নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৩৮
ষোড়শ সংশোধনী : সর্বত্রই আলোচনা-সমালোচনার ঝড়
রায় নিয়ে বাকযুদ্ধে আ'লীগ-বিএনপি
সফিকুল ইসলাম
বিচারপতিদের অভিশংসন-সংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে এবার কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নেমেছে ক্ষুব্ধ ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্বাধীন সরকারি দল আওয়ামী লীগ। এই রায়কে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে বক্তব্য রাখতে শুরু করেছেন দেশের প্রধান দুই রাজনীতিক দলের নেতারা। এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ তিনদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তাদের (আওয়ামী লীগ) কর্মসূচির পাল্টা কর্মসূচিতে একই দিন একই সময়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে রাজপথের বিরোধী দল বিএনপি।

দলের সমর্থক আইন পেশাজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ নেতারা বলেছেন, একটি মহল এই রায় নিয়ে বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আর এই রায়ের প্রতিবাদে তিনদিনের প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে ধানম-িতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সপ্তাহে আওয়ামী লীগ পন্থী আইনজীবীরা যে তিনদিন সারা দেশে কর্মবিরতি পালন করবে, একই দিন একই সময়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিরও ডাক দিয়েছে বিএনপি।

এ দিকে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পয়লা আগস্ট প্রকাশের পর পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। পরিবর্তন ঘটে গেছে দেশের রাজনীতির সার্বিক পরিস্থিতি। ঐ রায়ের ৭৯৯ পৃষ্ঠার পর্যবেক্ষণ উত্তাপ ছড়িয়েছে সর্বত্রই। সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, সুশীলসমাজের প্রতিনিধিরা রায়কে 'ঐতিহাসিক' অভিহিত করে প্রধান বিচারপতিকে 'বাহবা' দিলেও সরকারি দল আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে কথা বলছেন পাতি নেতারাও। তবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত রায় নিয়ে ঔদ্ধত্যপূর্ণ বোমা ফাটানো বক্তব্য দেয়ার পর আলোচনা-সমালোচনা-তর্ক-বিতর্ক সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে আপিল বিভাগের দেয়া ঐ রায়।

এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের পর রায়কে বিএনপি স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নানা আলোচনা-সমালোচনা করা হচ্ছে। সরকারি দলের নেতাদের মতোই প্রায় কাছাকাছি সুরে রায়ের পর্যবেক্ষণে সমালোচনামুখর হন আইন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান এ বি এম খায়রুল হক, যিনি প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে অবৈধ বলে একটি রায়ে উল্লেখ করেছিলেন। এর মধ্যেই শুক্রবার আইন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে এ বি এম খায়রুল হককে অপসারণ ও গ্রেফতার, নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির বিধিমালার গেজেট প্রকাশের দাবি এবং সুপ্রিম কোর্টকে হেয়প্রতিপন্ন করে সরকারের মন্ত্রিদের দেয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে তিনদিনের বিক্ষোভ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ রোববার আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার সারা দেশের আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করবে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।

