নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৬ জিলহজ ১৪৪২
ফুলপুরে যৌতুকের শিকার গৃহবধূ মীম দুধের জন্য কাঁদছে মা-হারা শিশু
ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ফুলপুরে যৌতুকের শিকার হয়ে জীবন দিয়েছেন এক সন্তানের জননী নুসরাত জাহান মীম (২০) নামের এক গৃহবধূ। মায়ের বুকের দুধের জন্য কাঁদছে নিহত মীমের ৬ মাসের শিশুকন্যা সিয়া। যৌতুকের জন্য মাদকসেবী স্বামী ইকবাল হোসেন সবুজের নির্যাতনে মারাত্মক আহত হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় তার মৃত্যু হয়। মীম ফুলপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজ রোড সংলগ্ন পৌরসভার গোদারিয়া গ্রামের মৃত বাবুল ড্রাইভারের মেয়ে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ৪ বছর আগে আমুয়াকান্দা এলাকার মৃত আদম আলীর ছেলে ইকবাল হোসেন সবুজের সাথে প্রেমের সমপর্ক হয় নুশরাত জাহান মীমের। পরে ২০১৮ সালে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সবুজ ব্যবসার কথা বলে প্রথমে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক নেয়। এরপর আবারও ১০ হাজার টাকা যৌতুকের জন্য মীমকে চাপ দেয়। সিয়া নামে ছয় মাসের এক কন্যা সন্তান রয়েছে মীমের। প্রায় এক বছর যাবৎ যৌতুকসহ বিভিন্ন জিনিসের বায়না করে মারপিট করা হতো মীমকে। কিন্তু প্রেমের বিয়ে বলে মাকেও কিছু না জানিয়ে সব নীরবে সহ্য করতেন মীম। অবশেষে সপ্তাহখানেক আগে পাষ- স্বামী সবুজ যৌতুকের জন্যে মীমকে পিঠা বানানোর বেলুন দিয়ে বেদম মারপিট করে। এক পর্যায়ে বাচ্চার ন্যাকড়া গলায় পেঁচিয়ে তাকে টানাহেঁচড়া করে ও দেয়ালের সঙ্গে লাগিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে মারাত্মক আহত অবস্থায় মীমকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শনিবার রাত সাড়ে ৯টায় মীম মারা যায়। কোতোয়ালী থানা পুলিশ মীমের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্ত শেষ করার পর পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন। পরে রবিবার রাতেই পৌরসভার গোদারিয়া এলাকায় বাবার বাড়িতে মীমের লাশ দাফন করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের মা সুরাইয়া আক্তার বাদী হয়ে রোববার রাতে ফুলপুর থানায় ইকবাল হোসেন সবুজ ও তার মাসহ ৩ জনকে নামে ও অজ্ঞাত আরো ৩ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে পালিয়েছে মীমের স্বামীসহ পরিবারের লোকজন। পুলিশ আসামিদের ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মীমের মা সুরাইয়া বেগমের কান্না ও আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে উঠে। কান্নারত অবস্থায় তিনি বলেন, কয়েক দফা মেয়ের সুখের জন্য কয়েক লাখ টাকার মালামাল ও নগদ অর্থ দেয়া হয় যৌতুক লোভী পরিবারকে। এরপরও মেয়ের ওপর সবসময় শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যাচার আর নির্যাতন চালানো হতো। ভয় ও মানসম্মানের জন্য মেয়ে মীম তা প্রকাশ করতেন না। আমার এতিম মেয়ে। স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে ও মেয়েকে নিয়েই বেঁচে আছি। বুকের ধন ক্যাইড়া নিলো ওরা। আমি শুধু আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। আমি আর কিছুই চাই না। ফুলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৯
ফজর৪:৪৬
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৫
মাগরিব৫:২৫
এশা৬:৩৯
সূর্যোদয় - ৬:০৩সূর্যাস্ত - ০৫:২০
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৯২৬.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.