নিবন্ধিত হোন |
ইউজার সাইনইন
ই-মেইলঃ
পাসওয়ার্ডঃ
পাসওয়ার্ড ভুলে গেছেন?
ই-মেইলঃ 
বন্ধ করুন (X)
ঢাকা, রোববার ১৩ আগস্ট ২০১৭, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৪, ১৯ জিলকদ ১৪৩৮
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের আরেক নাম
ডা. খালেদ শওকত আলী
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। হাজার বছরের লালিত আশা আকাঙ্ক্ষা, বিক্ষোভ-বেদনা ও আবহমান বাংলাকে নিজের চেতনায় আত্মস্থ করেছিলেন। তার কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হয়েছে বাঙালি জাতির মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। এই মহান নেতার জন্ম ১৭মার্চ ১৯২০, ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে, পিতা শেখ লুৎফুর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের তৃতীয় সন্তান।

পাকিস্তানের ২৪ বছরের রাজনীতির সময়ে ১২ বছরই তিনি কারান্তরালে অন্তরীণ ছিলেন। দুইবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। ১৮বার কারাবরণ করেছেন। ২৪টি মামলার মোকাবিলা করেছেন। সকল সংগ্রাম আর আন্দোলনের চূড়ান্ত লক্ষ্যের ঘোষণা দেন, পোয়েট অব পলিটিঙ্ 'রাজনীতির কবি' ১৯৭১ এর ৭ মার্চ-'এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম'। বাংলাদেশের স্বাধীনতাই বঙ্গবন্ধুর একমাত্র কৃতিত্ব নয়! তিনি বাঙালি জাতির মাঝে জাগিয়েছিলেন মুক্তির আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের 'বাংলাদেশ হবে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র' ধর্মনিরপেক্ষ মানে ধর্মহীনতা নয়। মুসলমান, মুসলমানদের ধর্ম পালন করবে, হিন্দু তার ধর্ম, খৃস্টান তার ধর্ম পালন করবে। এ মাটিতে ধর্মহীনতা নেই, ধর্মনিরপেক্ষতা আছে, এর একটি মানে আছে। এখানে ধর্মের নামে ব্যবসা চলবে না। ধর্মের নামে মানুষকে লুট করে খাওয়া চলবে না। ধর্মের নামে রাজনীতি করে রাজাকার, আলবদর পয়দা করা বাংলার বুকে আর চলবে না, সামপ্রদায়িক রাজনীতি করতে দেয়া হবে না' ৭ জুন ১৯৭২ সালে সোহরওয়ার্দী উদ্যানে প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের এই বক্তব্য আজকের দিনেও আমাদের পথ নির্দেশিকা।

বাংলার মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ভালোবাসা ছিল অকৃত্রিম। বাংলার মানুষের জন্য বারবার কারাবরণ করেছেন, মৃত্যুকে তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন, ৯ মে ১৯৭২ রাজশাহী মাদ্রাসা ময়দানে বঙ্গবন্ধু মুজিব বলেন, 'আমি আমার বাংলার মানুষকে ভালোবাসি, আমি আমার বাংলার আকাশকে ভালোবাসি। আমি বাংলার বাতাসকে ভালোবাসি, আমি আমার বাংলার নদ-নদীকে ভালোবাসি। আমি বাংলার প্রত্যেক মানুষকে মনে করি আমার ভাই, মাকে মনে করি আমার মা, ছেলেকে মনে করি আমার ছেলে'।

