নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২০, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ৯ জিলহজ ১৪৪১
ভিন্ন রকম ঈদযাত্রা
ট্রেনে নেই অতিরিক্ত যাত্রী বাসে টিকিট সংকট
জাহাঙ্গীর খান বাবু
অন্যবারের তুলনায় যাত্রী কিছুটা কম হলেও গাবতলী হয়ে ঘরমুখো যাত্রীরা তীব্র যানজট আর বাসের টিকিট সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। ঈদ এলেই শেকড়ের টানে নগর ছেড়ে গ্রামে যায় কোটি মানুষ। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারী করোনায় এবার কোটি মানুষ গ্রামে না ফিরলেও ফেরার সংখ্যাটা নেহাত কমও নয়। করোনাকালীন ঈদেও মানুষকে নগর ছেড়ে গ্রামে যেতে দেখা গেছে। তবে এবারের ঈদ যাত্রা ভিন্ন রকমের। কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, অন্য বছরের মতো প্ল্যাটফর্মে নেই অতিরিক্ত যাত্রী। স্টেশনে প্রবেশে নেই দীর্ঘ সারি। নেই নিয়ম ভাঙার প্রবণতাও। আগের মতো ব্যস্ততা নেই রেল কর্মী কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের। সবই যেন বদলে দিয়েছে করোনা! মানুষ সুশৃঙ্খলভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেনে যাত্রা করছে। অপরদিকে গাবতলী টার্মিনালে পৌঁছাতে তীব্র যানজটে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় রাস্তায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার বহু সময় অপেক্ষার পরও টিকিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলীতে সরেজমিনে দেখা গেছে, মূলত যারা অগ্রিম টিকিট কাটতে পারেননি কিন্তু এখন টার্মিনালে এসেছেন বাড়ি যাওয়ার জন্য তারাই বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। সকাল ৯টায় গাবতলী বাস টার্মিনালে আসেন বগুড়ার শিহাব উদ্দিন। সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তিনি কোনো বাসের টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি।

শিহাব উদ্দিন জানান, সবাই বলছে টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। আরও কিছুক্ষণ তিনি বাসের জন্য অপেক্ষা করবেন। শেষ পর্যন্ত টিকিট না পেলে তিনি বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করবেন।

তিনি আরও জানান,পরিবারের অন্য সদস্যরা মহামারির কারণে মে মাসের দিকে একেবারে বাড়ি চলে গেছে। তিনি ঢাকায় একা থাকেন। রাজশাহী যাবেন আরেক যাত্রী মোহাম্মদ সোহেল। তিনি জানান, তিনি সকাল ১০টায় এসে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত কোনো বাসের টিকিট পাননি। পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফেরিঘাটে জ্যামে আটকা পড়ায় বাসগুলো সময়মতো গাবতলীতে ফিরে আসতে পারছে না। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাসের অর্ধেক সিট ফাঁকা রাখার কারণে বাসের সংকটটা আরেকটু বেড়েছে। তবে কিছু বাস করোনা সংক্রমণ রোধে অর্ধেক সিট ফাঁকা রাখার নিয়মটি যথাযথ ভাবে মানছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

সোহাগ পরিবহণের ম্যানেজার মঈনউদ্দীন বলেন, বাসের ক্যাপাসিটিও কম। সব টিকিট অগ্রিম বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে এখন যারা আসছেন তারা টিকিট পাচ্ছেন না। তাদের অনেকে লোকাল বাসে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, যারা অগ্রিম টিকিট কেটেছেন তাদের বাস পেতে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু যারা এখন টিকিট কেটে বাড়ি যেতে চাইছেন মূলত তারাই বাস পাচ্ছেন না। এদিকে কল্যাণপুর, টেকনিক্যাল মোড়, গাবতলী, আমিন বাজার ব্রিজ এলাকায় তীব্র যানজট দেখা গেছে।

আব্দুল আজিজ নামে একজন যাত্রী বলেন, আজিমপুর থেকে এসেছি। কল্যাণপুর থেকে গাবতলী বাস টার্মিনালে আসতে তার দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লেগেছে। জ্যামের কারণে অনেক যাত্রী আগে থেকে নেমে হেঁটে আসেন। কিন্তু সঙ্গে ভারী ব্যাগ থাকায় এই সামান্য রাস্তা পার হতে দেড় ঘণ্টার মতো গাড়িতে বসেছিলাম। অন্যান্য ঈদের তুলনায় এবার ঈদে ঘরমুখো যাত্রী কিছুটা কম। যাত্রী কম হওয়া প্রসঙ্গে পরিবহণ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা সংক্রমণের ভয়ে অনেকে বাড়ি না গিয়ে ঢাকায় ঈদ করবেন।

