নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১৮ জুন ২০১৭, ৪ আষাঢ় ১৪২৪, ২২ রমজান ১৪৩৮
নিরীহ সাধারণ মানুষের পকেটে মাদক ঢুকিয়ে অর্থবাণিজ্য
যশোর পুলিশের নির্লজ্জ কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ
জনতা ডেস্ক
যশোর পুলিশের দুর্বৃত্তায়ন সীমা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের নির্লজ্জ ও অবৈধ কর্মকা-ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জেলাবাসী। পুলিশি আতঙ্কে সাধারণ মানুষ এখন প্রতিটি মুহূর্ত পার করছেন। নিরুপায় মানুষের নিরাপত্তার জন্য যে জায়গাটুকু ছিল তা এখন পুলিশের কারণে শেষ হয়ে গেছে। ঐসব দুর্বৃত্তদের শিকার হচ্ছে সাধারণ নিরীহ মানুষ। কে যে কখন তাদের খপ্পরে পড়বেন তা কেউ জানে না। কাজেই সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

যশোরের পুলিশ বর্তমানে রক্ষকের ভূমিকা ছেড়ে ভক্ষকের ভূমিকায় নেমেছে। কিছু সংখ্যক অসৎ অর্থলিপ্সু পুলিশের নির্লজ্জ ও নির্মম ভূমিকার কারণ পুলিশ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন তার সরকারকে জনপ্রিয় করে তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় গিয়ে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তখন পুলিশ বিভাগে ঘাপটি মেরে থাকা জামায়াত ও বিএনপিপন্থী, সমাজবিরোধী অসৎ, গণবিরোধী অর্থলিপ্সু কিছু পুলিশ সদস্য সরকারের ভাবমূর্তিতে কুঠার আঘাত হানছেন। বঙ্গবন্ধুর আজীবনের স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ায় প্রধানমন্ত্রীর কঠোর পরিশ্রমের সাফল্যকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত এসব নির্লজ্জ দুর্বৃত্তদের কঠোর হাতে দমন করা প্রয়োজন বলে আওয়ামী হিতৈষী মহল মনে করেন। অন্যথায় পুলিশের অপকর্মের কারণে বর্তমান সরকার ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রকৃত অপরাধী ধরার বদলে সাদা পোশাকধারী পুলিশের কতিপয় উপ-পরিদর্শক (এসআই) সমাজের সম্মানিত ও অর্থ-বিত্তশালী মানুষকে টার্গেট করে লাখ লাখ টাকা অর্থবাণিজ্য করছেন। এমনকি তাদের শিকার হচ্ছেন সাধারণ নিরীহ মানুষ। অবৈধ টাকার মোহে তারা দিনরাত দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন জেলায় ও শহরের অলিতে-গলিতে। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ইয়াবা ট্যাবলেট বা গাঁজার পোটলা দিয়ে চালান দেয়ার ভয় দেখিয়ে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার দৃষ্টান্ত দেখাচ্ছেন এসব দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তারা। দাবিকৃত ঘুষের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে ফাঁসিয়ে দেয়া হচ্ছে মাদকের মিথ্যা মামলায়। নিয়ম হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তারা অভিযানের আগে সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করে বের হবেন। কিন্তু এ নিয়ম পালন করেন না বেশিরভাগ পুলিশ কর্মকর্তা। আবার কোন কোন কর্মকর্তা সাধারণ ডায়েরি করলেও আসামি আটকের পর রেজিস্ট্রার খাতায় এন্ট্রি না করে মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য করে ছেড়ে দেন। ফলে যশোর পুলিশের কতিপয় কর্মকর্তার লাগামহীন বিতর্কিত কর্মকা-ে রাষ্ট্র এবং গোটা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে চরমভাবে।

সর্বশেষ গত ১৩ জুন যশোরে এক কলেজ শিক্ষককে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক এসএম শামীম আক্তারকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়। ঐদিন সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লবের পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে তাকে আটকের চেষ্টা করেন শামীম আক্তারের এক সোর্স। কলেজ শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম বিপ্লব ঐ সময় কর্মস্থল থেকে নিজ বাড়ি হৈবতপুর ইউনিয়নের মুরাদগড়ে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে যশোর-ঝিনাইদহ সড়কের কাজী শাহেদ সেন্টারের সামনে পৌঁছালে উপ-পরিদর্শক শামীম আক্তারসহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যরা তার গতিরোধ করেন। এ সময় পুলিশের সাথে থাকা এক সোর্স হঠাৎ করে জাহিদুল ইসলাম বিপ্লবের পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শামীম আক্তারের সাথে এএসআই মনির হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। তাৎক্ষণিক এ ঘটনা নিয়ে দু'পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে সেখানে লোকজন জড়ো হলে পরিস্থিতি খারাপ বুঝতে পেরে এসআই শামীম আক্তার কলেজ শিক্ষককে ছেড়ে দেন। এ খবর পার্শ্ববর্তী হৈবতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েক নেতা জানতে পারেন। পরে বিষয়টি মুখে মুখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে জনতা। এ ঘটনা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের গোচরে আসার পর বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় এসআই শামীম আক্তারকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।

