নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১৮ জুন ২০১৭, ৪ আষাঢ় ১৪২৪, ২২ রমজান ১৪৩৮
কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে
ঝালকাঠিতে পোস্ট অফিস ও ব্যাংকগুলোতে সঞ্চয়পত্রের জন্য হাহাকার
ঝালকাঠি থেকে সত্যবান সেন গুপ্ত গোপাল
ঝালকাঠি জেলা সঞ্চয় অধিদফতর, জেলার প্রধান ডাকঘর ও ব্যাংকগুলোতে আগাম সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য গ্রাহকরা আগ্রহী হচ্ছে। প্রতিদিন এসব স্থান থেকে শত শত লোক আসছে সঞ্চয়পত্র কেনার জন্য। গ্রাহকের চাপে হিমশিম খাচ্ছে কর্তব্যরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তবে চাহিদানুযায়ী সরবরাহ করছে না সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। জানাগেছে, আগামী অর্থবছর থেকে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমবে। তাই সুদ হার কমার আগেই বর্তমান রেটে সুদ হার পেতে সঞ্চয়পত্র কিনে রাখছেন মানুষ। একসঙ্গে সবাই সঞ্চয়পত্রের উপর যেন হুমড়ি খেয়ে পড়েছে। ফলে ব্যাপক আকারে সঞ্চয়পত্রের সংকট তৈরি হয়েছে। ব্যাংকে, পোস্ট অফিসে এবং জেলা সঞ্চয় অধিদফতর অফিসে ধর্না দিয়েও চাহিদানুযায়ী সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছেন না মানুষ। অভিযোগ রয়েছে, ব্যাংক কর্মকর্তারাও সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে কারসাজি করছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হওয়ায় সঞ্চয়পত্র সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। একসঙ্গে এতো চাহিদা তৈরি হওয়ায় সময়মতো ছাপা হয়ে আসছে না। ঈদের পরে নতুন সঞ্চয়পত্র এলে তখন গ্রাহকদের দেয়া যাবে বলেও কর্মকর্তারা গ্রাহকদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত এ অর্থনৈতিক স্তরের মানুষের জীবনকে কিছুটা সাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা দিতেই সঞ্চয়পত্র নামে স্কিম সরকারের। আর এর বিপরীতে বাড়তি সুদের ভর্তুকিও দিচ্ছে সরকার। সাধারণত সমাজের সুবিধা বঞ্চিত, অবসরপ্রাপ্তদের সামাজিক নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সঞ্চয়পত্র বিক্রির অন্যতম উদ্দেশ্য। জনগণের মাঝে সঞ্চয়ের মনোবৃত্তি গড়ে তোলাও সঞ্চয়পত্রের আরেকটি উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে জনসাধারণের কাছ থেকে সরাসরি ঋণ নেয় সরকার। বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য অভ্যন্তরীণ কৌশল অন্যতম এই সঞ্চয়পত্র। ঝালকাঠির মুক্তিযোদ্ধা ও জনতা ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা সত্যবান সেন গুপ্ত গোপাল জানান, গত রোববারে জনতা ব্যাংক ঝালকাঠির কাপুড়িয়া পট্টি শাখায় একটি ডিপিএস (মাসিক সঞ্চয়) করতে গেলে ব্যাংক ব্যবস্থাপক গড়িমসি করে। তখন ডিজিএমকে মুঠোফোনে জানালে সংকটের অজুহাত দেখিয়ে ঈদের পরে আসতে বলেন বলেও জানান তিনি। সোনালি ব্যাংকের কোর্ট বিল্ডিং শাখায় আয়েশা খাতুন নামের এক বৃদ্ধা এসেছিলেন পারিবারিক সঞ্চয়পত্র কিনতে। কিন্তু চাহিদা মাফিক পাননি তিনি। ব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, সরবরাহ নেই, তাই এখন দেয়া যাচ্ছে না। সঞ্চয়পত্র কিনে জীবন ধারণ করা মানুষদের অনেকেই তার মতো দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। তিনি বলেন, একে তো প্রয়োজন মতো পাওয়া যাচ্ছে না সঞ্চয়পত্র, তার ওপর কমছে সুদের হার। শুধু সত্যবান সেন গুপ্ত গোপাল