নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ জুলাই ২০১৮, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯
ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত গুতেরেস-এর নিবন্ধ
রোহিঙ্গাদের রক্ষায় বিশ্ব ব্যর্থ
জনতা ডেস্ক
বাংলাদেশ সফরে কঙ্বাজারে গিয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে দেখার অভিজ্ঞতা জানিয়ে একটি নিবন্ধ লিখেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত ঐ নিবন্ধের তুলে ধরা হলো দৈনিক জনতা'র পাঠকদের জন্য।

ছোট ছোট শিশুদের হত্যা করা হয়েছে তাদের বাবা-মায়ের সামনে। মেয়ে শিশু ও নারীদের দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের অত্যাচারের পর হত্যা করা হয়েছে। গ্রামের পর গ্রাম, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক হত্যাকা- এবং সহিংসতার মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের কাছ থেকে গত সপ্তাহে

হাড় কাঁপানো যেসব ঘটনা আমি শুনেছি, তার জন্য কোনোভাবেই প্রস্তুত থাকা সম্ভব ছিল না।

সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য তার বড় ছেলেকে নিজের সামনে গুলি করে হত্যা করার বর্ণনা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন, ঐ লোকের মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় এবং তার বাড়ি পুড়িয়ে ছাই করে দেয়া হয়। তিনি মসজিদে আশ্রয় নিলেও মায়ানমার সেনারা সেখানে গিয়ে তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং কোরান পুড়িয়ে দেয় তারা।

সঠিকভাবেই পরিচিত 'জাতিগত নিধনের' শিকার এসব মানুষ এমন যন্ত্রণা ভোগ করছে যা একজন প্রত্যক্ষদর্শীর মধ্যে শুধুমাত্র বেদনা ও রাগই উসকে দিতে পারে। তাদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বোঝার অতীত, তবু এটাই ১০ লাখ রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর জন্য বাস্তবতা।

রোহিঙ্গারা এমনি নির্যাতনের শিকার যে নিজ দেশ মায়ানমারে নাগরিকত্ব থেকে শুরু করে নিতান্ত মৌলিক মানবাধিকার থেকে তারা বঞ্চিত।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ভেতরে ত্রাস ঢুকিয়ে দিতে গত বছর মায়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী পদ্ধতিগতভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল ভয়ঙ্কর দুটি বিকল্প রোহিঙ্গাদের উপর চাপিয়ে দেয়া; মৃত্যুর ভয় নিয়ে অবস্থান কর নয়তো বেঁচে থাকার জন্য সবকিছু ছেড়ে চলে যাও।

নিরাপত্তার সন্ধানে দুর্বিষহ যাত্রা শেষে এসব উদ্বাস্তুরা বাংলাদেশের কঙ্বাজারে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করছে। এটা এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকট। সীমিত সম্পদ নিয়ে বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। তারপরও বাংলাদেশের জনগণ ও সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য তাদের সীমান্ত ও হৃদয় খুলে দিয়েছে, যেখানে বৃহত্তর ও সম্পদশালী দেশগুলো বাইরের মানুষের মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের মানুষের মমত্ববোধ ও উদারতা দেখিয়ে দিয়েছে মানবতার সর্বোচ্চ রূপ এবং হাজারো মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। কিন্তু এই সংকটের অবশ্যই বৈশ্বিক সমাধান করতে হবে।

প্রাণ হাতে নিয়ে পালানো মানুষের আশ্রয় দিতে বাংলাদেশের মতো সামনের সারির দেশগুলো যাতে একা হয়ে না যায় তার জন্য জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো শরণার্থী বিষয়ে একটি বৈশ্বিক চুক্তি চূড়ান্ত করছে। তবে এখনকার জন্য জাতিসংঘ ও অন্যান্য মানবিক সাহায্য সংস্থাগুলো পরিস্থিতির উন্নয়নে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা দেশগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।