গত ১১ জুন রাতে জেলা শহরের রেল রোড়স্থ সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার সামনে থেকে নিরপরাধ এক যুবকের পকেটে গাঁজার পোটলা ঢুকিয়ে আটক করার সময় গণরোষের শিকার হন যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই মাহাবুব। সুব্রত নামে ঐ যুবক এ সময় মোটরসাইকেল চালিয়ে বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় সুব্রতর মোটরসাইকেল থামিয়ে পকেট চেক করতে উদ্যত হন ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু পুলিশকে সুযোগ না দিয়ে সুব্রত নিজেই তার পকেট দেখান। এ সময় তার পকেট থেকে একটি চাবির রিং নিচেই পড়ে যায়। সুব্রত সেটি ওঠানোর সময় একটি কাগজে মোড়ানো গাঁজার পোটলা সুব্রতর পকেটে দেয়ার চেষ্টা করেন ঐ পুলিশ কর্মকর্তা। তখন সে 'পকেটে কী ঢোকাচ্ছেন' বলে প্রতিবাদ করেন। জবাবে পুলিশ কর্মকর্তা স্বভাব সুলভ ভঙ্গিতে গালি দিয়ে উঠলে সুব্রত ঘটনা বুঝতে পেরে মোবাইল করে লোকজন ডাকেন। তখন ঐ পুলিশ কর্মকর্তা তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে রাস্তায় আছাড় দিয়ে ভেঙে ফেলেন। এরই মধ্যে আশপাশে থাকা লোকজন এগিয়ে এসে এসআই মাহবুবকে ঘিরে পেটাতে উদ্যত হন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি (অপারেশন) শামছুদ্দোহা, এসআই মিরাজ মোসাদ্দেক, এসআই মোকলেসুজ্জামানসহ অন্যান্য অফিসাররা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশ উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করতে ব্যর্থ হন। এরই মধ্যে জনতা অভিযুক্ত পুলিশ অফিসার মাহবুবকে টানাহেঁচড়া করে হেনস্থা করতে থাকেন। তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোন ভাঙার অপরাধে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৩ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। এ অভিযোগে এসআই মাহবুবকে সাসপেন্ড করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করেন কর্তৃপক্ষ।

গত ১৬ মে চৌগাছা উপজেলার খড়িঞ্চা গ্রামে আব্দুর রহমান নামে এক চা দোকানদারকে ফেনসিডিল দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে জনরোষে পড়েন চৌগাছা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক সাজ্জাদ ও মাসুদ। বাজারে থাকা লোকজন হাতেনাতে ফেনসিডিলসহ ঐ দুই কর্মকর্তাকে ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় তারা ছাড়া পান। কর্তৃপক্ষ জনতার বিক্ষোভের মুখে অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে লাইনে ক্লোজ করেন।

গাঁজা সেবনের অভিযোগে ২৪ মার্চ সকালে সদরের বড় শেখহাটি গ্রাম থেকে আব্দুল গফুর নামে এক ব্যক্তিকে ডিবি পুলিশের দারোগা আলমগীর, বিপ্লব ও লায়েকুজ্জামান আটক করে। পরে তার স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের কাছে দারোগা আলমগীর মোবাইল ফোনে বলে ১০ লাখ টাকা দিলে তোর স্বামী গফুরকে ছেড়ে দেব, তা না হলে ৫ হাজার পিস ইয়াবা দিয়ে চালান দেব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত টাকা দিতে না পারায় গফুরকে মাদকের মিথ্যা মামলা দিয়ে চালান দেয় পুলিশ। এ ঘটনার আগেও দারোগা আলমগীর গফুরকে কয়েক দফা আটক করে ঘুষ গ্রহণ করেন এবং পেন্ডিং মামলায় চালান দেন। পুলিশের এহেন কর্মকা- সহ্য করতে না পেয়ে গফুরের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন দুই সন্তানসহ বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। সর্বশেষ সুবিচার চেয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি এবং যশোর পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

২০১৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর কেশবপুর উপজেলার জাহানপুর বাজারে ব্যবসায়ী আবদুল লতিফকে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে জনরোষে পড়েন কেশবপুর থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান ও দুই কনস্টেবল। পরে এ অভিযোগে তাদের লাইনে ক্লোজ করা হয়। একই বছরের ২৭ অক্টোবর চৌগাছা বাজারে রাবণ নামে এক ব্যবসায়ীর দোকানে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসাতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হন সহকারী উপ-পরিদর্শক সিরাজ ও এক কনস্টেবল। এ অভিযোগে তাৎক্ষণিক তাদেরকে লাইনে ক্লোজ করা হয়।

৪ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় এক যুবককে ঝুলিয়ে পেটানোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, দাবি করা ঘুষের টাকা না দেয়ায় থানার দুই উপ-পরিদর্শক সদরের তালবাড়ীয়া গ্রামের আবু সাঈদ নামে ঐ যুবককে নির্যাতন করেন। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। এছাড়া জেলার কোতোয়ালি, ডিবিসহ বিভিন্ন থানায় অহরহ নিরীহ মানুষকে আটক করে দেদারছে অর্থবাণিজ্য চলছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশ। যশোর পুলিশের এহেন অনৈতিক কর্মকা-ের হাত থেকে পরিত্রাণ পেতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৬
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৪৬৭.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.