নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ১২ জুলাই ২০১৯, ২৮ আষাঢ় ১৪২৬, ৮ জিলকদ ১৪৪০
কিভাবে টাকা ফেরত পাবেন জানেন না আমানতকারীরা চাকরি হারিয়ে হতাশায় পিপলস'র ২৫০ কর্মী
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
আমানতকারীসহ পিপলস লিজিং-এর কর্মীরা অনেকটা হতাশায় জীবনযাপন করছেন। এই বয়সে কোথায় চাকরি খুঁজবেন বা কিভাবে জীবনযাপন করবেন এ নিয়েই চিন্তিত তারা। এছাড়া আমানতকারীদের টাকা কিভাবে ফেরত দেয়া হবে এ বিষয়ে কোন উত্তর দিতে পারেননি পিপলস লিজিং-এর এমডি নিজেও। গতকাল বৃহস্পতিবার পিপলস লিজিং এর প্রধান কার্যালয়ে আমানতকারীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু কেউই টাকা পাননি। কিভাবে টাকা পাবেন সে বিষয়েও কোনো উত্তর পাননি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। শুধুমাত্র একটি টোকেন হাতে নিয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে সকল আমানতকারীকে।

পিপলস লিজিং এর সিনিয়র এঙ্িিকউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী আহমেদ জামান বলেন, দুইদিন থেকে আমাদের অফিসে অনেক আমানতকারী এসেছেন। আবার ফিরেও গেছেন। তাদের কিভাবে সান্তনা দেব, আমাদের অফিসেই মোট কর্মীর সংখ্যা ২৫০ জন। আমানতকারীদের পাশাপাশি আমরাও এখন হতাশায় রয়েছি। বলতে পারেন এক ধরনের অসুস্থ জীবনযাপন করছি। এই বয়সে চাকরি কোথায় পাব। আবার আমাদের জমানো টাকাগুলো ফিরে পাব কিনা সেটাও জানি না।

আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া সম্বন্ধে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামি হুদা জানান, বিষয়টা এখন সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন আমরাও জানি না ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে। বলতে পারেন আমার নিজেরই এখন চাকরি নেই।

কথা হয় মিরপুর ১২ থেকে আসা সালমা আক্তারের সাথে। তিনি বলেন, আমার জীবনের শেষ সম্বল ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা পিপলস লিজিং-এ রেখেছিলাম। এই প্রতিষ্ঠানের টাকা রেখে এত বড় বিপদে পড়বো আমি চিন্তাও করতে পারিনি। এখন কোথায় গেলে টাকাটা ফিরে পাব, কিভাবে পাব এবং কত দিনে পাব এ নিয়ে সন্দেহের মধ্যে রয়েছি। দুই বছর আগে চাকরি হারিয়ে এই টাকাটা এখন আমার একমাত্র সম্বল। টাকা ফেরত পেতে সাংবাদিকদের কাছে সহযোগিতা চান সালমা আক্তার। উল্লেখ্য, নানা অনিয়ম, দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় চরম সংকটে থাকা পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএসএল) অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে আমানত ফিরে না পাওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন আমানতকারীরা। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, টাকা পেতে আমানতকারীদের কোনো সমস্যা হবে না। কারণ পিপলস লিজিংয়ের আমানতের চেয়ে সম্পদের পরিমাণ বেশি। পিপলস লিজিংয়ের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ২০১৪ সালে তদন্ত করে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য জানা যায়। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ডের অনেকেই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক চিঠি দিয়ে পরিচালনা বোর্ড ভেঙে নতুন বোর্ড গঠন করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়। এরপর অনেক চেষ্টার পরও প্রতিষ্ঠানটি উন্নতি করতে পারেনি। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়। গত ২৬ জুন মন্ত্রণালয় অনুমতি দেয়। এখন প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের জন্য আদালতে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

অবসায়ন হলেও আমানতকারীদের আতঙ্কের কিছু নেই উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, আমাদের কাছে যে হিসাব রয়েছে তাতে প্রতিষ্ঠানটির আমানতের তুলনায় সম্পদের পরিমাণ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমানে আমানত রয়েছে দুই হাজার ৩৬ কোটি টাকা। বিপরীতে সম্পদ রয়েছে তিন হাজার ২৩৯ কোটি টাকা।

প্রসঙ্গত, পিপল্স লিজিংয়ের আমানতকারীর সংখ্যা ছয় হাজার। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তথ্য অনুযায়ী, পিপলস লিজিংয়ে আমানত রয়েছে দুই হাজার ৮৬ কোটি টাকা। তবে দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার মতো নগদ অর্থ সংকটে রয়েছে। ফলে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। ১৯৯৭ সালে কার্যক্রম শুরু করা এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় মতিঝিলে। এছাড়া গুলশান ও চট্টগ্রামে দুটি শাখা রয়েছে। পিপলস লিজিংয়ে এক হাজার ১৩১ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে খেলাপি ৭৪৮ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ধারাবাহিক লোকসানের কারণে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ২০১৪ সালের পর থেকে কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি। তাদের মোট শেয়ারের ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশই রয়েছে সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের হাতে। বাকি শেয়ারের মধ্যে স্পন্সর ও পরিচালকদের হাতে রয়েছে ২৩ দশমিক ২১ শতাংশ। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ১৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাতে।

সূত্র জানায়, পিপলস লিজিংয়ে ঋণ বিতরণে অব্যবস্থাপনা, সম্পত্তির ঝুঁকি ও তারল্য সংকটে দুরবস্থায় রয়েছে। তারা আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে পরছে না। সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সমপ্রতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের কাছে চিঠি দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। চিঠিতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনের ২২ (৩) এবং ২৯ ধারায় প্রতিষ্ঠানটি অবসায়নের উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। সম্মতি দিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় গত ২৬ জুন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে চিঠি দেয়। চিঠি পাওয়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু করে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিতে আটকে থাকা আমানতের পরিমাণ, অনিয়মের ধরন, প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ও মাসিক বেতন-ভাতার পরিমাণ উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ২৫
ফজর৪:১৯
যোহর১২:০১
আসর৪:৩৪
মাগরিব৬:২৭
এশা৭:৪২
সূর্যোদয় - ৫:৩৮সূর্যাস্ত - ০৬:২২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩৩৯৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.