এ দিকে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্য সচিব ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। এ সময় ষোড়শ সংশোধনীর আপিল বিভাগের রায়ের প্রতিবাদে ১৩, ১৬ ও ১৭ আগস্ট (অর্থাৎ আজ রোববার আগামী বুধবার ও বৃহস্পতিবার) দুপুরে সারা দেশের আইনজীবী সমিতিতে এক ঘণ্টার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। লিখিত বক্তব্যে আপিল বিভাগের রায়ে যেসব 'আপত্তিকর, অসাংবিধানিক, অগণতান্ত্রিক, অপ্রাসঙ্গিক' পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেগুলো স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে প্রত্যাহার করতে আদালতের প্রতি দাবি জানান শেখ ফজলে নুর তাপস। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য অসাংবিধানিক শক্তিকে ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করে দেবে। এ ধরনের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, প্রধান বিচারপতি পূর্ণাঙ্গ রায়ে যে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন তা আইনজীবী অঙ্গনকে সংক্ষুব্ধ ও ব্যথিত করেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর ওপরে সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিক যুগান্তকারী একটি রায় দিয়েছেন, এই রায়ের ওপরে মন্ত্রিসভা আলোচনা করেছেন, সেখানে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আমি আতঙ্কিত বোধ করছি কারণ, তারা বলেছেন যে তারা জনমত সৃষ্টি করবেন। বাংলাদেশে তারা (ক্ষমতাসীনরা) জনমত সৃষ্টি করবেন এই রায়ের বিরুদ্ধে। মানেটা কী? এর মানেটা হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে তারা জনমত সৃষ্টি করতে চান। তারা তো তাহলে নিজেরাই প্রমাণ করে দিচ্ছেন তারা স্বাধীন বিচার বিভাগে বিশ্বাস করে না। আমি বলতে চাই, যারা এই যুগান্তকারী রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তারা বাংলাদেশকে ভালোবাসেন না, দেশে স্বাধীন বিচার বিভাগ চান না। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের দেয়া রায়কে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি। তিনি বলেন, আজকে যারা শেখ হাসিনার উন্নয়নকে সহ্য করতে পারছে না, তারা সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। এ ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। এই ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। চক্রান্তের মুখে পড়েছি। ষড়যন্ত্র চলছে-দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন সতর্কতার পরদিন দলীয় নেতাকর্মীদের ষড়যন্ত্রের কথা বলে সতর্ক করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। সরকার নতুন কোনো ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে যুবদলের দোয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

এ দিকে ষোড়শ সংশোধনী মামলার রায়ে সুপ্রিমকোর্টের সিদ্ধান্তে জাতির স্বপ্ন ও প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে এবং আপিল রায় নিয়ে সরকারের মন্ত্রিদের মন্তব্য আদালত অবমাননার শামিল বলে মন্তব্য করেছেন দেশের রাজনীতিতে 'তৃতীয় শক্তি' গড়তে তৎপর নেতারা। তারা বলছেন- এ রায় যুগান্তকারী। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার নেই বলে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, দেশের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের মাধ্যমে সুপ্রিমকোর্ট জনগণের একমাত্র ভরসার জায়গা তৈরি করেছে। অথচ সরকারি দল আওয়ামী লীগের নেতারা সংসদের বাইরে এই রায় নিয়ে 'জনমত' তৈরির 'হুমকি' দিয়ে সরাসরি আদালত অবমাননা করছে।

ষোড়শ সংশোধনীর পক্ষে জনমত গঠনে সরকারের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করেন আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক। তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে কোথাও জনমত চাওয়া হয়নি। অথচ এখন সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে জনমতের কথা বলাটা সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার পর্যায়ে পড়ে না। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের সংবিধান এবং ১৯৬২ সালে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সংবিধানের মূল পার্থক্য বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানের শুরুতেই উই অর্থাৎ 'আমরা' লেখা হয়েছে। অতএব এটা আমাদের দেশ, এখানে আমি বলে কিছু নেই। আমিত্ব বা এক ব্যক্তির দেশ নয় এটা। পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খানের চাপিয়ে দেয়া সংবিধান শুরু হয়েছিলো 'আই' অর্থাৎ 'আমি' দিয়ে। ষোড়শ সংশোধনীতে আমিত্বে আটকে গেলে আইয়ুব খানের সংবিধানের সাথে পার্থক্যটা থাকতো কোথায়? বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে সংবিধানে এমন সংশোধন আসতে পারে না।

প্রসঙ্গত, গত ৩ জুলাই বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে আনা সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। এর পর গত ১ আগস্ট বিচারপতিদের অপসারণ-সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ সাত বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৭৯৯ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। সব বিচারপতির সর্বসম্মত রায়ে 'রাজনীতিতে ব্যক্তিবাদ', সামরিক শাসন, 'অপরিপক্ব সংসদ', দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সুপ্রিম জুডিসিয়াল কাউন্সিলের বিধানটি তুলে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এনে বিচারকের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে পুনরায় ফিরিয়ে দেয়া হয়, যেটি ১৯৭২ সালের সংবিধানেও ছিল। ২০১৬ সালের ৫ মে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি আশরাফুল কামালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ বলে রায় ঘোষণা করেন।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
এই পাতার আরো খবর -
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২১
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৫০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.