নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১, ১২ শ্রাবণ ১৪২৮, ১৬ জিলহজ ১৪৪২
আলোচনায় আওয়ামী লীগের নামসর্বস্ব যত 'লীগ'
সফিকুল ইসলাম
টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার। এই সুবাধে ফায়দা লুটতে রাতারাতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা, শেখ রাসেল ও বঙ্গবন্ধু পরিবারের বিভিন্ন সদস্যদের নামও ব্যবহার করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ব্যবহার করেও গড়ে উঠছে অনেক সংগঠন। নামের সাথে 'লীগ' শব্দটি যুক্ত করে গজিয়ে উঠা এসব সংগঠনের কোনো কোনোটির প্যাডে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অফিসের ঠিকানাও ব্যবহার করা হচ্ছে।

সর্বশেষ ফেসবুকে নেতা বানানোর ঘোষণা দিয়ে বিজ্ঞাপন পোস্ট করে বাংলাদেশ আওয়ামী চাকরিজীবী লীগ নামের একটি সংগঠন। এই সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নাম আসে হেলেনা জাহাঙ্গীরের। আর সাধারণ সম্পাদক করা হয় মাহবুব মনিরকে। পোস্টারে সংগঠনটির জেলা, উপজেলা ও বিদেশি শাখায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়। সংগঠনটির দাবি, দুই-তিন বছর ধরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হিসেবে অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করছে তারা। এ ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অবশেষে বিতর্কিত কর্মকা-ের অভিযোগে আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটি থেকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে অব্যাহতি দিয়ে আওয়ামী লীগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় গণমাধ্যমে। এতে বলা হয়, হেলেনা জাহাঙ্গীর আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত তার সামপ্রতিক কর্মকা- সংগঠনের নীতি বহির্ভূত হওয়ায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে এ রকম আরো ১৫-২০টি সংগঠনের খোঁজ পাওয়া গেছে। এরকমই একটি সংগঠন বাংলাদেশ জনতা লীগ। সংগঠনটির দাবি, তারা আওয়ামী লীগের হয়ে বিভিন্ন ত্রাণ কাজ পরিচালনা করে থাকেন। আর এ জন্যই দলের ঠিকানাও দেয়া হয়েছে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন হাওলাদার মঞ্জু স্বীকার করেছেন, এটি আওয়ামী লীগের কোনো সহযোগী সংগঠন নয়। এমনকি এর কোনো অনুমোদনও নেই। তিনি বলেন, এটা আওয়ামী লীগের কোনো সহযোগী সংগঠন না। সহযোগী সংগঠন তো অল্প কয়েকটি। এটা ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সেবামূলক কর্মকা- সংগঠনের মাধ্যমে করি। যেমন ত্রাণ দেয়া, আওয়ামী লীগের দলীয় প্রোগ্রামে অংশ নেয়া এগুলো আমরা করি। ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ ঠিকানা কেন জানতে চাইলে মঞ্জু বলেন, আসলে নতুন যে সংগঠনগুলো কাজ করে আওয়ামী লীগের হয়ে, তারা মূলত এই ঠিকানাই দেয়। আমাদের এমনিতে আঞ্চলিক অফিস হলো গাজীপুরে। আমি নিজেও সেখানে থাকি। আসলে সংগঠনটি ২০২০ সালে করা। এখনো এক বছরও হয়নি। একটা সংগঠন পরিচিতি পেতেও তো দুই চার পাঁচ বছর যায়, দল যখন ভালো মনে করবে, মানে এটার যদি রেজিস্ট্রেশন করতে হয়, তখন দিবে। নিবন্ধন যেভাবে সরকারের আইন অনুযায়ী করা হয়, সেটাও আমরা সামনে করব। মহানগর-জেলা মিলিয়ে প্রায় ৩০টির কাছাকাছি কমিটি করেছি। এ রকম আরেকটি সংগঠনের সন্ধান মিলেছে যার নাম বাংলাদেশ আওয়ামী তরুণ জনতা লীগ। তাদেরও সাংগঠনিক প্যাডে ঠিকানা দেয়া আছে ২৬ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ। যদিও সেখানে সংগঠনটির ব্যাপারে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া গেল না। সংগঠনটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোতে যারা পদ পাচ্ছেন না, তাদের পদ দিচ্ছে এই সংগঠন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আল মামুন জুয়েল বলেন, এটা আওয়ামী লীগের কোনো নিবন্ধিত সংগঠন না। আমি অনেস্টলি বলছি। এটা নিবন্ধিতও না, বা এটার আওয়ামী লীগে কোনো অনুমোদনও নেই। যারা দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ বা যুবলীগ বা আওয়ামী লীগে কোনো পদ পাচ্ছে না, আমাদের তো একটা দলীয় কার্যক্রম চালাতে হবে। আমরা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি, থাকতে চাই। আমি আগে বুঝিনি যে, এটা নিয়ে এতো আলোচনা-সমালোচনা হবে। আগে যদি জানতাম তাহলে এটা করতামই না। সমপ্রতি কয়েকটি জেলায় কমিটি দিয়েছে ২০১৮ সালে তৈরি হওয়া এই সংগঠন। যদিও কেন্দ্রীয় নেতাদের দাবি, এতে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি। আল মামুন জুয়েল বলেন, কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে, কয়েক