নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ জুলাই ২০১৯, ২৮ আষাঢ় ১৪২৬, ৮ জিলকদ ১৪৪০
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজন সতর্কতা
আর কে চৌধুরী
রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটছে আশঙ্কাজনকহারে। বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে ডেঙ্গুর আগ্রাসন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেয়া তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৩ জন। ওই সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩৩৯ জন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১৮৭ আর বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ১৫২ জন।

জুলাইয়ের শুরু থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭৩। এ বছরের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩৪৩ জন। জানুয়ারিতে ৩৬, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১২, এপ্রিলে ৪৪, মে-তে ১৩৯, জুনে ১ হাজার ৭২১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন তিনজন, যার মধ্যে একজন চিকিৎসকও রয়েছেন। শুধু রাজধানী নয়, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছোবল হেনেছে ডেঙ্গু।

তীব্র দাবদাহের পর বর্ষার বৃষ্টি স্নাত সুশীতল পরশ মানুষকে স্বস্তি দিলেও শঙ্কিত করতেও এর কোনো জুড়ি নেই। বৃষ্টির অবিরাম ধারায় মানুষের জীবন মন যখন শান্ত, সি্নগ্ধ অনুভবে সিক্ত হয়, তখন অন্যরকম সমস্যাও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে সময় নেয় না। ঋতু পরিবর্তন মানেই হরেক রকম রোগবালাইয়ের উৎপাত-উপদ্রব। বিশেষ করে বর্ষার স্বচ্ছ, পরিষ্কার পানিতে মশার বংশ বিস্তার এই মৌসুমকে নানা সঙ্কটের আবর্তে ফেলে দেয়। এডিস মশার বংশবিস্তার বর্ষাকালের এক বিপজ্জনক অবস্থা, যা ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া এবং ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক সংক্রামক ব্যাধির দিকে ঠেলে দেয় মানুষকে।

বর্ষা ঋতু তার আগমনী বার্তা জানান দেয়ার আগ থেকেই এডিস মশা তার কামড়বাহিত রোগটি নিয়ে জনগণের দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেককে আক্রান্ত করে হাসপাতালে পাঠিয়েও দিচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়ার খবর এসেছে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে। গত কয়েক দিনে শতাধিক রোগী এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কয়েকজন রোগীর রক্ত পরীক্ষা করে সেরোটাইপ ৩-এর প্রভাব পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত ৭০৭ রোগী- নারী-পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যুহার কমে গেলেও কারও কারও মৃত্যুর খবরও আসছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে ডেঙ্গু জ্বর নতুন কিছু নয়। বৃষ্টি স্নাত সিক্ত আবহাওয়া এডিস মশার বংশবৃদ্ধির উপযুক্ত পরিবেশ। ভারি বর্ষণ কিংবা থেমে থেমে বৃষ্টি হওয়ার কারণে বাড়ির চারপাশ, নালা-নর্দমায় জমে থাকা বৃষ্টির পানিতে এডিস মশার প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে জনসচেতনতাকে সমধিক গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতর গণমানুষকে সতর্ক থাকার উপদেশ দিয়েছে। রোগটি যতই ভয়ঙ্কর এবং আক্রমণাত্মক হোক না কেন, ব্যক্তিক সতর্কতায় তাকে এড়ানো খুব বেশি কষ্টসাধ্য নয়। বর্ষাকালে কোনো পাত্রেই জমানো পানি রাখা যাবে না। তার ওপর বৃষ্টির পর বাড়ির আশপাশে পানি জমলে তাও পরিষ্কার করে ফেলা স্বাস্থ্যসম্মত এবং মশার জন্য দুঃসংবাদ। জমানো পরিষ্কার পানি ছাড়া এডিস মশা বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। এসব বিষয়ে বিশেষ নজর দিয়ে রোগের মূল উপড়ে ফেলতে হবে। মশার বংশ বাড়তে না দেয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনেরও বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। মশারি ছাড়া ঘুমানো যাবে না। তারপরেও যখন কেউ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবে অতি দ্রুত রোগশনাক্তকরণের উপযুক্ত ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। অত্যধিক তাপমাত্রা ও শরীর ব্যথা ডেঙ্গু জ্বরের অন্যতম প্রধান উপসর্গ। প্রচ- মাথাব্যথা, হাড় ও পেশিতে যন্ত্রণা, বমি ভাব, শরীরে বিভিন্ন গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, স্কিন র‌্যাশ, চোখের ভেতরে রক্ত জমা এসবই মূলত ডেঙ্গু জ্বরের উপসর্গ। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে। সঙ্কটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে জরুরি চিকিৎসাসেবা এবং তাৎক্ষণিক হাসপাতালে যাওয়া বিশেষ দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যাবশক, যাতে ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে না পারে। এছাড়া রোগের উপসর্গ দেখা দিলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেবাদান নিশ্চিত করতে হবে।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। শরীরে জ্বর অনুভূত হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। ডেঙ্গু রোগীকে প্যারাসিটামল ছাড়া কোনো ব্যথার ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের জন্য মশা নিধনের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হচ্ছে। দুই সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ডেঙ্গুর জন্য দায়ী এডিস মশা। বর্ষা মৌসুমে ছাদে বা ফুলের টবে পানি জমে থাকলে তা এডিস মশার প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এডিস মশা দিনের বেলায় কামড়ায়। ফলে দিনের বেলায় যাদের ঘুমানোর অভ্যাস তাদের জন্য এডিস মশার শিকার হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। চলতি বছর ডেঙ্গুর আগ্রাসন বাড়তে পারে বলে ব্যাপকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ বর্ষা মৌসুমের শুরুতে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা অন্য বছরগুলোর চেয়ে বেশি। জুনে রাজধানীতে ২০১৬ সালে ২৫৪, ২০১৭ সালে ২৬৭, ২০১৮ সালে ২৯৫ জন আক্রান্তের ঘটনা ঘটলেও এ বছর আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭২১ জন। গত বছরের চেয়ে এ সংখ্যা প্রায় ৬ গুণ বেশি। শুধু রাজধানী নয়, বাইরেও ডেঙ্গুর থাবা বিস্তৃত হওয়ায় বাড়তি উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করব, ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রোধে মশা নিধনের বাড়তি ব্যবস্থা নেয়া হবে। গড়ে তোলা হবে নাগরিক সচেতনতা।

আর কে চৌধুরী : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীজুলাই - ১৯
ফজর৩:৫৭
যোহর১২:০৫
আসর৪:৪৪
মাগরিব৬:৫০
এশা৮:১২
সূর্যোদয় - ৫:২২সূর্যাস্ত - ০৬:৪৫
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬১৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.