নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ জুলাই ২০১৮, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯
বদরগঞ্জে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যানের লাখ লাখ টাকা শিক্ষা অফিসারের ব্যক্তিগত একাউন্টে
বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৬৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা এখন শিক্ষা অফিসারের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এমনটি করা হয়েছে বলে শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, গত অর্থবছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্প-৩ (পিইডিপি-৩)'র অধীনে স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেণ্ট প্ল্যান (সস্নীপ)-এ ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। যা দিয়ে বিদ্যালয়ে ছোটখাট সমস্যাসহ শিক্ষা উপকরণ কেনার কথা। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী- এই অর্থ কোনরূপ বিলম্ব না করে দ্রুততার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় স্কুলের তালিকা দিয়ে স্কুলের ব্যাংক হিসাব নম্বরে স্থানান্তর করতে হবে এবং ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।

অথচ কাজ তো দূরের কথা এখন পর্যন্ত ওই অর্থ স্কুলগুলোকে দেয়া হয়নি। এ কারণে কোন স্কুলেই কোন কাজ হয়নি। সরেজমিনে জানা যায়, অর্থবছর শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে কাজ বাস্তবায়নের ভুয়া বিল-ভাউচার দেখিয়ে ঐ অর্থ উত্তোলন করে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রেখেছেন শিক্ষা অফিসার। বিভিন্ন স্কুল পরিদর্শন কালে প্রধান শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অর্থ ছাড় না দিয়েও উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাদের কাছ থেকে জুন মাসে শতভাগ কাজ বাস্তবায়নের ভুয়া ভাউচার ও প্রত্যয়নপত্র নিয়েছেন। আর ঐ ভুয়া ভাউচার ও প্রত্যয়নের আলোকে উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিস সস্নীপ'র বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় দেয়। গত ৩০ জুন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম সস্নীপ'র বরাদ্দকৃত ৬৮লাখ ৮০ হাজার টাকা উত্তোলন করে তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রেখে দেন। এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জানান, ওইভাবে টাকা উত্তোলন না করলে বরাদ্দকৃত টাকা ফেরত যেত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুল প্রধানরা জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসেই উপজেলা শিক্ষা অফিসার প্রত্যেক বিদ্যালয় থেকে প্ল্যান গ্রহণ করেন। তাদের মতে, পতাকার স্ট্যা- তৈরি, ওয়েট মেশিন ক্রয়, পিতলের ঘন্টা ক্রয়, শিশু শ্রেণির শিক্ষা উপকরণ ক্রয়, কাঠের চেয়ার ক্রয়সহ বিদ্যালয়ের ৩২প্রকার সমস্যা সমাধানের প্ল্যান তৈরি করে তা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে জমা দেয়া হয়। কিন্তু শিক্ষা অফিসার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য অর্থ ছাড় না দিয়ে বরং জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে প্রত্যেক স্কুল প্রধানের কাছ থেকে ভুয়া ভাউচার ও স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছ থেকে শতভাগ কাজ বাস্তবায়নের প্রত্যয়নপত্র গ্রহণ করেন। স্কুল প্রধানরা আরো জানান, শিক্ষা অফিসার ঘোষণা দিয়েছিলেন ভাউচার ও প্রত্যয়নপত্র জমা না দিলে বরাদ্দকৃত অর্থ মিলবেনা। কিন্তু এসব জমা দিয়েও অর্থ মেলেনি। বরং অর্থবছর শেষে জানতে পেরেছি ওই অর্থ শিক্ষা অফিসারের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। স্কুল প্রধানরা বলেন, বছরের শুরুতেই স্কুল প্ল্যান জমা দিলেই শিক্ষা অফিস অর্থ ছাড় দেয়। এরপর কাজ বাস্তবায়ন হলে ভাউচার ও প্রত্যয়নপত্র জমা দেয়া হয়। পরবর্তীতে কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা তা দেখার জন্য শিক্ষা অফিসার স্কুল পরিদর্শন করেন। কিন্তু এবারে তার পুরোপুরি উল্টো হয়েছে। কারণ সবকিছুই নেয়া হয়েছে কিন্তু কিছুই দেয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সবকিছু তৈরি করেছি এখন অর্থ ছাড় দেয়ার অপেক্ষায় আছি। তিনি এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান শিক্ষকদের চোর আখ্যা দিয়ে বলেন, তারা চোর এ কারণে বরাদ্দকৃত অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে রেখেছি।

প্রধান শিক্ষকরা শিক্ষা অফিসারের ওই কথার তীব্র প্রতিবাদ করে বলেন, শিক্ষা অফিসার তো পুরোপুরি বাটপার; তা' না হলে সরকারের অর্থ নিজের অ্যাকাউন্টে রাখেন কিভাবে? তারা বলেন, এর উদ্দেশ্যই হলো সরকারের অর্থ আত্মসাৎ ও স্কুলের উন্নয়ন কুপোকাত করা!

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৯
ফজর৪:৫৬
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৩৭
মাগরিব৫:১৫
এশা৬:৩১
সূর্যোদয় - ৬:১৫সূর্যাস্ত - ০৫:১০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৪৪০০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.