নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৬ জিলহজ ১৪৪২
জনতার মত
করোনাকালীন সময়ে বাড়ছে মশার উপদ্রব
প্রসেনজিৎ কুমার রোহিত
সারাবিশ্ব আজ কোভিড-১৯ এর মতো অদৃশ্য মহামারী ভাইরাসের সংক্রমণে জর্জরিত। প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে তেমন কোনো প্রতিষেধক এখনো পর্যন্ত কোনো দেশ আবিষ্কার করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, একমাত্র সচেতনতাই পারে এই ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করতে।

আমাদের দেশেও গত বছরের ৮ মার্চ করোনাভাইরাস শনাক্ত হবার পর থেকে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে ভাইরাসের সংক্রমণ। প্রতিনিয়তই যেন রেকর্ড ভাঙছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। কোনোভাবেই যেন ভাইরাসের সংক্রমণ কমছে না। এখন সব থেকে বড় চিন্তার বিষয় হলো ভারতীয় ডেল্টা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট অন্য ভাইরাসের থেকে অধিক বেশি পরিমাণে ছোঁয়াচে, সংক্রমণের সাত দিনের মধ্যেই পর্যাপ্ত পরিমাণের অক্সিজেনের অভাব দেখা যায়, ধীরে ধীরে রোগী মৃত্যুর দিকে হেলে পড়ে। করোনাভাইরাস এখন শহর থেকে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে, বিশেষ করে ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বেশি ছড়িয়ে পড়ছে। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে যেন প্রতিদিন সংক্রমণের রেকর্ড ভাঙছে। প্রতিদিন সংক্রমণ বাড়ায় চাপ বাড়ছে হাসপাতালগুলোতে। পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও চিকিৎসার অভাবে বেড়ে চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা।

একদিকে যেমন মহামারী করোনা পরিস্থিতিতে সারাদেশ অতল গহ্বরে নিমজ্জিত, এর মধ্যেই আবারো দেশে বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। যেখানে করোনা রোগীদের সামাল দিতে হাসপাতালে ডাক্তার-নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে, এর মধ্যে এখন আবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের ভিড়। এ যেন মরার উপর খাঁড়ার ঘা। সারাদেশেই এখন ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, তবে সব থেকে ঢাকা নগরীতে বেশি ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। গতবছরের তুলনায় চলতি বছরে বেশি পরিমাণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। যেখানে ২০২০ সালে সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জন। সেখানে চলতি বছরের অর্ধেক সময়ে প্রায় গতবছরের সমান আক্রান্ত হয়েছে। এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ১৩৯ রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে শুধু জুলাই মাসে মাসে আক্রান্ত হয়েছে ৭৬৭ জন। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের জন্য চ্যালেঞ্জের বিষয় হচ্ছে মশা নিধন। মশার উৎপাতে নগরবাসী অতিষ্ঠ। মশা নিধনে বিপুল কর্মযজ্ঞের হাঁকডাক দেয়া হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বস্তুত মশা নিধন কার্যক্রম যথাযথভাবে কতটা এ পর্যন্ত কার্যকর করা গেছে, এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা অধিদফতরের মতে, মশার কামড়ে বিভিন্ন রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ার পরও সংশি্নষ্ট দায়িত্বশীলদের এ ব্যাপারে উচ্চারণ সর্বস্ব অঙ্গীকার-প্রতিশ্রুতি কার্যত মানুষের জন্য কোনো স্বস্তিই নিশ্চিত করতে পারছে না। যেখানে সারাদেশের সকল মানুষ করোনা ভাইরাসের ভয়ে কোণঠাসা হয়ে আছে

এই পরিস্থিতিতে হামলা শুরু করেছে ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়ার মতো মৌসুমী মশাবাহিত রোগ, ঠিক সময়ে যার চিকিৎসা না হলে একই রকম প্রাণঘাতী হতে পারে। মানুষ স্বাভাবিক কারণেই বিভ্রান্ত এবং আতঙ্কিত।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সঠিক নির্দেশনা প্রয়োজন। যেমন- সংশি্নষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ড্রেন পরিষ্কার রাখা, বাড়ির আঙিনায় ফুলের টবে পানি জমতে না দেয়া, ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা, রাস্তার আশপাশ ও খানাখন্দ পরিষ্কার বা ভরাট করা, জনকল্যাণমূলক সচেতনতা বৃদ্ধি করা ইত্যাদি। ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক বিভিন্ন ওয়ার্কশপ, সেমিনারের মাধ্যমে সচেতনতামূলক আলোচনা করা জরুরি। ঢাকায় কিউলেক্স ও এডিস মশার প্রজনন অত্যন্ত বেশি। ফ্রিজ বা এসির পানি জমতে না দেয়া, ড্রেন ও নর্দমার পানি যাতে না জমে- এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং লার্ভা ধ্বংস করার কীটনাশক স্প্রে করা খুবই জরুরি বলে মনে করি। অন্যথায় ডেঙ্গু এ বছর মারাত্মক আকার ধারণ করে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

শুধু সরকার এডিস মশা প্রতিরোধে দায়িত্ব নেবে, তা ঠিক নয়। নাগরিক হিসেবেও আমরা আমাদের দায়িত্ব উপেক্ষা করতে পারি না। কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে না থেকে পাড়া-মহল্লায়, গ্রাম-গঞ্জে এবং শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে জনসচেতনতার মাধ্যমে ডেঙ্গু-দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব। মশা নিধনের জন্য দুই সিটি কর্পোরেশন যতই উদ্যোগ গ্রহণ করুক না কেন, যদি আমরা নিজেরা না সচেতন হতে পারি, তাহলে কখনোই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। সামনে বর্ষার মৌসুম। বিভিন্ন জায়গায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে এবং মশার বংশ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যেতে পারে। তাই সবাইকে সচেতন হতে হবে- মশা যাতে কোথাও লার্ভা সৃষ্টি করতে না পারে। সেজন্য কোথাও পানি জমে থাকতে দেয়া যাবে না। যদি কোথাও দেখা যায় মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে, তাহলে তাৎক্ষণিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে এবং তাদেরও জন ডাকে সাড়া দিতে হবে। যার যার অবস্থান থেকে যদি সবাই সচেতন হতে পারি, তাহলেই মশা নিধনের জন্য স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া যাবে বলে আশা করি।

প্রসেনজিৎ কুমার রোহিত : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৯৭৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.