নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১২ জুলাই ২০১৮, ২৮ আষাঢ় ১৪২৫, ২৭ শাওয়াল ১৪৩৯
মধুপুরে বন ধ্বংস করে চলছে কৃষি আবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম বনাঞ্চল টাঙ্গাইলের মধুপুর বন ধ্বংস করে আবাদ করা হচ্ছে কৃষি। আবাদ হচ্ছে কলা, আনারস, হলুদ, লেবুসহ বিভিন্ন জাতের ফসল। কেউ বনের ভূমি দখল করে, আবার কেউ কেউ লিজ নিয়ে বন ধ্বংস করছেন এবং সেখানে চাষ করছেন কৃষিপণ্য।

সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে ভূমি বরাদ্দ দেয়া হলেও কোনো কোনো সময় তারা গাছের পরিবর্তে কৃষি আবাদ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এভাবে বনের ভেতর কৃষি জমির পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মধুপুর উপজেলার পঁচিশ মাইল থেকে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ডান পাশে কিছু এগিয়ে মাটির রাস্তা চলে গেছে বনাঞ্চলের দিকে। বেরীবাইদ অঞ্চলের ছোট গাইজা, জাঙ্গালিয়া, মঙ্গলের

দোকান, আঙ্গারিয়া, পচাচনা, গেচুয়া, নাগরমারাসহ কয়েকটি অঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, বনের ভেতর বিপুল পরিমাণ জায়গায় কৃষি আবাদ হচ্ছে। জাঙ্গালিয়ায় রাস্তার দু'পাশে বিপুল জায়গায় আবাদ হচ্ছে কলা। সেখান থেকে এগিয়ে গেলে আঙ্গারিয়া গ্রাম। এখানে রাস্তার বামপাশে টিনশেড বিল্ডিং চোখে পড়ে। সামনে খোলা জায়গা। তার সামনে আরো বিপুল পরিমাণ জায়গায় লাগানো হয়েছে কলার চারা।

স্থানীয়রা জানান, জায়গাগুলো একটি এনজিও লিজ নিয়েছে। তারাই সেখানে আবাদ করছে। আরো এগিয়ে গেলে পচাচনা গ্রাম। মাটির রাস্তা দিয়ে কিছুক্ষণ এগিয়ে গেলে চোখে পড়বে পাশাপাশি দুটি বিশাল আকারের প্লট। সেখানে আবাদ করা হচ্ছে আনারস। পাশেই এক ব্যক্তি গরুর খাদ্য হিসেবে কলা গাছের পাতা সংগ্রহ করছিলেন। তিনি বলেন, 'ও জায়গা স্থানীয় নয়ন গারোর। তিনি অনেকদিন ধরে আবাদ করছেন। বনের ভেতরে এভাবে আবাদ হচ্ছে বলতেই তিনি বলেন, গাছ লাগানো বাদ দিয়ে মানুষ খালি আনারস, কলা চাষ করে। নিজের জাগার সঙ্গে বনের জাগাতেও চাষ করে। বনের জাগা নিজেগোরেই মনে করে এখানকার মানুষ।' পরে তার পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি ভয়ে পরিচয় প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।

পচাচনা গ্রামেই আরো ভেতরে গেলে দেখা যায়, বনের গাছের একপাশে খানিকটা জায়গার গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। সেখানে গোড়ার পুরোনো অংশ রয়েছে। তার পাশেই নিচু জায়গায় খেত। বনের আরেক অংশে কিছু জায়গা আগুনে পোড়া। গাছের গোড়ায় ঝরা পাতা ও ঘাস পুড়ে গেছে। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তি আবুল কাশেম জানান কিভাবে বনের গাছ কেটে সেখান আবাদি জমি বানানো হয়। আবুল কাশেম বলেন, 'প্রথমে বনের কিছু অংশে আগুন লাগানো হয়। পরে সেই গাছগুলো কাটা হয়। তারপর আস্তে আস্তে সেখানকার মাটি কেটে নিচু করে আবাদ শুরু হয়। এভাবে এক সময় ঐ জমি দখলদারের হয়ে যায়।'

তিনি বলেন, 'আগে কুড়াল দিয়া গাছ কাটা হতো। এখন করাত দিয়া কাটা হয়। আগে বনের ভেতর জঙ্গল আছিল, গাছে ভর্তি আছিল। যুদ্ধের (স্বাধীনতা যুদ্ধ) পরপরই বনের গাছ কাটা শুরু হয়। এরশাদ সরকারের আমলে গাছ কাটা হয় বেশি। সেই কাটা এখনও বন্ধ হয় নাই। যার ক্ষমতা বেশি সে তত বেশি গাছ কেটে দখল করে।'