বা আয়েশা খাতুন নয়, তার মতো অনেকেই সঞ্চয়পত্র কিনতে এসে খালি হাতে ফিরছেন। সোনালী ব্যাংকের দায়িত্বরত সেকেন্ড অফিসার (ভারপ্রাপ্ত শাখা ব্যবস্থাপক) মো. জালাল আহমেদ বলেন, প্রতিদিনই প্রচুর সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে। তাই চাহিদা অনুযায়ী, সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সামনে ঈদ। এখন সবাই বেতন-বোনাস তুলতে আসে। কেন্দ্র থেকেই সঞ্চয়পত্রের উপরে গুরুত্ব কমিয়ে দিয়েছে। ঈদের পরে সঞ্চয়পত্র পর্যাপ্ত পাওয়া যাবে। ঝালকাঠি সঞ্চয় অফিসার মো. জাহাঙ্গির আলম জানান, চলতি মাসের শুরু থেকে এখন (১২ জুন) পর্যন্ত ২৯ জনে সঞ্চয়পত্র কিনেছে। আমাদের কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। সঞ্চয় করতে আসলেই নিতে পারবেন। ঝালকাঠি জনতা ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. আলমগীর হোসেন জানান, আমার হাজার হাজার মানুষের সঞ্চয়পত্র ও ডিপিএস করছি। এখন একটু চাপ আছে কিন্তু সরবরাহও কম আছে। এসব বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য দেয়ায় নিষেধাজ্ঞা আছে। তাই আমরা তথ্য দিতে বাধ্য নই। তথ্য নিতে হলে আদালতের নির্দেশনা নিয়ে আসতে হবে। তথ্য অধিকার আইনের কথা বললে তাও তিনি মানতে নারাজ। তিনি আদালতের দোহাই দিয়েই চলছেন। সর্বশেষ তিনি বলেন, আমাদের ব্যাংকিং হিসাব অর্থবছরের হিসেবে চলে না। আমাদের হিসাব চলে ইংরেজি বছর অনুযায়ী। ঝালকাঠি জেলা প্রধান ডাকঘরের পোস্ট মাস্টার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের অফিসে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র বাদে সকল সঞ্চয়পত্রের কার্যক্রম চলমান আছে। শুধুমাত্র পারিবারিক সঞ্চয়পত্রের ৫০ হাজার থেকে তার বেশি কেউ নিতে আসলে আমরা এখন তা দিতে পারছি না। চাহিদা দেয়া হয়েছে শীঘ্রই এসে যাবে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সঞ্চয়পত্রে সুদ হার কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন হলেই নতুন সুদ হার কার্যকর হবে। তাই সুদের হার কমার আগেই সঞ্চয়পত্র কেনার হিড়িক লেগেছে। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা দেয়ার পর থেকে মানুষ লাইন ধরে সঞ্চয়পত্র কিনছেন। সঞ্চয়পত্র বিক্রির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার পর আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়ে গেছে। নিয়মানুযায়ী যেদিন সঞ্চয়পত্র সুদের হার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয় সেদিন থেকেই নতুন সুদ হার কার্যকর হয়ে থাকে। কবে নতুন প্রজ্ঞাপন হবে সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। যদিও অর্থমন্ত্রী বলেছেন বাজেটের পর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানো হবে। তবে যেকোন সময় প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে আগেভাগে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করছেন অনেকেই। এদিকে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকে আমানত রাখলে যে সুদ পাওয়া যায় তার চেয়ে মাত্র দুই শতাংশ বেশি সুদ থাকবে সঞ্চয়পত্রে। এতে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার অনেক কমে যেতে পারে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২০
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৮৭৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.