নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৩৮
যানজটে প্রতিদিন ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি টাকা
* প্রতিদিন নষ্ট হচ্ছে ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা * ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াত মাত্র ৪ শতাংশ
মো. কামরুল হাসান
যানজটে প্রতিদিন নাগরিকদের ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হয়, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা। এ হিসেবে মানুষের স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ভোগান্তির হিসেব করা হয়নি। হাজার কোটি টাকার নানা প্রকল্পের পরও ঢাকার যাতায়াত ব্যবস্থায় এই অবস্থার কারণ খোঁজা জরুরি। নগরে গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে প্রধান্য না দিয়ে, প্রাইভেট গাড়ির সুবিধা বৃদ্ধিতে অবকাঠামো নির্মাণ করার প্রেক্ষিতে নগরে ফ্লাইওভার, ওভারপাসসহ বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে কিন্তু সাধারণ মানুষ কোনো সুবিধা পায়নি। নগরে যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে অবকাঠামো নির্মাণ মাপকাঠি হতে পারে না বরং সহজে, স্বল্প খরচে, নিরাপদ যাতায়াতকে উন্নয়নের মাপকাঠি হিসেবে দেখতে হবে। যানজটের প্রধান কারণ প্রাইভেটকার। রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়িতে মাত্র ৪ শতাংশ মানুষ যাতায়াত করে, কিন্তু এসব বাহন সড়কের ৭০ শতাংশ স্থান দখল করে রাখে। পাবলিক বাস সার্ভিসের মানোন্নয়নে দক্ষভাবে পাবলিক বাস পরিচালনার জন্য অভিভাবক সংস্থা রাখা ও কর্মরত সব সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা দরকার। বাসযাত্রীদের সেবা নিশ্চিত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করাও প্রতিরোধ করতে হবে।

ঠিক এসব কথাই উঠে আসে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবা'র উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে উপস্থিত বক্তাদের বক্তব্যে। গতকাল শনিবার সকালে রাজধানীর কলাবাগানস্থ পবা কার্যালয়ে 'যাতায়াতে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ : সরকারের ভূমিকা ও করণীয়' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে রাজধানীর যানজটের বিভিন্ন কারণসমূহের সঙ্গে সঙ্গে এ থেকে পরিত্রাণের বিষয়েও আলোকপাত করা হয়। পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন-পবা'র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় উপস্থিত ছিলেন পবা'র সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. লেলিন চৌধুরী, সম্পাদক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম তাহিন, সহ-সম্পাদক স্থপতি শাহীন আজিজ, এম এ ওয়াহেদ, নিশাত মাহমুদ, পবার সদস্য রাজিয়া সামাদ, ক্যামেলিয়া চৌধুরী প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, যানজটকে প্রধান্য দিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রথমে সমন্বিত যোগাযোগ নীতিমালা অনুসারে যাতায়াত পরিকল্পনা করতে হবে। ঢাকা ইন্টিগ্রেটেড ট্রান্সপোর্ট স্টাডি (ডিআইটিএস) অনুযায়ী, ঢাকায় মোট চলাচলের ৬২ শতাংশ ট্রিপ পায়ে হেঁটে যাতায়াত হয়। অথচ পরিকল্পনায় শুধু জ্বালানীনির্ভর যানবাহনকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে স্বাভাবিক সময়ে রাজধানীতে দৈনিক প্রায় তিন কোটি ট্রিপ হয়। এর মধ্যে ৩৮ দশমিক ৩ শতাংশ রিকশায়, ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ বাসে ও ১৯ দশমিক ৮ শতাংশ হেঁটে যাতায়াত। অর্থাৎ ৮৬ দশমিক ৪ শতাংশ যাতায়াতকারীই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ফ্লাইওভারের সুবিধা পায় না। মহানগরী ঢাকায় যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ ব্যক্তিগত কারের সংখ্যার ব্যাপক বৃদ্ধি। এছাড়াও রয়েছে রাস্তা ও ফুটপাতে গাড়ী পার্কিং, গণপরিবহণের স্টপেজের নির্ধারিত স্থান না থাকা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সিটি কর্পোরেশনের আবর্জনা ও কনটেইনার দ্বারা রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, সমন্বিত যানবাহনের অভাব ইত্যাদি।

ব্যক্তিগত গাড়ির গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি এবং একই পরিবারে একাধিক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধির সুপারিশ করে তারা বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে প্রতি প্রাইভেটকারে যাত্রী বহন করে মাত্র দেড়জন। অথচ একই পরিমাণ জায়গা ব্যবহার করে বাস প্রতি ৫০ জন যাত্রী পরিবহণ করে দেড়টি প্রাইভেটকার ও ১টি ঢাকার সাধারণ বাসের জায়গা প্রায় সমান লাগে। কিন্তু সেখানে দেড়টি ব্যক্তিগত গাড়িতে যাত্রী ২ জনের মতো, বিপরীতে বাস ৫০ জন যাত্রী বহন করে। অর্থাৎ ঢাকার সড়কে একই পরিমাণ জায়গা দখল করলে প্রায় ১২৫০ শতাংশ বেশি যাত্রী বহন করে বাস। অন্যভাবে বলা যায়, ১টি বাসের সমান যাত্রী পরিবহণে দরকার ৩৫টি ব্যক্তিগত গাড়ি।

এসময় সেমিনারে আরও কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- পথচারীদের যাতায়াত ব্যবস্থাকে প্রধান্য দেয়া, পরবর্তীতে সাইকেল চলাচলের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি, নগর কর্তৃপক্ষের অধীনে পৃথক লেনে পাবলিক বাস চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি, রেল ও নৌপথের সাথে নগরের পাবলিক বাসের সমন্বয়, নগরে বাস চলাচলের ক্ষেত্রে মাফিয়া বা অনৈতিক ব্যক্তিদের দৌরাত্ম্যের কারণে পাবলিক বাস ব্যবসায় নিজেদের সম্পৃক্ত করতে অনেক মানুষই আগ্রহী হন না এটা রোধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, গবেষণার ভিত্তিতে সঠিকভাবে বাস রুট ডিজাইন ও বরাদ্দ দেয়ার ব্যবস্থা, ট্রাফিক সিগন্যালে বাসকে প্রাইভেটকারের আগে ছেড়ে দেয়া, সরকারি উদ্যোগে বাস ডিপো নির্মাণ ও সেখানে বাস মেরামতের যাবতীয় সুবিধা রাখা ইত্যাদি।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২১
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৮১.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.