নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ জুন ২০১৮, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৮ রমজান ১৪৩৯
গ্রেফতারের আড়াই মাসের মধ্যে জামিন শীর্ষ জঙ্গি নাবিলার ***
স্টাফ রিপোর্টার
গ্রেফতারের আড়াই মাসের মধ্যেই জামিন পেলো নব্য জেএমবির সিস্টার উইংয়ের সাবেক প্রধান নারী জঙ্গি হুমায়রা ওরফে নাবিলা। যাকে সংগঠনে 'ব্যাট উইমেন' বলে ডাকা হয়। তিনি নব্য জেএমবির আরেক শীর্ষ জঙ্গি তানভীর ইয়াসিন করিমের স্ত্রী। তানভীর এখনও কারাবন্দি। গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে সে জামিন পায়। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কাশিমপুরের মহিলা কারাগার থেকে তার মুক্তি পাওয়ার কথা। কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ শাজাহান গতকাল বুধবার বিকেলে বলেন, হুমায়রা ওরফে নাবিলার জামিনের কাগজ পেয়েছি। তার কারামুক্তির প্রক্রিয়া চলছে। গত বছরের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বোমা হামলা চালিয়ে মন্ত্রী-এমপিসহ শতাধিক মানুষকে হত্যার যে পরিকল্পনা করেছিল জঙ্গিরা, সেই ঘটনার অর্থের জোগানদাতা ছিলেন তানভীর ও তার স্ত্রী হুমায়রা। পুলিশি তৎপরতায় হামলায় ব্যর্থ হয়ে সাইফুল নামে এক জঙ্গি পান্থপথের হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিজেই নিহত হয়। এ ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় হুমায়রা ওরফে নাবিলাকে।

ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট-সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, হুমায়রা তার এক বান্ধবীর মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হন। তারা নিয়মিত গুলশান এলাকায় হালাকা (একসঙ্গে মিলিত হয়ে সাংগঠনিক আলোচনা করা) করতো। ঢাকার নর্থসাউথ ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ সম্পন্ন করা নাবিলা মালয়েশিয়ার লিংকন ইন ইউনিভার্সিটিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। সেখানেই তার সঙ্গে নব্য জেএমবির সর্বশেষ আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আকরাম হোসেন নিলয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তারা ঢাকায় ফিরে নব্য জেএমবির সিস্টার উইং নামে একটি শাখা তৈরি করে।

সিটিটিসি সূত্র বলছে, সাংগঠনিক পরিচয়ে বিয়ের পর স্বামী তানভীরসহ একযোগে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে পড়ে। স্বামী তানভীরকে গত বছরের ১৯ নভেম্বর গুলশান এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর থেকে আত্মগোপনে থেকে জঙ্গিবাদী কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন নাবিলা। সংগঠনের সদস্যরা তাকে সাহসী নারী হিসেবে 'ব্যাট উইমেন' বলে ডাকতো। এমনকি নব্য জেএমবির নিজেদের যোগাযোগ মাধ্যমেও তার নাম ব্যাট উইমেন ছিল।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট সিটিটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেফতারের পর কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল হুমায়রা ওরফে নাবিলাকে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সে সবকিছু স্বীকার করলেও আদালতে গিয়ে বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়নি। তবে সাক্ষী হিসেবে তার এক খালাত ভাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সিটিটিসির কর্মকর্তারা জানান, এভাবে শীর্ষ ও দুর্ধর্ষ জঙ্গিরা একের পর এক জামিনে বেরিয়ে গেলে জঙ্গিবাদ কার্যক্রম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। গত কয়েক মাসে এমন অনেক জঙ্গি জামিনে বেরিয়ে আত্মগোপনে চলে গেছে। এমনকি সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের হয়ে জিহাদ করতে বাংলাদেশে যারা তরুণ যোদ্ধা সংগ্রহ করতো, তাদের মূল হোতা ব্রিটিশ জঙ্গি সামিউন রহমানও গত বছর জামিনে বেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গিয়ে ধরা পড়ে। কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর পুলিশের তৎপরতায় জঙ্গি কার্যক্রম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসে। এরমধ্যে নব্য জেএমবি ও আনসার আল ইসলামের অনেক সদস্য গ্রেফতার ও বিভিন্ন অপারেশনে নিহত হয়। কিন্তু সমপ্রতি মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে মুক্তমনা লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যা করা হয়। একারণে জঙ্গি প্রতিরোধ নিয়ে কাজ করা কর্মকর্তারা নতুন করে আবারও জঙ্গি হামলার শঙ্কা করছেন। এরমধ্যেই শীর্ষ জঙ্গিরা জামিনে বেরিয়ে আসলে হামলা ঠেকানো অসম্ভব হয়ে পড়বে।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার (ডিসি) মহিবুল ইসলাম বলেন, আত্মগোপনে থাকা একজন জঙ্গিকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা অনেক সময়ের ব্যাপার। জঙ্গিরা সাধারণ অপরাধির মতো নয়। একারণে সহজেই যদি জঙ্গিরা জামিনে বেরিয়ে যায় তাহলে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাবে।

এদিকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের হওয়া মামলার অন্তত ৫ জন আসামি জামিনে বের হয়ে গেছে। একজন বাদে বাকি চার জনের বিরুদ্ধে জঙ্গি কার্যক্রমের অভিযোগ রয়েছে। তারা হলেন শাহবাগ থানার ৩৬(৯)১৭ নম্বর মামলার আসামি হুমায়ুন, জয়দেবপুর থানার ১৩(৭)১৭ নম্বর মামলার আসামি জুয়েল হোসেন, কাফরুল থানার ২৫(৪)১৮ নম্বর আসামি আমিনুর রহমান ও কলাবাগান থানার ১৫(৮)১৭ নম্বর মামলার আসামি হুমায়রা ওরফে নাবিলা। অন্য আসামি জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মজিবর রহমানও বুধবার জামিনে বের হন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৯
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৭৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.