জায়গায় আমরা যে কমিটি করেছি, সেখানে কোনো টাকা-পয়সা লেনদেন হয়েছে, আমাদের যে শাস্তি দেয়া হবে, আমরা মাথা পেতে নেব। আমরা দলীয় কর্মকা-ের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে চাই দেখেই এটা করেছিলাম। তবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, সকল ভূইফোঁড় সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ সব নামসর্বস্ব লীগের সাথে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানান নেতারা। তারা বলছেন, আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন হচ্ছে যুবলীগ, মহিলা লীগ, কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুব মহিলা লীগ, তাঁতী লীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও মৎস্যজীবী লীগ। জাতীয় শ্রমিক লীগ ও ছাত্রলীগ হলো দলটির ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন। আর মহিলা শ্রমিক লীগ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ আওয়ামী লীগের 'নীতিগত' অনুমোদিত সংগঠন। তবে নামের সাথে 'লীগ' শব্দটি যুক্ত করে সংগঠন পরিচালনা করছে অন্তত অর্ধশত সংগঠন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাংলাদেশ ইলেকট্রিক লীগ, নাপিত লীগ, ফকির লীগ, প্রবীণ লীগ, ডিজিটাল লীগ, রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ ও ছিন্নমূল হকার্স লীগ এবং জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় লীগ, জননেত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় সংসদ, আওয়ামী প্রচার লীগ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, আওয়ামী ছিন্নমূল হর্কাস লীগ, আওয়ামী মোটরচালক লীগ, আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী রিকশা মালকি-শ্রমিক ঐক্য লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী পরিবহণ শ্রমিক লীগ, আওয়ামী নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, আওয়ামী ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, আওয়ামী যুব সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরষিদ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু গবষেণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আর্দশ পরিষদ, আমরা মুজিব সেনা, আমরা মুজিব হব, চেতনায় মুজিব, নৌকার সমর্থক গোষ্ঠী, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, নৌকার নতুন প্রজন্ম, জননেত্রী পরষিদ, দেশরত্ন পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব পরিষদ, আমরা নৌকার প্রজন্ম, আওয়ামী শিশু যুবক সাংস্কৃতিক জোট। এ সব সংগঠনকে সতর্ক করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ। তিনি বলেন, আমরা আগেও বলেছি। আমাদের সুনির্দিষ্ট কয়েকটি সহযোগী সংগঠন ছাড়া বাকি যেগুলো আছে, আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন জন করেছে, এগুলোর কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। এরা বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের নামটা ব্যবহার করে তাদের সুবিধা ভোগ করার জন্য অবৈধ এ পন্থা অবলম্বন করেছে। এদের বিরুদ্ধে আগেও আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। প্রশাসনকে সে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। সে সময় অনেকেই গা ঢাকা দিয়েছিল এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন আবার এরকম কয়েকটি সংগঠনের নাম শোনা যাচ্ছে। এ ধরনের সংগঠনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান হানিফ। তিনি বলেন, আমাদের যারা এসবের সাথে জড়িত, তাদের জন্য খুব সতর্ক বার্তা, এ ধরনের অসাংগঠনিক কার্যক্রমে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধেও আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। অপরদিকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকার সময় হাতেগোনা কয়েকটি সংগঠনকে পেয়েছি আমাদের পক্ষে কথা বলার জন্য। এখন গণমাধ্যমের কল্যাণে জানতে পারছি লীগ, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধার শব্দ ব্যবহার করে রাজনৈতিক ধান্ধাবাজির দোকান। এসব চলতে দেয়া যায় না। অ্যাকশন শুরু হয়েছে, চলমান থাকবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ২৪
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫১
আসর৪:১২
মাগরিব৫:৫৬
এশা৭:০৯
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫১
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৭০১৮.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.