নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৬ জিলহজ ১৪৪২
কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থদিন : রাজধানীতে গ্রেফতার ৫৬৬ জন
প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছে মানুষ
স্টাফ রিপোর্টার
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে শুরু হওয়া কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থ দিন অন্যান্য দিনের তুলনায় রাজধানীতে সাধারণ মানুষের ভিড় বেড়েছে। এদিন প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে কিংবা কেউ বের হয়েছেন পেটের দায়ে আবার কেউ বের হয়েছেন ঔষধ কিনতে কিংবা হাট-বাজার করে সংসারের চাহিদা মেটাতে। এছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনের অজুহাতসহ বিভিন্ন কারণে রাস্তায় বের হচ্ছেন মানুষ। এছাড়া রাস্তায় বেড়েছে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল। এদের মধ্যে কেউ বেরিয়েছেন ওষুধ কিনতে। আবার কেউ বের হয়েছেন প্রয়োজনীয় বাজার ও ব্যাংকে টাকা তুলতে। এদিকে অকারণে রাস্তায় বের হওয়ায় অনেকেই গুণতে হয়েছে জরিমানা। এদিন কঠোর বিধিনিষেধ অমান্য করার অপরাধে রাজধানীতে ৫৬৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর মিরপুর ১৪, ১২, ১১, ১০ ও ২ নম্বর এলাকার পাড়া-মহল্লা ও বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

তবে রাস্তায় বের হওয়া মানুষজন অনেকেই বলছেন, পেট তো আর লকডাউন মানে না। তাই পেটের দায়ে রাস্তায় বের হতেই হয়। কাজ না করলে সংসার চলবে কী করে। বাসা ভাড়া দেব কীভাবে। কেউ তো কোনো সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসছে না। কারো সহযোগিতাও পাচ্ছেন না তারা।

গতকাল সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর মিরপুর এলাকার মোড়ে মোড়ে বসেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চেকপোস্ট। এসব চেকপোস্টে যানবাহনগুলোকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে। সুনির্দিষ্ট কারণ ও প্রমাণ দিতে পারলেই ছেড়ে দেয়া হচ্ছে এসব যান। মো. মেহেদী কালাম মিরপুর ১৪ নম্বর থেকে যাচ্ছিলেন হাসপাতালে। ১০ নম্বর গোলচত্বরে চেকপোস্টে ট্রাফিক সার্জেন্ট তার গতিরোধ করেন। তার কাছ জানতে চাওয়া হয় কেন ঘর থেকে বের হয়েছেন। তিনি বলেন, মিরপুর ১৪ নম্বরে বোনের জন্য ওষুধ কিনতে গিয়ে ছিলাম। আমার বোন অসুস্থ মিরপুর ১০ নম্বরের একটি হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাড়াহুড়ো করে ওষুধ কিনতে বের হয়েছি হেলমেট পড়তে মনে ছিল না। এ কারণে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আমার গতিরোধ করে প্রথমবারের মতো সতর্ক করে ছেড়ে দিয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় রিকশায় ঘুরছিলেন মো. মাহবুব। চেকপোস্টে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় কেন তিনি রাস্তায় বের হয়েছেন। এ সময় তিনি বলেন, আমি একজন টাইপিস্ট। টাইপের বিষয়গুলো বুঝতে আমার স্যারের বাসায় যাচ্ছি। এ সময় ১০ নম্বর গোল চত্বরে দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশ আমার গতিরোধ করে জানতে চায় কোথায় যাচ্ছি। কি কারণে রাস্তায় থেকে বের হয়েছি। সব কিছু শুনে প্রথমবারের মতো সতর্ক করে আমাকে ছেড়ে দিয়েছে। রাজধানীর কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল জলিল বলেন, বিধিনিষেধে নিত্যপ্রয়োজনে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বাইরে আসছেন। তিনি বলেন, সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একটি মামলা দেয়া হয়েছে। এছাড়া অকারণে রাস্তায় বের হওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে দুই হাজার টাকা ও ডাম্পিং করা হয়েছে চারটি অটোরিকশা। তিনি বলেন, বিধিনিষেধ চলাকালে পাড়া-মহল্লার অলিগলির সামনে সাধারণ মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। টহলে থাকা পুলিশের গাড়ি দেখলে তারা বাসার ভেতরে ঢুকে যায়। পুলিশের গাড়ি চলে যাওয়ার পরে আবার তারা বাইরে এসে দাঁড়িয়ে আড্ডা দিতে শুরু করেন। এভাবে কতক্ষণ পুলিশ নজরদারি করতে পারে। যদি মানুষ নিজে থেকে সচেতন না হয়।