বঙ্গবন্ধুর একটি বড় বৈশিষ্ট্য তিনি আপাদমস্তক বাঙালি চেতনা ধারণ করেছেন। এই বাঙালি সত্ত্বাই তাকে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল বাঙালি জাতির নিজস্ব অস্তিত্ব আবিষ্কারের চেষ্টা। সুদীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে তিনি তার স্বপ্নকে সফলতায় পরিণত করেন। জন্ম দেন স্বাধীন বাংলাদেশের। মানুষের প্রতি বঙ্গবন্ধুর ছিল অগাধ আস্থা আর অতিবিশ্বস্ততা, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে, ২৩ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'মানুষের অজেয় শক্তির প্রতি বিশ্বাস, মানুষের অসম্ভবকে জয় করার ক্ষমতা এবং অজেয়কে জয় করার শক্তির প্রতি আকণ্ঠ বিশ্বাস রাখিয়া আমি আমার বক্তৃতা শেষ করতে চাই। আমাদের মতো যেইসব দেশ সংগ্রাম ও আত্মদানের মাধ্যমে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করিয়াছে, এই বিশ্বাস তাহাদের দৃঢ়। আমারা দুঃখ ভোগ করিতে পারি, কিন্তু মরিব না। টিকিয়া থাকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করিতে জনগণের দৃঢ়তাই চরম শক্তি। আমাদের লক্ষ্য স্ব-নির্ভরতা। আমাদের পথ হইতেছে জনগণের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ প্রচেষ্টা '। বঙ্গবন্ধুর জীবনার্দশের অন্যতম উপাদান মানবতা। ১৯৭২ সালের ৮ অক্টোবর পিজি (বর্তমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়) হাসপাতালে তিনি বলেছিলেন, 'আপনাদের মানবতাবোধ থাকা দরকার, মনুষ্যত্ব থাকা দরকার, সততা থাকা দরকার-না হলে কোনো জাতি কোনো দিন বড় হতে পারে না'। বাংলা ও বাঙালি শব্দগুলো ভুলিয়ে দিতে আজ যেমন উদ্যত স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি, সেই একইভাবে উদ্যত ছিল পাকিস্তানি শাসকেরা। ১৯৫৫ সালের ২৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান গণপরিষদে বলেছিলেন, 'মাননীয় স্পিকার, সরকার পূর্ববাংলার নাম পরিবর্তন করে পূর্বপাকিস্তান রাখতে চায়, আমরা বারবার দাবি জানাচ্ছি, আপনারা 'বাংলা' এই নাম ব্যবহার করুন', আর ১৯৬৯ এর ৫ ডিসেম্বর ঘোষণা দেন, 'আজ থেকে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলের নাম পূর্ব পাকিস্তানের বদলে শুধু 'বাংলাদেশ হবে'। তার রাজনৈতিক আদর্শ ছিল সুস্পষ্ট। তিনি ছিলেন দরিদ্র মানুষের নেতা, বেছে নিয়েছিলেন শোষণ-বঞ্চনা-দারিদ্র্য থেকে মুক্তির পথ। বঙ্গবন্ধুর অবস্থান ছিল শোষকের বিরুদ্ধে শোষিতের পক্ষে। তাই তো বঙ্গবন্ধু মুজিব বলেছিলেন, 'বিশ্ব আজ দুই ভাগে বিভক্ত-শোষক ও শোষিত আমি শোষিতের পক্ষে'। তিনি জানতেন এই পথ বন্ধুর, জীবন সঙ্কটময়। রেসকোর্স ময়দানে জাতির জনকের ঘোষণা, চিলির প্রেসিডেন্ট আলেন্দের পরিণতি বরণ করতেও আমি প্রস্তুত, তবুও আমার জাতিকে মাথানত করতে দেব না'। নিজের জীবন দিয়ে পিতা তার কথা রেখেছিলেন। ১৮ জানুয়ারি ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগের দ্বিবার্ষিক কাউন্সিলে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, 'আমি যদি বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে না পারি, আমি যদি দেখি বাংলার মানুষ দুঃখী, আর যদি দেখি বাংলার মানুষ পেট ভরে ভাত খায় নাই, তাহলে আমি শান্তিতে মরতে পারবো না'। 'বঙ্গবন্ধুর অকৃত্রিম ভালোবাসায় সিক্ত বাঙালি জাতি। দেশের অবিসংবাদিত নেতা দুঃখী মানুষের কষ্টে ব্যথিত হয়ে জীবন দিয়ে মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দিয়ে গেছেন। এমন নেতা পৃথিবীতে বার বার আসে না। আমরা প্রতিজ্ঞা করি বঙ্গবন্ধু মুজিবের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে সততার সাথে কাজ করে যাব। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে সম্পূর্ণ আদর্শিক কারণে, বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের আর্দশিক প্রত্যয়সমূহ অসামপ্রদায়িকতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র তথা শোষণহীন সমাজ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো আর বাঙালি জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে হত্যা করার উদ্দেশ্যে। বাংলার মানুষ অন্ন পাবে, বস্ত্র পাবে, বাসস্থান পাবে, চিকিৎসা, শিক্ষা পাবে। উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, বীর বাঙালির গর্বিত জাতির জনক, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাই আজ স্বাধীনতার পক্ষ শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার পাশে থাকতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাস্তবায়নের জন্য।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশেরই আরেক নাম। বঙ্গবন্ধুকে হারানোর বেদনা বাঙালি জাতিকে বইতে হবে যুগযুগ। এদেশের যা কিছু তা হোক না নগণ্য, তার চোখে মূল্যবান ছিল- নিজের জীবনই শুধু তার কাছে খুব তুচ্ছ ছিল।

ডা. খালেদ শওকত আলী : লেখক

এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আনার মতামত দিন।
মতামত দিতে চাইলে অনুগ্রহ করে করুন।
আপনার কোন একাউন্ট না থাকলে রেজিষ্ট্রেশন করুন।
সর্বাধিক পঠিত
ফটো গ্যালারি
আজকের পত্রিকা
আজকের নামাজের সময়সূচীঅক্টোবর - ২১
ফজর৪:৪৩
যোহর১১:৪৪
আসর৩:৫০
মাগরিব৫:৩১
এশা৬:৪৩
সূর্যোদয় - ৫:৫৮সূর্যাস্ত - ০৫:২৬
পুরোন সংখ্যা
বছর : মাস :
আজকের পাঠকসংখ্যা
২৬৯০.০
সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ সৈয়দ এম. আলতাফ হোসাইন। সম্পাদক : আহ্সান উল্লাহ্। উপদেষ্টা সম্পাদক : মোঃ শাহাবুদ্দিন শিকদার। প্রকাশক ছৈয়দ আন্ওয়ার কর্তৃক রোমাক্স লিমিটেড, তেজগাঁও শিল্প এলাকা থেকে মুদ্রিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় : খলিল ম্যানশন (৩য়, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলা), ১৪৯/এ, ডিআইটি এক্সটেনশন এভিনিউ, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত। ফোন : ৯৩৫৭৭৩০ (বার্তা), ৮৩১৫৬৪৯ (বাণিজ্যিক), ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪.
ই-মেইলঃ djanata@dhaka.net
ফোনঃ ০২৮৩১৫১১৫, ০২৮৩১৫৬৪৯ ফ্যাক্সঃ ৮৮-০২-৮৩১৪১৭৪
Copyright The Dainik Janata © 2010 Developed By : orangebd.com.