কিন্তু দুর্যোগ এড়াতে আরও সম্পদ জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজন। সেই সঙ্গে শরণার্থী সংকটে বৈশ্বিকভাবে দায়িত্ব ভাগ করে নেয়ার যে নীতি তাকেও আরও গুরুত্ব দিতে হবে।

১০০ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তার আহ্বানের বিপরীতে মাত্র ২৬ শতাংশ তহবিল জোগাড় হয়েছে। এই ঘাটতির অর্থ শরণার্থী শিবিরে অপুষ্টি বিদ্যমান। এর অর্থ হলো পানি ও স্যানিটশনের সুযোগ আদর্শ অবস্থা থেকে অনেক দূরে। এর অর্থ আমরা শরণার্থী শিশুদের মৌলিক শিক্ষা দিতে পারছি না। শুধু তাই নয়, বর্ষাকালের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি মোকাবিলায় পদক্ষেপগুলোও অপর্যাপ্ত।

আশ্রয় নেয়া শরণার্থীদের তাড়াহুড়ো করে তৈরি বস্তিগুলো এখন ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিকল্প জায়গা খুঁজে আরও জোরালো আশ্রয়স্থল নির্মাণ নিতান্ত জরুরি।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেক কিছুই করা হয়েছে। তবু মারাত্মক ঝুঁকি রয়ে গেছে, সংকটের সামগ্রিক পরিসরের কারণে।

বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের সঙ্গে আমি বাংলাদেশ সফর করেছি। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয়দাতাদের সহায়তায় ব্যাংক থেকে ৪৮০ মিলিয়ন ডলার দেয়ার ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। তারপরও আন্তর্জাতিক মহল থেকে অনেক অনেক সহায়তা দরকার। শুধুমাত্র সংহতি জানালেই হবে না রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন বাস্তব সহায়তা।

মায়ানমারে এতো নির্যাতন সহ্য করার পরও কঙ্বাজারে আমার দেখা রোহিঙ্গারা আশা ছেড়ে দেয়নি। 'আমরা চাই মায়ানমারে আমাদের নিরাপত্তা ও নাগরিকত্ব দেয়া হোক। আমাদের বোন, কন্যা ও মায়েদের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে তার বিচার আমরা চাই,' ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া নিজ শিশুকে বুকে নিয়ে থাকা এক মাকে দেখিয়ে বললেন বিপর্যস্ত কিন্তু দৃঢ়চেতা এক নারী।

রাতারাতি এই সমস্যার সমাধান হবে না। একইভাবে এই পরিস্থিতি অনির্দিষ্টকালের জন্য চলতে দেয়াও যায় না।

মায়ানমারকে অবশ্যই পূর্ণ অধিকার এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনের প্রতিশ্রুতিসহ শরণার্থীদের ফিরে যাওয়ার জন্য উপযোগী পরিস্থিতি তৈরি করতে হবে। এর জন্য দরকার ব্যাপক বিনিয়োগ- এটা শুধু মায়ানমারের সবচেয়ে দরিদ্র অঞ্চলের সকল জনগোষ্ঠীর জন্য পুনঃনির্মাণ ও উন্নয়নের ক্ষেত্রেই নয়, পুনর্মিলন ও মানবাধিকারের জন্য শ্রদ্ধাবোধ ফেরানোর জন্যও দরকার।

রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার গোড়ার কারণগুলো খুঁজে বের করে সামগ্রিক সমাধান না করা হলে দুর্দশা ও ঘৃণা সংঘাতে ঘৃতাহুতি দেবেই। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিস্মৃত ভুক্তভোগীতে পরিণত হতে পারেন না। সহায়তার জন্য তাদের জোরালো আবেদনে আমাদের অবশ্যই সাড়া দিয়ে কাজে নামতে হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২০
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫৩
আসর৪:১৬
মাগরিব৬:০১
এশা৭:১৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৬সূর্যাস্ত - ০৫:৫৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৫৮৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.