নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৬ জিলহজ ১৪৪২
করোনায় একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু-আক্রান্তের রেকর্ড
বিশেষ প্রতিনিধি
ঈদের আগে লকডাউনের বিরতি দেয়ায় ঝুঁকির কথা বলেছিলেন বিশেষজ্ঞরা, তা ভয়ঙ্করভাবে সত্যি করে একই দিনে পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে দিল শনাক্ত কোভিড রোগী আর মৃত্যুর সংখ্যা। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গতকাল সোমবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে রেকর্ড ৫১ হাজার নমুন পরীক্ষা করে ১৫ হাজার ১৯২ জনের মধ্যে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে আরো ২৪৭ জনের প্রাণ গেছে এ ভাইরাসের কারণে। গতবছর মার্চে দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর একদিনে এরচেয়ে বেশি রোগী আর কখনো শনাক্ত হয়নি, এত মৃত্যুও আর কখনো দেখতে হয়নি বাংলাদেশের মানুষকে। নতুন আক্রান্তদের নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জনে। আর আক্রান্তদের মধ্যে মোট ১৯ হাজার ৫২১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কেরোনাভাইরাসের দাপটে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা গত ২৭ জুন থেকেই একশর উপরে থাকছিল প্রতিদিন। ৭ জুলাই তা প্রথমবারের মতো ২০০ ছাড়িয়ে যায়। সর্বশেষ ১৯ জুলাই ২৩১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদফতর, এতদিন সেটাই ছিল রেকর্ড। শনাক্ত ও মৃত্যু হু হু করে বাড়তে থাকায় গত ১ জুলাই থেকে সারাদেশে লকডাউনের কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। তবে তাতে সংক্রমণের বিস্তারে তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। বিধিনিষেধের মধ্যেই ৬ জুলাই প্রথমবারের মত দৈনিক শনাক্ত রোগী ১০ হাজার ছাড়ায়। তারপর ১২ জুলাই ১৩ হাজার ৭৬৮ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর দেয় স্বাস্থ্য অধিদফতর। এটাই ছিল এতদিন সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড।

এমন পরিস্থিতিতেই কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ১৫ জুলাই থেকে লকডাউন শিথিল করে বলা হয়, ঈদের ছুটির পর আবার কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হবে। অফিস-আদালত, হাট-বাজার, যানবাহন- সবই চলেছে এই নয় দিনে, গাদগাদি করে মানুষ গ্রামে গেছে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ করতে। কোভিড-১৯ সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ তখন বলেছিলেন, দেশে যখন করোনাভাইরাসের রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, তখন সব বিধিনিষেধ তুলে নেয়ায় সংক্রমণের বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হলো। ঈদের ছুটির মধ্যে দৈনিক নমুনা পরীক্ষা কমে যাওয়ায় প্রতিদিন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও কমে গিয়েছিল। নমুনা পরীক্ষা বাড়ায় গত রোববার শনাক্ত কোভিড রোগীর সংখ্যা ফের ১১ হাজার ছাড়িয়ে যায়, সেই সঙ্গে মৃত্যু হয় সোয়া দুইশ মানুষের।

গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, করোনা শনাক্তের বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। গত ২৪ জুলাই থেকে মৃত্যুর হার একই রয়েছে। এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ১৩ হাজার ৩৪০ জন, ৬৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ এবং নারী ৬ হাজার ১৮১ জন, ৩১ দশমিক ৬৬ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের বয়স বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১১ থেকে ২০ বছর বয়সী ২ জন, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৩ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১৬ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ৩০ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৫৯ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী ৭৩ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী ৪৫ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছর বয়সী ১৭ জন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছর বয়সী ২ জন। মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৭২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৬১ জন, রাজশাহী বিভাগে ২১ জন, খুলনা বিভাগে ৪৬ জন বরিশাল বিভাগে ১২ জন সিলেট বিভাগে ১৪ জন, রংপুর বিভাগে ১৬ জন এবং ময়মনসিংহ ৫ জন রয়েছেন। এদের মধ্যে ১৬৫ জন সরকারি, ৫৫ জন বেসরকারি হাসপাতালে, ২৬ জন বাসায় মারা গেছেন এবং ১ জনকে মৃতাবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৫০ হাজার ৯৫২ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১৫ হাজার ১৯২ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। গত রোববার ৩৭ হাজার ৫৮৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১ হাজার ২৯১ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। গত রোববারের চেয়ে গতকাল সোমবার ৩ হাজার ৯০৪ জন বেশি শনাক্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৮২ শতাংশ। আগের দিন এই হার ছিল ৩০ দশমিক ০৪ শতাংশ। গত রোববারের চেয়ে গতকাল সোমবার শনাক্তের হার দশমিক ২২ শতাংশ কম। এদিকে ঢাকা জেলায় (মহানগরসহ) ২৪ ঘণ্টায় ২১ হাজার ৬০৬ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ৬ হাজার ৪০ জন। ঢাকায় শনাক্তের হার ২৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ। গত রোববার এই জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ৪০৪ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্ত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৫৫ জন। যা ৩০ দশমিক ২৯ শতাংশ। এই জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন ৩৬ জন। গত রোববার মারা গিয়েছিল ৪১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতর জানায়, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৭৫ লাখ ৬ হাজার ২৩৩ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১১ লাখ ৭৯ হাজার ৮২৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ।

অন্যদিকে দেশে সুস্থ মানুষের সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল এবং বাসায় মিলিয়ে সুস্থ হয়েছেন ১১ হাজার ৫২ জন। দেশে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১০ লাখ ৯ হাজার ৯৭৫ জন। গতকালের শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত রোববার এই হার ছিল ৮৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। গত রোববারের চেয়ে গতকালের সুস্থতার হার দশমিক ১৭ শতাংশ কম।

করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ৫৩ হাজার ৩১৬ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫০ হাজার ৯৫২ জনের।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৬৯৯৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.