বেরীবাইদ এলাকার মকবুল হোসেন বলেন, 'এরশাদ সরকারের আমলে একটা গাছ কেটে আটটি গাছ লাগানোর পরামর্শ দেয়া হয় বন এলাকায় যারা বসবাস করে তাদের। তখন গাছ কাটা হইছে ঠিকই কিন্তু নতুন গাছ লাগানো হয় নাই। সেই যে গাছ কাটা শুরু হইছে, এখনও চলছে। অনেকে সরকারি প্লট নিয়ে গাছ লাগানো বাদ দিয়ে ফসল আবাদ করছে।'

তিনি আরও বলেন, 'বনের অভিভাবক হলো সরকার। যদি অভিভাবক চায় তাহলে এখনও বন রক্ষা করা সম্ভব।' অভিযোগ রয়েছে, এসব দখল ও আবাদের সঙ্গে বনবিভাগের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত। তাদের মাধ্যমেই এসব করা হয়।

টাঙ্গাইল বিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের সুন্দরবন ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি বনাঞ্চলের পরের অবস্থান মধুপুরের গড়াঞ্চল। টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চল মিলে মধুুপুর গড়াঞ্চলের মোট আয়তন ৬০ হাজার একর। ১৯৮৮ সালে ৪৫ হাজার ৫০০ একর বনভূমি নিয়ে ময়মনসিংহ থেকে টাঙ্গাইলের বনভূমিকে আলাদা করা হয়।

১৯৯০ সালে বন বিভাগের এক হিসাব অনুযায়ী মধুপুর গড়ের টাঙ্গাইলের অংশে ২৮ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৪৭ একর বনভূমি দখল হয়ে গেছে। দখলের আওতায় আদিবাসী অধ্যুষিত ১৮টি গ্রামসহ মোট ৩৩টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার পরিবার রয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভূমির চাহিদা বাড়ে। তখন তারা (দখলকারীরা) তাদের বসতবাড়ি এবং কৃষিজমি অবৈধভাবে সমপ্রসারণ করতে থাকে। বিগত ৬০ বছর ধরে এ প্রক্রিয়া চলছে। বনের ভেতর বসবাসকারী গরিব মানুষ কিছু জায়গা দখল করলেও প্রভাবশালী একটি মহল শত শত একর বনভূমি দখল করে কৃষি আবাদ করছেন। এরসঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবও জড়িত।

এক আদিবাসী নেতা জানান, পচাচনা গ্রামে প্রায় এক হাজার ২০০ শতাংশ জমি ১৫ জন আদিবাসী কিনে আবাদ করছে। নয়ন গারো সেগুলো দেখাশোনা করেন। ৩০ বছর আগে সেসব এলাকায় বন ছিল। স্থানীয় বাঙালিরা আস্তে আস্তে দখল করে আবাদ শুরু করে। পরবর্তীতে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তারা মালিকানা হস্তান্তর করে আদিবাসীদের কাছে। এর বৈধ কোনো দলিল নেই। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে ব্যক্তি বা যৌথ উদ্যোগে আবাদ হচ্ছে। এ ব্যাপারে নয়ন গারোর সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, বন এলাকায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের চাহিদা অনুযায়ী জায়গা দখল করা হয়। গোপনে গোপনে এসব চলে। প্রভাবশালীরা নামে-বেনামে দখল করে অন্যদের দিয়ে চাষ-বাস করায়।

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ খান বলেন, মধুপুর বনাঞ্চলের জবরদখল প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনের। রাতারাতি সব দখলকারীকে উচ্ছেদ করে বনভূমি বন বিভাগের নিয়ন্ত্রণে আনা সহজসাধ্য নয়। দখলকারীদের বনাঞ্চলের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ক উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দখলকৃত বনভূমি বনবিভাগের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা হচ্ছে। গাছ চুরির সঙ্গে যারা জড়িত অথবা নানাভাবে বনের ক্ষতি সাধনে লিপ্ত থাকে তাদের চিহ্নিত করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। এজন্য খুব শীঘ্রই একটি প্রজেক্ট আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি এলে দখলকৃত বনভূমি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াও সহজ হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ১৬
ফজর৩:৫৫
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫১
এশা৮:১৪
সূর্যোদয় - ৫:২০সূর্যাস্ত - ০৬:৪৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৫০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.