নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, শুক্রবার ৩১ জুলাই ২০২০, ১৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ৯ জিলহজ ১৪৪১
পল্লবী থানায় বিস্ফোরণ
গ্রেফতারকৃত ৩ জন ১৪ দিনের রিমান্ডে
স্টাফ রিপোর্টার
রাজধানীর পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় গ্রেফতার ৩ জনের ১৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে তাদের হাজির করা হয়। তাদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মঈনুল ইসলাম অস্ত্র মামলায় সাত দিন ও বিস্ফোরক আইন মামলায় সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলো-রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও মোশাররফ।

জানা গেছে, রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও মোশাররফ নামের ওই তিনজনকে গত বুধবার ভোরে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। পল্লবী থানায় নেয়ার পর তাদের কাছ থেকে জব্দ করা একটি ওজন যন্ত্রে লুকানো বোমায় বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে চার পুলিশসহ পাঁচজন আহত হন। গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করে পল্লবী থানার অস্ত্র মামলায় সাত এবং বিস্ফোরক মামলায় দশ দিন করে রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ফারুকুজ্জামান মলি্লক। রাষ্ট্রপক্ষে আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কমকর্তা এস আই সেলিম হোসেন শুনানিতে বলেন, এরা পেশাদার অপরাধী। তাদের নামে আরো মামলা রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ডে পাঠানো হোক।

অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে রিমান্ডের বিরোধিতা করেন আইনজীবী শামীমুল ইসলাম এবং ওয়াজেদ আলী। শুনানিতে তারা বলেন, এই আসামিদের সবাইকে 'অনেক আগে' গ্রেফতার করা হলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে পাঠানো হয়নি, যা ফৌজদারি কার্যবিধি এবং সংবিধানবিরোধী। আসামিরা 'আহত' এবং রিমান্ডে পেলে পুলিশ তাদের ওপর 'অত্যাচার' করবে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক তিন আসামির প্রত্যেককে অস্ত্র মামলায় সাতদিন এবং বিস্ফোরক মামলায় সাত দিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন বলে প্রসিকিউশন পুলিশের উপ-কমিশনার মো. জাফর হোসেন জানান।

এদিকে, পল্লবী থানায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ও গ্রেফতারকৃতদের বিষয়ে কথা বলেছেন মহানগর গোয়েন্দা (ডিবির) অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন। এঘটনায় কোনো জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় পল্লবী থানায় দু'টি মামলা হয়েছে। যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে আমরা যা পাচ্ছি এটা 'স্থানীয় আধিপত্য বিস্তার সংশ্লিষ্ট একটি ক্রিমিনাল অ্যাক্টিভিটিস (অপরাধ কর্মকা-)'। জঙ্গির কোনো সংশ্লিষ্টতা আমরা এখনো পাইনি। তারা কেন কাকে কীভাবে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করেছিল সে বিষয়গুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। এর বেশি কিছু পেলে আমরা পরবর্তীতে জানাব।

পল্লবী থেকে গ্রেফতার তিনজনের একজন শহীদুল, তাকে ৩ দিন আগে একটি মাইক্রোতে তুলে নেয়া হয়েছিল বলে দাবি করছে তার পরিবার। এ বিষয়ে থানায় জিডি আছে। তারপরও তাকে কীভাবে আগের রাতে গ্রেফতার করা হলো? এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বাতেন বলেন, আপনার বক্তব্য আমরা তদন্ত করে দেখব। আমরা এ ধরনের কোনো তথ্য পাইনি। আমরা তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করেছি। যে বস্তুটি উদ্ধার করেছি (বোমা) সেটা আপনারা দেখেছেন। এর বাইরে যদি কোনো বিষয় থাকে সেটা আমরা তদন্ত করে দেখব।

আরেক প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল বাতেন বলেন, এখন যদি আপনি সব প্রশ্নের উত্তর চান তাহলে দেয়া যাবে না। আবার অনেক কিছু আছে যা তদন্তের স্বার্থে আপনাকে বলাও যাবে না। আপনাকে বিস্তারিত সব কিছু খুলে বলার মতো আমার কাছে তথ্য নেই। তিনি বলেন, এই সংক্রান্তে আমাদের এতটুকুই।

সূত্র জানায়, রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী থানায় গত বুধবারের বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)। অনলাইনে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপ আইএসের দায় স্বীকারের বিষয়টি তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে। সাইট ইনটেলিজেন্স গ্রুপের পরিচালক রিটা কাটজ এক টুইট বার্তায় বলেন, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পুলিশের একটি দফতরে হামলার দায় স্বীকার করেছে আইএস।

যদিও পল্লবী থানায় বিস্ফোরণের ঘটনাটি জঙ্গি সংশ্লিষ্ট নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়। তিনি বলেন, স্থানীয় একটি অপরাধীচক্র কোনো অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করছিল সে সংবাদটি জানার পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বিস্ফোরণের ব্যাপারে গত বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ডিসি (মিডিয়া) ওয়ালিদ হোসেন বলেন, গত বুধবার ভোরে পল্লবী এলাকা থেকে তিন আসামিকে গ্রেফতার করে পল্লবী থানা হেফাজতে রাখা হয়। মিরপুর এলাকার একজন রাজনীতিক নেতাকে খুন করার জন্য তাদের ভাড়া করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ছিল তাদের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, গ্রেফতারের পর তাদের থানায় আনা হয়। তাদের কাছ থেকে দুটি অস্ত্র ও কিছু জিনিসপত্র উদ্ধার করে পুলিশ। এগুলো থানার ইন্সপেক্টর অপারেশনের রুমে রাখা হয়। উদ্ধার জিনিসপত্রের মধ্যে ওজন মাপার মেশিনসদৃশ্য একটি বস্তু ছিল। সকাল ৭টায় হঠাৎ সেটি বিস্ফোরণ হয়।বিস্ফোরণে চার পুলিশ সদস্যসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। তারা হলেন-ইন্সপেক্টর অপারেশন ইমরান, উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজীব খান, শিক্ষানবিশ উপ-পরিদর্শক (পিএসআই) রুমি, শিক্ষানবিশ উপ-পরিদর্শক (পিএসআই) অঙ্কুশ। এছাড়া রিয়াজ নামে একজন অফিস স্টাফ আহত হন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীসেপ্টেম্বর - ৩০
ফজর৪:৩৪
যোহর১১:৪৯
আসর৪:০৮
মাগরিব৫:৫১
এশা৭:০৩
সূর্যোদয় - ৫:৪৯সূর্যাস্ত - ০৫:৪৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
১৯০৮৩.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata123@gmail.com, bishu.janata@gmail.com
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.