নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৬ জিলহজ ১৪৪২
কক্সবাজারে জোয়ারে বিলীন হচ্ছে বালিয়াড়ি ঝাউবাগান
কক্সবাজার প্রতিনিধি
লঘুচাপ ও পূর্ণিমার প্রভাবে জোয়ারে অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে সৈকতের বালিয়াড়ি ও ঝাউবাগান। গেল তিনদিনে কক্সবাজারের কস্তুরাঘাট, কলাতলি ও হিমছড়ি বনবিটের আওতায় সৈকতের ডায়াবেটিক, শৈবাল, হিমছড়ি, দরিয়ানগর ও সমিতিপাড়া পয়েন্টে প্রায় আট হেক্টর ছোট ও ৮৪টি বড় ঝাউগাছ উপড়ে গেছে।

ভাঙন অব্যাহত থাকলে ঝাউবাগান একেবারে নিশ্চিহ্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। ঝাউগাছের সামনের অংশে নারকেল গাছ লাগিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভব বলে বলে মনে করছেন তারা। তবে ঝাউগাছ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ করছে বলে জানায় জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা। গত রোববার সৈকতের ডায়াবেটিক, শৈবাল, হিমছড়ি, দরিয়ানগর ও সমিতি পাড়া পয়েন্ট এলাকায় গিয়ে বালিয়াড়ির ভাঙন ও ঝাউগাছ বিলীনের দৃশ্য দেখা যায়। পৃথক পয়েন্টে কয়েক কিলোমিটারের মতো এলাকায় ঝাউগাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপড়ে যাওয়া গাছগুলো সংরক্ষণে কাজ করছে কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জের দায়িত্বরতরা। এমনটি জানিয়েছেন দক্ষিণ বনবিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা। তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগরে চলমান লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারে কক্সবাজারের কস্তুরাঘাট, কলাতলি ও হিমছড়ি বনবিটের আওতায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে লাগানো প্রায় তিন হেক্টর ও ২০১৯-২০ অর্থবছরে লাগানো প্রায় পাঁচ হেক্টর বাগানের ছোট গাছ ও ৮৪টি বড় ঝাউগাছ উপড়ে গেছে। গেল বছর সমিতিপাড়া ও ডায়াবেটিক পয়েন্টের মাঝখানে নতুন করে ঝাউবাগান সৃষ্টি করা হয়েছিল। লকডাউনের কারণে গাছগুলো দ্রুত বেড়েও ওঠে। কিন্তু জোয়ারে সব উপড়ে গেছে। একইভাবে মেরিনড্রাইভ সড়কের দরিয়ানগর, হিমছড়ি অংশে সৃজিত ঝাউবাগানের চারা গাছও সমুদ্রে ভেসে গেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, 'জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়। বাড়ন্ত জোয়ারের ঢেউ বালিয়াড়ি ভাঙনের পাশাপাশি উপড়ে যাচ্ছে ঝাউগাছও। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে সৈকত বা ঝাউবাগান রক্ষায় আমরা কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না। তিনি আরো বলেন, এরই মধ্যে জিও ব্যাগের বাঁধে ভাঙন রোধের চেষ্টা চললেও তা কোনো কাজে আসছে না। পৃথিবীর কোনো দেশে বাঁধ দিয়ে সমুদ্র রক্ষা করার নজির নেই। শ্রীলঙ্কা, কলম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সৈকত এলাকায় নারকেল গাছ লাগিয়ে ঢেউয়ের ধাক্কা সামাল দেয়া হয়েছে। নারকেল গাছের শেকড় গভীরে গিয়ে মাটি ধরে রাখে। ঝাউগাছ সৌন্দর্য বর্ধন করলেও শেকড় খুবই হালকা। তাই ঝাউগাছের সামনের অংশে নারকেল গাছ লাগানোর প্রস্তাবনা আমরা বারবার দিয়ে এসেছি। যদি এটি করা যায় তবে একদিকে যেমন সৈকত রক্ষা পাবে তেমনি অন্যদিকে রাজস্বও আয়ের সম্ভাবনাও রয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আমিন আল পারভেজ বলেন, সৈকতের ঝাউবাগান রক্ষা এবং সেখানে আরো বনায়ন সৃজনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এখন ঝাউগাছ রক্ষায় পাউবোর জিও টিউব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী বলেন, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বর্ষাকালে ভাঙনের কবলে পড়া বালিয়াড়ি ও ঝাউগাছ রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৮৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ হাজার মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ (জিও টিউব) করা হয়। সেটিও বেশিদিন টেকেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে লাবনি পয়েন্ট থেকে ডায়াবেটিক পয়েন্ট পর্যন্ত দুই কিলোমিটারে ৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে জিও ব্যাগের বাঁধ বসানো হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, পূর্ণিমা ও আমাবস্যার জোয়ারে অতিমাত্রায় বাড়ন্ত পানির তোড়ে জিও ব্যাগের বাঁধও ধীরে ধীরে তলিয়ে যায়। তিনি আরো বলেন, সামপ্রতিক লঘুচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারে বিমান বাহিনীর ঘাঁটির পশ্চিমাংশের সৈকত অংশ ও ডায়াবেটিক পয়েন্টে নতুন করে প্রায় ২০০ মিটার ভাঙনের কবলে পড়েছে। এ ভাঙন অংশে দ্রুত জিও ব্যাগ বসাতে এরই মধ্যে ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭০২৫.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.