারি বর্ষণের কারণে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে সঙ্গে রাঙ্গামাটির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৮
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩৩
এশা৭:৪৯
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৮
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৭৭৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.