নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ৩০ জুন ২০২০, ১৬ আষাঢ় ১৪২৭, ৮ জিলকদ ১৪৪১
লকডাউন এবং বিষণ্নতা
সাবিহা খানম (একা)
চীন থেকে প্রথম উৎপত্তি হওয়ার পর বাংলাদেশে (কোভিড-১৯)-এর রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ, ২০২০ সালে। আর প্রথম মৃত্যু ঘটে ১৮ মার্চ।

১৭ মার্চ হতে বাংলাদেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে দেয়া হয়। এবং শুরু হয় লকডাউন। লকডাউন শব্দটি সম্পর্কে বর্তমানে আমরা সকলেই কম-বেশি পরিচিত। কিন্তু এর আক্ষরিক অর্থটি আমাদের জানা প্রয়োজন। লকডাউনের আক্ষরিক অর্থ হলো, জরুরি প্রয়োজনে মানুষের গতিবিধি বন্ধ করে দেয়া। প্রিভেন্টিভ বা সতর্কতামূলক লকডাউন এবং এমার্জেন্সি লকডাউন। একাধিক শহরে যে লকডাউন জারি হচ্ছে তা হলো সতর্কতামূলক লকডাউন।

করোনাভাইরাসের প্রভাবে পৃথিবীর এক- তৃতীয়াংশ মানুষ এখন লকডাউন বা ঘরবন্দি। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডবিস্নউইএফ)-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে লিখেছেন- 'ঘরবন্দি মানুষগুলোর গুরুতর মানসিক সমস্যা হচ্ছে এবং বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি' ঘরবন্দি মানুষের সংখ্যার দিক থেকে ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। ড্যান হুফ এ অবস্থাকে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় মনস্তাত্তি্বক পরীক্ষা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। গৃহবন্দি এই মানুষগুলো নানা রকম মানসিক চাপের শিকার হচ্ছে। এর মধ্যে মন খারাপ, অনিদ্রা, বিষণ্ন্নতা, বিভ্রান্তি, উৎকণ্ঠা, খিটখিটে মেজাজ, অবসাদ এবং মানসিক চাপের নানা লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। ফেসবুকসহ বাংলাদেশের অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে মানুষ নিজেদের ভয়, আতঙ্ক, উদ্বেগের কথা লিখছেন। যেমন ধরেন-

১ বেঁচে থাকলে দেখা হবে।

২. আর কিছুদিন বাসায় থাকলে পাগল হয়ে যাবো।

নানা জাতীয় হতাশগ্রস্ত স্ট্যাটাস আমরা দেখতে পাচ্ছি লকডাউন শুরু হবার পরবর্তী সময় থেকে। সমাজ হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো মানুষ বেশিদিন বাঁচতে পারে না। কিন্তু (কোভিড-১৯) এমন একটি রোগ যা মানুষকে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করছে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তো বটেই সাথে তার পরিবারের সদস্যদেরও সমাজ থেকে একঘোরে করছে।

২০১৯ সালের শেষের দিকে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর হিসাব অনুযায়ী প্রায় তিন কোটির বেশি মানুষ হতাশায় ভুগছে। বাংলাদেশে তা মোট জনসংখ্যার ৪.৬ শতাংশ। (কোভিড-১৯) প্যানডেমিকে মানুষ যে সকল বিষয় নিয়ে বেশি হতাশায় ভুগছেন তার মধ্যে রয়েছে করোনার ভয়, চাকরি হারানোর ভয়, ব্যবসায় ক্ষতি, স্কুল-কলেজে যাওয়া ছেলেমেয়েদের আগে ছিল পারিবারিক বাধা আর এখন সমাজ এবং আইনের বাধা। সিনিয়র সিটিজেনদের সেন্স অফ ভয়েড আর ক্যারিয়ার সবেমাত্র শুরু করবে এমন স্টুডেন্টদের হতাশার যেন কোনো শেষ নেই এই সময়ে। এসব হতাশা এক এক করে বিল্ড আপ হয় এবং ক্রমে তা রাগ বা ক্রোধে পরিণত হয়। লকডাউনরত অবস্থায় মানুষের আচরণে বিষণ্ন্নতার প্রতিফলন বাড়ছে প্রকট হারে এবং বিভিন্নভাবে তা ব্যক্তি সমাজ এবং রাষ্ট্রের উপর প্রভাব সৃষ্টি করছে।

প্রত্যক্ষভাবে দেখা গেলে মানুষ অল্পতেই রেগে যাচ্ছে। আবার কান্নায় ভেঙে পড়ছে, কেমন একটি অসহ্য যন্ত্রণার মধ্যে পাড় করছে প্রতিটি মুহূর্ত।

