নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, সোমবার ১৮ জুন ২০১৭, ৪ আষাঢ় ১৪২৪, ২২ রমজান ১৪৩৮
জনতার মত
ঈদ-আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে
মুহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত হোসেন
বছর ঘুরে আমাদের মাঝে আবার আসছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সমগ্র মুসলিম জাহান এক মাস সিয়াম সাধনার পর শাওয়ালের নতুন চাঁদ আমাদের জন্য নিয়ে আসে সাম্য ও সৌহার্দের অনন্য নিদর্শন ও সার্বজনীন উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। বছরের এই একটি দিন মানুষ অন্তত সকল হীনমন্যতা, জীর্ণতা আর আত্মকেন্দ্রিকতা ভুলে গিয়ে সৌহার্দ ও সমপ্রীতির এক নব উদ্দীপনায় জাগ্রত হয়। বিলিয়ে দেয় পবিত্র ও নির্মল স্বর্গীয় সুধা। একে-অপরের সাথে ভাগাভাগি করে নেয় ঈদের অনাবিল আনন্দ।

একদিকে ঈদ সনি্নকটে আর অন্যদিকে দেশের কয়েকটি জেলায় চলছে বন্যার্ত মানুষের করুণ আহাজারি। পানি বন্দি লাখ লাখ মানুষ গৃহহারা হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছে। চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ অনেক জায়গায় পাহাড় ধসে আর বন্যার পানিতে ভেসে গিয়ে এই পর্যন্ত মারা গেছে প্রায় দুই শতাধিক মানুষ। এই সমস্ত পরিবারগুলো হয়তো ভুলে গেছে মহা আনন্দময় ঈদের কথা! সবকিছু হারিয়ে তারা এখন অসহায়। এমতাবস্থায় সমাজে যারা বিত্তবান মানুষ আছে তাদের উচিত হবে এদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসা। সরকারের পাশাপাশি সামর্থ্যবান মানুষগুলো যদি এই দুর্গতদের পাশে দাঁড়ায় তবে হয়তো তাদের ঘরেও ঈদের আনন্দ পৌঁছে যেতে পারে। আপনি, আমি কোরমা-পোলাও খাবো আর পাশের প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত-অসহায় অবস্থায় থাকবে, আমরা নতুন জামা কাপড় পরিধান করবো আর বানভাসী মানুষগুলো ছেড়া বস্ত্রে গালে হাত দিয়ে বসে থাকবে তা তো হতে দেয়া যায় না। ঈদুল ফিতর তো আমাদেরকে সেই শিক্ষা দেয় না। সবার মুখে হাসি ফুটাতে পারলে, আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারলেই ঈদের আনন্দ সার্বজনীন ও সার্থক হয়ে উঠবে। তাই যাকাত, ফিতরা, সাদকা বা মানবিক সাহায্য নিয়ে এসব মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। আর একটি বিষয় হচ্ছে প্রতি বছর ঈদ আসলেই আমাদের মনে শঙ্কা বেড়ে যায় সড়ক ও নৌ-পথে দুর্ঘটনার। লক্ষ লক্ষ মানুষ পরিবারের সাথে ঈদ করতে গ্রামে ফিরতে পোহাতে হয় অবর্ণনীয় দুর্ভোগ এবং দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে প্রাণ হারায় অনেক মানুষ আর নেমে আসে আনন্দের পরিবর্তে শোকের ছায়া। এই অনিয়মের নিয়মকে ভেঙে সবার যাত্রা নিরাপদ করতে হবে এবং সরকারকে এই ব্যাপারে যথাযথ ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ইতিমধ্যে মিডিয়ার বদৌলতে সবাই দেখেছে বিভিন্ন ঘাটে এবং স্টেশনে কীভাবে পুরনো লঞ্চ, স্টিমার এবং লক্কর-ঝক্কর মার্কা বাসগুলোকে রঙ দিয়ে ঈদের যাত্রী পরিবহণের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। অথচ এই সমস্ত লঞ্চ, স্টিমার কিংবা গাড়ির কোনো ফিটনেস সার্টিফিকেট নেই এবং এগুলো যাত্রী পরিবহণের মতো উপযোগীও নয়।

এক শ্রেণির মুনাফা লোভী মালিক ও প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা মিলে ঈদের সময় নিজেদের পকেট ভর্তির জন্য এই সমস্ত ফিটনেস বিহীন লঞ্চ, স্টিমার আর যানবাহন দিয়ে নৌ-পথ ও সড়ক পথে যাত্রী বহন করার পাঁয়তারা করে এবং প্রতিবছর দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে প্রাণ হারায় শত মানুষ ও আজীবন পঙ্গুত্ব বরণ করে আরও হাজার জন। ঈদে ঘরে ফেরা লক্ষ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করে তাদের ঈদের আনন্দ উপভোগ করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে অন্যথায় যে কোনো দুর্ঘটনা সবার ঈদ আনন্দকে মস্নান করে দিতে পারে।

আসুন আমরা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সরকারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বা সামাজিকভাবে সকল অন্যায়, অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই এবং অসহায়, নিরন্ন, দরিদ্র ও বানভাসী মানুষদের প্রতি সহায়তা ও সহমর্মীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে ঈদুল ফিতরের শিক্ষাকে কাজে লাগাই এবং সমাজের সকল স্তরের মানুষের মাঝে ঈদ আনন্দ ছড়িয়ে দিই।

মুহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাত হোসেন : কলামিস্ট

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ২৩
ফজর৩:৫৯
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৪৯
এশা৮:১০
সূর্যোদয় - ৫:২৪সূর্যাস্ত - ০৬:৪৪
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৩৮১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.