নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৩৮
মতলবে ধনাগোদা ও গোমতী নদীতে বিষ দিয়ে নির্বিচারে মাছ নিধন
মতলব (চাঁদপুর) থেকে রাকিবুল ইসলাম সোহাগ
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা ও গোমতী নদীতে বিষ দিয়ে নির্বিচারে মাছ ও রেণু পোনা নিধন করছে অসাধু জেলেরা। নদীতে নির্দিষ্ট একটি স্থান ও অন্য জেলেরা যেখানে ঘের বা বাজা ফেলে রেখেছে তার পাশে গোপনে রাতের আঁধারে পানিতে বিষ প্রয়োগ করে ঘের জাল দিয়ে মাছ ধরছে তারা।

ধনাগোদা নদীর তালতলী, দূর্গাপুর, নন্দলালপুর, শিবপুর, চরপাথালিয়া, টরকী, সিপাইকান্দি এলাকা ঘুরে জানা গেছে, রাতের আঁধারে জোয়াড় বা ভাটার পর পানি স্থির হলে জেলেরা বিষ প্রয়োগ করে। বিষ প্রয়োগের ১০ মিনিটের মধ্যে মাছ আধমরা হয়ে ভেসে উঠতে শুরু করে। তখনই জেলেরা অল্প সময়ে অনেক মাছ ধরে ফেলে। এসব মরা মাছ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ও ঢাকার আড়ৎদারদের কাছে বিক্রি করছে দেদারছে। এসব মাছ খেলে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেড়ে যায় বলে জানান চিকিৎসকরা।

এসব বিষ মতলবের প্রায় প্রত্যেকটি বাজারে কীটনাশের দোকানগুলোতে পাওয়া যায়। এর একটি কীটনাশনের নাম হলো 'রোটন'। এটি মূলত ব্যবহার হয় ধান খেতের বিষাক্ত জলজ ও বিষাক্ত পোকামাকড় ধ্বংসের জন্য। অথচ এই কীটনাশকটি সহজলভ্য ও দ্রুত মাছ মারা যাওয়ার কারণে অসাধু জেলেদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। এ কীটনাশকটি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালা মানছে না কীটনাশক ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও কয়েকটি কীটনাশক মাছ নিধনে অপব্যবহার করছে বলে জানা গেছে। ধনাগোদা ও গোমতী নদী মতলব উত্তর, দক্ষিণ উপজেলা তথা চাঁদপুরের মৎস্য ভা-ার হিসেবে পরিচিত। উন্নত জাতের গলদা, বাগদা ও হরিণা চিংড়ির জন্মের জন্য বিখ্যাত এ নদী দু'টি। এ ছাড়াও রয়েছে উন্নত জাতের পাবদা, টেংরা ও মিঠা পানির কয়েক শত জাতের মাছ। নদীতে নির্বিচারে বিষ দিয়ে মাছ মারার ফলে একদিকে নদী যেমন দ্রুত মৎস্য শূন্য হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে কোটি কোটি মাছের রেণু পোনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জেলেদের অগোচরে। সেই সাথে নদীর জলজ কচ্ছপ, মাছের খাদ্যচক্র, মাছের ডিম ও নানা জাতের জলজ প্রাণী বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীগুলো থেকে। দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে জীব ও বৈচিত্র্য।

গত কয়েক বছর আগেও এ নদী দু'টিতে কয়েক প্রজাতির ডলফিন বসবাস করতো এবং সমসময় সবার চোখে পড়তো। বিষ দিয়ে মৎস্য নিধন শুরু হওয়ার পর এখন আর ডলফিনগুলো চোখে পড়ছে না। অন্যদিক এই অঞ্চল ইলিশের অভয়ারণ্য হওয়ার ফলে বর্ষা মৌসুমে এই দু'টি নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়তো। এখন আর এ নদী দু'টিতে ইলিশ মাছ পাওয়া যায় না। নদী দু'টি এখন ইলিশ শূন্য। অথচ ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু রক্ষা করা হচ্ছে না ইলিশের প্রজনন এলাকা ও বিচরণ ক্ষেত্র ধনাগোদা ও গোমতী নদী।

গত ৩০ জুলাই মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের সাধারণ সভায় বিষয়টি উত্থাপন হলে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। বিষ দিয়ে নদীতে মৎস্য নিধনের কোনো অধিকার নেই। এ বিষয়ে আমরা কঠোর হবো। উপজেলা সিনি: মৎস্য কর্মকর্তা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীনভেম্বর - ১৬
ফজর৫:১২
যোহর১১:৫৪
আসর৩:৩৯
মাগরিব৫:১৭
এশা৬:৩৫
সূর্যোদয় - ৬:৩৩সূর্যাস্ত - ০৫:১২
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
৩১৬১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.