মহামারীর শুরুতে বাড়ি যাওয়ার পর অনেকে আর ঢাকায় ফেরেননি, অনেকে চাকরি হারিয়ে বেকার বসে আছেন। অনেকে আবার এই সময়ে খরচ বাঁচাতে বাড়ি যাচ্ছেন না। অনেকে এই মহামারীর মধ্যে একেবারে বাড়ি চলে গেছেন ফলে ঢাকায় তুলনামূলক কম লোক আছে বলেও মনে করেন তারা।

এদিকে রেল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমলাপুর রেলস্টেশনে যাত্রী সুরক্ষায় হ্যান্ড স্যানিটাইজারসহ নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে এবার ঈদে যাত্রীদেরও চাপ নেই। বাড়তি ট্রেন না থাকায় ও অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল করায় বাড়ি ফেরা মানুষের সংখ্যাও কম। রেল কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই যাত্রীরা ট্রেন যাত্রা করছেন। মাস্ক পরা, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা অর্থাৎ নিজেদের সুরক্ষায় সবই করছেন যাত্রীরা। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অল্প অল্প যাত্রী প্রবেশ করছেন স্টেশনে। সবাই নিয়ম মেনেই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করছেন। অন্য বছরের মতো নেই কারো তাড়াহুড়ো। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল যাত্রী আসছেন নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে।

জানা গেছে, করোনাভাইরাসের কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গত ১ জুন থেকে ৫০ শতাংশ আসনে যাত্রী নিয়ে চলছে আন্তঃনগর ট্রেন। এখন পর্যন্ত সেভাবেই চলছে ট্রেন। এমনকি ঈদেও নেই বাড়তি ট্রেন।

ফলে ঈদ যাত্রায়ও নেই অতিরিক্ত যাত্রী। নির্ধারিত যাত্রীর বাইরে কেউই প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারছেন না। ট্রেনে নেই দাঁড়িয়ে যাত্রী যাওয়ার দৃশ্য। অথচ অন্য ঈদে ট্রেনের ছাদেও পা ফেলার জায়গা থাকতো না। কমলাপুর রেলস্টেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত ১২টি আন্তঃনগর ট্রেনের মধ্যে ৫টি নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে কমলাপুর ছেড়ে গেছে। এবার যাত্রীর অতিরিক্ত চাপ না থাকায় শিডিউল অনুযায়ী ট্রেনগুলো ছেড়ে যাচ্ছে।

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের যাত্রী নিয়াজ চৌধুরী বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে পরিবারের সবাইকে ঢাকায় রেখে গ্রামে যাচ্ছি। মা-বাবাকে দেখতেই মূলত বাড়ি যাচ্ছি। ঈদের পরদিনই আবার ঢাকা ফিরবো।

এমনি আরেক যাত্রী জসিম উদ্দিন। গন্তব্য ঠাকুরগাঁও। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস থাকায় পরিবার নিয়ে ঈদ যাত্রা করে বাড়তি ঝামেলা পোহাতে চান না। তাই সবাইকে ঢাকায় রেখে তিনি রিস্ক নিয়ে বাবা-মাকে দেখতে বাড়ি যাচ্ছেন।

পরিবার নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আসাদ। তার গন্তব্য খুলনা। তিনি বলেন, রাতে ট্রেন, কিন্তু ঈদযাত্রা, স্ত্রী সন্তান নিয়ে যাত্রা, তাই ঝামেলা এড়াতে একটু আগেই রেলস্টেশনে চলে এলাম। আরেক যাত্রী নিশাদ বলেন, এবার ভিন্ন এক কমলাপুর দেখলাম। ঈদযাত্রায়ও কমলাপুর খালি। অন্য বছরের মতো কমলাপুর রেলস্টেশনে নেই বাড়ি ফেরা মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। উপচে পড়া মানুষের ভিড়ও নেই। যাত্রী অন্যবারের মতো না থাকায় কমলাপুর যেন তার এক চিরচেনা রূপ ফিরে পাচ্ছে না।

কমলাপুর রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল হক বলেন, পুরোপুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে ট্রেন চলছে। এখন অতিরিক্ত যাত্রী যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। এবার বাড়তি ট্রেন নেই এবং যেসব ট্রেন চলছে, সেগুলো ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। ফলে বাড়তি কোনো ঝামেলা নেই।
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীআগষ্ট - ১১
ফজর৪:১১
যোহর১২:০৪
আসর৪:৪০
মাগরিব৬:৩৮
এশা৭:৫৬
সূর্যোদয় - ৫:৩২সূর্যাস্ত - ০৬:৩৩
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১২৫৮৪.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.