নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৪ জুন ২০১৮, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫, ২৮ রমজান ১৪৩৯
নির্বাচনী প্রচারণা তুঙ্গে আ'লীগে
রোডম্যাপ চূড়ান্ত ঈদের পর দেশজুড়ে প্রচারণা
সফিকুল ইসলাম
আর ৫ মাস পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় নির্বাচন। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে নির্বাচনী প্রচারণা। ভোটের হাওয়া বইতে শুরু করেছে পুরো দেশে। তবে হ্যাটট্রিক জয়ের লক্ষ্যে ছক কষে ঈদের পর থেকেই দেশজুড়ে প্রচারণায় ব্যাপকভাবে প্রচার-প্রচারণায় নামছে আওয়ামী লীগ। তাদের লক্ষ্য একটিই টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করে আবারো ক্ষমতায় আসা। এরই মধ্যে নির্বাচনের জন্য রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে ১৪ দলীয় জোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগ। দেশের সর্বস্তরে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকা- আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তার ওপর ভর করে পরিকল্পিত পথে নির্বাচনী বৈতরণী সহজেই পাড়ি দিতে পারবে বলে আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন দলের নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একাধিকবার বলেছেন, সংবিধানে যেভাবে রয়েছে সেভাবেই সময়মতো আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কীভাবে হবে তা আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে। শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচনকে সামনে রেখে এরই মধ্যেই একটি রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হয়েছে দলীয় ফোরামে। দেশের ৩০০ নির্বাচনী আসনকে ১৫ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে, প্রতিটি টিমে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে রাখা হয়েছে জেলা পর্যায়ের নেতাদেরও। রোডম্যাপ অনুযায়ী ঈদের পর পরই ১৫টি টিম সারাদেশে মাঠে নামবে। টিমের নেতারা বিভিন্ন জেলায় যাবেন এবং সংসদীয় আসনকেন্দ্রিক সাংগঠনিক সভা করবেন। কোনো আসনে নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রুপিং-বিভেদ থাকলে জরুরীভিত্তিতে তা মিটিয়ে ফেলার উদ্যোগ নেবেন। নির্বাচনী রোডম্যাপে অনুযায়ী, সবার আগে অন্তঃকোন্দলও মিটিয়ে ফেলার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, দলীয় ঐক্যই খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকাকে বিজয়ী করেছে। এতদিন আওয়ামী লীগের ভাবনায় ছিল ব্যাপক উন্নয়ন হলেও হয়তো অভ্যন্তরীণ কোন্দল নির্বাচনে দলকে বেকায়দায় ফেলবে। কিন্তু খুলনায় বিজয়ের মাধ্যমে এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, বৃহত্তর স্বার্থে আওয়ামী জোট ঐক্যবদ্ধ আছে এবং থাকবে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় এখনো নিজেদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী এ দলটির নীতিনির্ধারকরা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো বড় বিজয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নৌকার বিজয় জোটের আত্মবিশ্বাস আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সাথে আওয়ামী লীগ ও তার শরিকদের মধ্যে একটা স্বস্তি বিরাজ করছে। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, বিজয়ের ধারা শুরু হয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত রেখে টানা তৃতীয় মেয়াদের সরকার গঠন করে রেকর্ড গড়া সম্ভব হবে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, রোডম্যাপ অনুযায়ী ঈদের পর পরই দ্রুততার সাথে আমাদের সাংগঠনিক কাজগুলো গুছিয়ে ফেলতে চাই। সেই অনুযায়ী শুরুতেই গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বর্ধিত সভা ও কর্মীসভার। এসব সাংগঠনিক সভার পাশাপাশি চলবে সমাবেশ, জনসভা ও গণসংযোগ। এরই মধ্যে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীর নিজ নিজ এলাকায় সময় দিচ্ছেন, আরো বেশি জনসম্পৃক্ত হতে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় নানা কর্মসূচিতে। তিনি বলেন, পরিকল্পিত রোডম্যাপ অনুযায়ীই আমরা এগুচ্ছি। এ পর্যন্ত যে অগ্রগতি তাতে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। রোডম্যাপ অনুযায়ী প্রতিটি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাই এবং নির্বাচনী ইশাতহার তৈরির কাজও চলছে পুরোদমে।