মানুষ এতটাই একাকিত্ব বোধ করছে যে অনেক সময় মাথায় এরকম চিন্তাভাবনা আসছে যে, সে আত্মহত্যা করবে। গত ২৯ মার্চ, ২০২০ জার্মানির হেসে প্রদেশের অর্থমন্ত্রী টমাস শাকের আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে জানা যায় করোনার প্রভাবে অথনৈতিক মন্দার হতাশা নিয়েই তিনি এটি করেন। এই লকডাউনে বৃদ্ধি পেয়েছে হাজারো সম্পর্কের ভাঙন। সমপ্রতি চায়নার একটি গবেষণায় দেখা গেছে ডিভোর্সের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫ শতাংশের উপরে। যদিও বাংলাদেশে এখনও এই গবেষণাটি করা হয়নি। ঘরবন্দি মানুষ লকডাউনের এই সময়টাতে অনেকটাই নির্ভরশীল টিভি চ্যানেলের নিউজ এবং সোশাল মিডিয়ার নিউজগুলোর উপর। কিছু মিসইনফরমেশন যেমন ঘরের বাইরে দিয়া জ্বালালে সেই ঘরের মানুষ করোনামুক্ত হবে, চায়না করোনা সৃষ্টি করে দেশে দেশে ছড়িয়েছে, করোনা মুসলমানদের আক্রান্ত করবে না, পীরের ফু-তে করোনামুক্ত হবে মানুষ। এই যে এসকল বিভ্রান্তিকর সংবাদ যা মানুষকে আরও হতাশাগ্রস্ত করে তুলছে। লকডাউনরত অবস্থায় মানুষের হতাশা, রাগ বা ক্রোধ এতটাই তুঙ্গে যে গত ১৫ জুন, ২০২০ খুলনার রাইসা হসপিটালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের হামলায় প্রাণ হারান ড. রাকিবউদ্দিন। এরকম আরও শত শত ঘটনা ঘটছে আমাদের আশপাশেই। তবে আপনি বা আমি হয়তো ইচ্ছা করলেই এই লকডাউনরত জীবনটাকে করে তুলতে পারি কিছুটা ভিন্নতর যা আমাদের বিষণ্নতাকে কাটিয়ে তুলতে পারে। *পরিবারকে সময় দেয়া। হয়ত সবার ব্যস্ততার ভিড়ে আমরা পরিবারকে ভালোভাবে সময় দিতে পারি না। পারিবারিক বন্ধন সৃষ্টি করার এই সময়টি একটি সুযোগ্য সময়।

* টিভি নিউজ কম দেখে বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানগুলো দেখলে বিষণ্নতা একটু হলেও রিলিভড পাবে।

* গল্পের বই পড়া বা বিভিন্ন গল্পের অডিও ক্লিপ শোনা।

* পছন্দের গানগুলো শোনা, বাড়িতে গিটার বা হারমোনিয়াম থাকলে নিজেও গাইতে পারেন।

* প্রতিদিন ইয়োগা করতে পারেন ইটস রিয়েলি ওয়ার্ক ফর ডিক্রিজিং মেন্টাল স্ট্রেস।

* আপনার নিজের ক্রিয়েটিভিটিগুলো উন্মোচন করার সব থেকে বেস্ট সময় এটি।

অনেকেই কাজের প্রেশারে এবং যান্ত্রিক জীবনে এসকল কাজগুলো করতে পারে না। যা হতে পারে আপনার অন্য আরেকটি পরিচয়। 'একজন ডক্টর যে গায়ক হতে পারবে না' ব্যাপারটা কিন্তু এমন নয়। তাই এ সময়টাতে বিষণ্ন না থেকে কাজের মাধ্যমে আপনি, আমি এবং আমরা সকলে পারি বিষণ্ন শব্দটিকে দূরে ছুড়ে দিতে। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, 'যারা আগে থেকেই ভঙ্গুর মানসিকতায় বেঁচে আছেন, তাদের আত্মহত্যার জন্য (কোভিড-১৯) উপস্থিত হয়েছে একটি চূড়ান্ত সময় হিসাবে'। হ্যাঁ, হয়তবা তাই। তবে মানুষ লড়াকু প্রাণী। লড়াই করে বেঁচে থাকতে শিখেছে। তাইতো এই বিষণ্নতার জ্বাল থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে এবং একটি সুন্দর পৃথিবী গড়ে তোলার মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে।

সাবিহা খানম (একা) : লেখক
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ১১
ফজর৩:৫২
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫২
এশা৮:১৫
সূর্যোদয় - ৫:১৮সূর্যাস্ত - ০৬:৪৭
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৫৩৯৯.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.