আমি যে রিকশা চালাই, বাড়ির কেউ জানে না : দয়া করে ছবি তুলবেন না ভাই। আমি যে রিকশা চালাই, বাড়ির কেউ জানে না। পত্রিকায় ছবি ছাপলে বাড়ির লোকজন এবং আত্মীয়রা আমাকে চিনতে পারবে। এত পরিশ্রমের কাজ করি জানলে সবাই কষ্ট পাবে। সবাই জানে আমি জুতার কারখানায় কাজ করি। তা ছাড়া আমি কয়েক মাস রিকশা চালিয়ে আর চালাব না। অন্য কাজ করব। করোনাভাইরাসের মহামারীতে কাজ হারিয়ে এখন রিকশা চালাচ্ছেন শ্রমজীবী সুমন (ছদ্মনাম)। কঠোর এই বিধিনিষেধের মধ্যে জীবন জীবিকা কীভাবে চলছে, তা নিয়ে কথা বলার ফাঁকে ছবি তুলতে চাইলে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাজধানীর রায়েরবাজার এলাকায় কথা হয় সুমনের সাথে। ভোলার তজুমদ্দিনে বাড়ি। মা আর ছোট ভাই গ্রামের বাড়িতেই থাকে। আট বছর আগে বাবা মারা যাওয়ার পর পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায় অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া সুমনের। গ্রামের বাজারে দরজির কাজ করে সংসারের হাল ধরেন। পরে মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে ঢাকায় এসে জুতার কারখানায় কাজ নেন। জুতা বানানোর কাজ শিখেছেন। কিন্তু করোনা মহামারীর শুরুতে কারখানাটি বন্ধ হয়ে গেলে বিপদে পড়েন। শেষে এক পরিচিতের মাধ্যমে রিকশা চালানো শুরু করেন। সুমন বলেন, আগে একটি ছোট বাসা নিয়ে মেস বানিয়ে কয়েকজন মিলে থাকলেও এখন রিকশার গ্যারেজেই থাকেন। রিকশা চালাতে অনেক কষ্ট হয়। সাধারণত বিধিনিষেধের মধ্যে অল্প দূরত্বে ভাড়া পাওয়া যায় না। লম্বা দূরত্বে যেতে হয় বিধায় অনেক কষ্ট হয়। আর তিন-চার মাস রিকশা চালাব। তিনি জানান, সারা দিন রিকশা চালালে ১ হাজার ২০০ টাকার মতো আয় হয়। প্রতিদিন ১০০ টাকা মালিকের জমা এবং খাওয়ায় ২০০ টাকা লাগে। তবে আগে তিন বেলা খাওয়ার জন্য টাকা কম খরচ হতো বলে জানান তিনি।

অকারণে বের হলে গুনতে হচ্ছে জরিমানা : করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থ দিনে গতকাল সোমবার রাজধানীতে কড়াকড়ি অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে এদিন অন্যান্য দিনের তুলনায় সাধারণ মানুষের ভিড় কিছুটা বেড়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা। রাজধানীর বনানী, মহাখালী, তেজগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, বাংলামোটর ও মগবাজার এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তেজগাঁও সাতরাস্তার কাছে বিজিপ্রেসের সামনের চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনরত তেজগাঁও ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট মো. উজ্জ্বল হোসেন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, সকাল নয়টার পর থেকে মানুষের চলাচল বেড়েছে। যারা বের হচ্ছেন, অধিকাংশই রোগী বা রোগীর স্বজন পরিচয় দিচ্ছেন। কেউ কেউ কোভিড-১৯-এর টিকা বা পরীক্ষার জন্য বের হয়েছেন বলেও জানাচ্ছেন। বিদেশগামী লোকের সংখ্যাও অন্যদিনের তুলনায় বেশি পাওয়া গেছে। ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানসহ অনেক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকার কারণে যৌক্তিক কারণেই অনেকে বের হচ্ছেন। তবে অনেকেই যৌক্তিক কারণ ছাড়াই রাস্তায় বের হচ্ছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এই চেকপোস্টে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৮ জনকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে পাওয়া গেছে, যিনি মোটরসাইকেলে যাত্রী পরিবহণ করছিলেন। তিনি জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতে বলেন, পেছনে বসা যাত্রী তার ভাই। জরুরি প্রয়োজনে অফিসে পৌঁছে দিতে যাচ্ছেন। পরে দেখা গেল তারা দু'জনেই মিথ্যা পরিচয় দিয়েছেন। মিথ্যা তথ্য দেয়ার অভিযোগে তাদের এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সার্জেন্ট উজ্জ্বল বলেন, এমন অনেকেই বের হওয়ার যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারছেন না। এমন কাউকে পাওয়া গেলে সরকারি আদেশ অমান্য করার অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

চতুর্থ দিনে ঢাকায় গ্রেফতার ৫৬৬ জন : ??কঠোর লকডাউনের চতুর্থ দিনে গতকাল সোমবার যৌক্তিক কারণ ছাড়া অযথা ঘোরাঘুরি করার অপরাধে রাজধানীতে ৫৬৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ কমিশনার ইফতেখাইরুল ইসলাম। তিনি জানান, এদিন রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে মোবাইলের কোর্টের মাধ্যমে ১৬৪ জনকে জরিমানা করা হয়েছে এবং ১ লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া ডিএমপি ট্রাফিক কর্তৃক ৪৪৩টি গাড়িকে ১০ লাখ ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২৫
ফজর৪:৪৪
যোহর১১:৪৩
আসর৩:৪৭
মাগরিব৫:২৮
এশা৬:৪১
সূর্যোদয় - ৬:০০সূর্যাস্ত - ০৫:২৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৮৬৭১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.