২৩ জুন আনন্দ-উৎসব : সূত্র জানায়, ঈদের পরই জেলাভিত্তিক দলীয় কর্মসূচিতে ব্যস্ততা বাড়বে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। বিশেষ করে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা সফর বাড়িয়ে দেবেন। নিকট অতীতে যাননি এমন জেলাগুলোয় যাবেন তিনি। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তরের পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় জনসভা করবেন তিনি। যাকে এক অর্থে নির্বাচনী সফরও বলা যেতে পারে। এরইমধ্যে তিনি সিলেট, বরিশাল, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম সফর করে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। দলীয় প্রধানের সফরের সমান্তরালে কেন্দ্রীয় নেতারাও সাংগঠনিক সফরে সারা দেশে বর্ধিত সভা-জনসভা-পথসভা চালিয়ে যাবেন। এভাবে চলবে জুলাই পর্যন্ত। এর মধ্যেই ২৩ জুন আনন্দ-উৎসবের আমেজে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হবে। আগস্টজুড়ে চলবে শোকের কর্মসূচি। বঙ্গবন্ধুর শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের পাশাপাশি দলের প্রতিটি সহযোগী সংগঠন শোকসভার আয়োজন করবে। এ ছাড়া ভ্রাতৃপ্রতিম ও সমমনা সংগঠনগুলোর কর্মসূচি তো থাকছেই। আগস্ট শেষ হলেই সেপ্টেম্বর থেকে পুরো দল নামবে প্রকাশ্যে নির্বাচনী কার্যক্রমে।

তুলে আনা হয়েছে রাজনৈতিক মাঠের চিত্র: দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে বিরোধপূর্ণ আসনগুলোর তালিকা তৈরি করে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে কয়েক দফা রাজনৈতিক মাঠের চিত্র তুলে আনা হয়েছে। ওইসব রিপোর্টের সাথে সাংগঠনিক রিপোর্ট মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। এরপর দলীয় কোন্দল মেটাতে হস্তক্ষেপ করবে দলের কেন্দ্রীয় কমিটি। প্রয়োজন হলে দলের সভাপতি আলাদাভাবে তাদের ডেকে পরামর্শ দেবেন। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ পদ্ধতিতে প্রস্তুতি নিতে চায় আওয়ামী লীগ।

নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্ব পাবে উন্নয়ন: একাদশ নির্বাচনী প্রচারণায় দুইটি ইস্যু গুরুত্ব পাবে জানিয়ে দলটির এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের ব্যাপক উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি ও সাফল্যকে তুলে ধরা হবে প্রচার-প্রচারণায়। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষপণের মাধ্যমে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে বাংলাদেশ ইত্যাদি বিষয় প্রাধান্য পাবে প্রচারে। দ্বিতীয় ইস্যুটি হলো, দুর্নীতির দায়ে খালেদা জিয়ার কারাদন্ড। বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান চুরির দায়ে, এতিমের টাকা আত্মসাতের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হবেন-এটা মানুষ কখনই আশা করে না। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। রাজনীতির জন্য লজ্জাজনক। সাধারণ মানুষ এই ব্যাপারগুলোকে সেভাবেই দেখে। এসব কারণে সাধারণ মানুষ বিএনপির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে এনে আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়ার জন্য আজ ঐক্যবদ্ধ।

বিএনপি-জামাতের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরা হবে: সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে হ্যাট্রিক জয়ের আশায় বিএনপি-জামাতের সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে ঈদের পর খুব জোরোশোরেই আওয়ামী লীগ শুরু করছে প্রচারকাজ। আগামী নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের কথা মাথায় রেখে অনলাইনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে কিভাবে কাজে লাগানো যায় সেটি নিয়েও ভাবা হচ্ছে। নেতারা বলেন, প্রচারের মূল লক্ষ্যই থাকবে সরকারের উন্নয়ন কাজের তুলনামূলক চিত্র একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয়া।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১৯
ফজর৪:১৬
যোহর১২:০৩
আসর৪:৩৭
মাগরিব৬:৩২
এশা৭:৪৮
সূর্যোদয় - ৫:৩৫সূর্যাস্ত - ০৬:২৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩০৭০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.